রেলপথের অগ্রগতি ও বর্তমান সরকারের লক্ষ্য

প্রকাশ : 13 Mar 2026
রেলপথের অগ্রগতি ও বর্তমান সরকারের লক্ষ্য

রেজাউল করিম সিদ্দিকী:


বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে রেলপথ এক গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবকাঠামো। নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে রেলখাতকে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার অগ্রভাগে স্থান দেওয়া হয়েছে। সেবার মানোন্নয়ন, ব্যয় যৌক্তিকীকরণ, আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন এবং আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে রেলওয়েকে একটি কার্যকর ও জনগণমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ের সংস্কার, উন্নয়ন প্রকল্প ও নীতি-উদ্যোগসমূহ রেলপথকে দেশের সমন্বিত ও সবুজ পরিবহন ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় মেরুদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।


রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য এবং সময়নিষ্ঠ সেবা নিশ্চিত করা। এই লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান সরকারের সময়ে সেবার মানোন্নয়ন, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার এবং যাত্রীবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণে বহুমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।


যাত্রীরা দিনের যেকোনো সময়ে যাতে ট্রেনের প্রকৃত অবস্থান ও সময় সহজে জানতে পারেন এবং রেলসেবা সংক্রান্ত অভিযোগ/পরামর্শ প্রদানের পাশাপাশি রেলসেবা সম্পর্কিত তথ্য জানতে পারেন সেজন্য কল সেন্টার নম্বর ১৩১ চালু করা হয়েছে। টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধ ও বিদ্যমান ই-টিকিটিংয়ের মানোন্নয়নের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। যাত্রীসেবাকে সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করতে, টিকিট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং অনিয়ম কমিয়ে আনার লক্ষ্যে শতভাগ অনলাইন টিকিটিং চালু করা হয়েছে। টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করা হয়েছে। ঢাকা-জয়দেবপুর-ঢাকা রুটে ১ জোড়া এবং ঢাকা-ভৈরববাজার-ঢাকা রুটে ১ জোড়া কমিউটার ট্রেন চালু করা হয়েছে। এসব কমিউটার ট্রেনে মেট্রোরেলের কোচের ন্যায় আসন ব্যবস্থাসহ মহিলাদের জন্য পৃথক কোচ সংযোজন করা হয়েছে। এর ফলে এসব ট্রেনে অধিক সংখ্যক যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে।


রেলপথ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কর্তনের মাধ্যমে একাধিক বড় প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ব্যয় হ্রাস করা হয়েছে। এর ফলে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে। উল্লেখযোগ্য প্রকল্পসমূহের মধ্যে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ (২য় সংশোধিত) প্রকল্পে ৬২১.৮৯ কোটি টাকা, দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার ও রামু-গুনদুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্পে ৬ হাজার ৬শ ৯৮ কোটি ৫০ লাখ, আখাউড়া-লাকসাম ডুয়েলগেজ ডাবল রেললাইন নির্মাণ ও বিদ্যমান রেললাইনকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর (২য় সংশোধিত) প্রকল্পে ৮৫৯.২০ কোটি, বাংলাদেশ রেলওয়ের রোলিং স্টক অপারেশন উন্নয়ন (রোলিং স্টক সংগ্রহ) (১ম সংশোধিত) প্রকল্পে ৩৯.১৩ কোটি, আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েলগেজ রেল সংযোগ নির্মাণ (বাংলাদেশ অংশ) প্রকল্পে ১৯১.৮৩ কোটি, খুলনা-মংলা পোর্ট রেলপথ নির্মাণ (৩য় সংশোধিত) প্রকল্পে ১৮৩.৩০ কোটি টাকা—মোট ৮,৫৯৩.৮৬ কোটি টাকা ব্যয় হ্রাস করা হয়েছে।


            রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন না করে বিনিয়োগ প্রকল্প গ্রহণের প্রবণতা থেকে সরে এসেছে। এর ফলে অপ্রয়োজনীয় ও অযৌক্তিক প্রকল্প ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। এছাড়াও, অনাড়ম্বরভাবে বিভিন্ন বৃহৎ প্রকল্পের উদ্বোধন/ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ইত্যাদি অনুষ্ঠান আয়োজন করার মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করা হয়েছে। আর্থিক ঝুঁকি বিবেচনায় সৈয়দপুরে একটি নতুন ক্যারেজ ওয়ার্কশপ নির্মাণ, পার্বতীপুর-কাউনিয়া মিটারগেজ রেললাইনকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর, খুলনা-দর্শনা জংশন সেকশনে ডাবল লাইন রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পসমূহ অনুমোদন/বাস্তবায়ন কার্যক্রম স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে। এতে Indian Line of Credit (LOC) এর আওতায় প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক ঋণের প্রয়োজন হবে না মর্মে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) কর্তৃক ২৯ জুলাই ২০২৫ তারিখে অবহিত করা হয়।


রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও নীতি সংস্কারের ফলে বাংলাদেশ রেলওয়ের (ব্যয়-আয় অনুপাত) ২.৫০ থেকে কমে ১.৮৪-এ নেমে এসেছে, যা রেলওয়ের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। বাংলাদেশ রেলওয়েকে আর্থিকভাবে টেকসইকরণের জন্য অপারেটিং রেশিও হ্রাস এবং নন-কোর আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। রুট রেশনালাইজেশন করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রায় ২৫০০ কিমি দৈর্ঘ্যের অপটিক্যাল ফাইবার লিজ প্রদান করা হয়েছে। এতে আগামী ৫ বছরে ১৩৩ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ সম্ভব হবে। খুলনা-বেনাপোল-খুলনা রুটে চলাচলকারী ৫৩/৫৪ নং বেতনা কমিউটার এবং মোংলা-বেনাপোল-মোংলা রুটে চলাচলকারী ৯৫/৯৬ নং মোংলা কমিউটার ট্রেন ও ঢাকা-জয়দেবপুর-ঢাকা রুটে তুরাগ কমিউটার ট্রেনকে বেসরকারি খাতে ইজারা প্রদান করা হয়েছে। এর ফলে এই ট্রেনগুলোর রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনাকালে ১ বছরে ৫৩/৫৪ নং বেতনা ও ৯৫/৯৬ নং মোংলা কমিউটার ট্রেনের মোট আয় ছিল ২,২৩,৩৯,৭৪১ টাকা। উক্ত ট্রেন দুটি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ন্যস্তকরণের ফলে ০১ (এক) বছরে আয় দাঁড়িয়েছে ৭,৫৬,৪৪,৫০৭.১৪ টাকা। অর্থাৎ, ট্রেন দুটি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার ফলে রেলওয়ে কর্তৃক পরিচালিত আয়ের তুলনায় মোট আয় ৫,৩৩,০৭,৭৬৬.১৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় অন্যান্য রুটের কমিউটার ট্রেনগুলোও পর্যায়ক্রমে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


অবৈধ দখলকৃত রেলভূমি উদ্ধারকল্পে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে ১১৪.০৪ একর রেলভূমি উদ্ধার করা হয়েছে এবং রেলভূমির উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কমলাপুরে মাল্টিমোডাল হাব নির্মাণের জন্য স্টেশন বিল্ডিং ও ইয়ার্ড পুনর্নির্মাণ। বিমানবন্দরে মাল্টিমোডাল হাব স্থাপন; চট্টগ্রামে গুডস পোর্ট ইয়ার্ড উন্নয়ন ও রেল সংযোগ, বে-টার্মিনাল লিংক স্থাপন, লোকোমোটিভ সংগ্রহ এবং মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে রেল সংযোগকারী অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য বিশ্ব ব্যাংকের ঋণ অর্থায়নে "গ্রীন রেলওয়ে পরিবহন প্রস্তুতিমূলক কারিগরি সহায়তা" শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়েছে। এডিবি অর্থায়নপুষ্ট একটি কারিগরি সহায়তা প্রকল্পের আওতায় ন্যাশনাল রেলওয়ে ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান প্রণয়ন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের নারায়ণগঞ্জ হতে ঢাকা হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ইলেকট্রিক ট্রাকশন (ওভারহেড ক্যাটেনারি ও সাব-স্টেশন নির্মাণসহ) প্রবর্তনের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য বর্তমানে প্রচলিত ‘The Railways Act, 1890’-কে ‘বাংলাদেশ রেলওয়ে আইন, ২০২৫’ নামে হালনাগাদ করে বাংলা ভাষায় প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনের খসড়া বর্তমানে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


বাংলাদেশ রেলওয়ের হাসপাতালসমূহের স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ২১ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের আলোকে যৌথ ব্যবস্থাপনায় হাসপাতালগুলো পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম রেলওয়ে হাসপাতাল ও বক্ষব্যাধি হাসপাতাল একীভূত করে চট্টগ্রাম রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতাল এবং রাজশাহী রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতাল বর্তমানে যৌথ ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের অবশিষ্ট হাসপাতালসমূহকে পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের যৌথ ব্যবস্থাপনায় এনে সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ এবং ১৮২টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে।


বাংলাদেশ রেলওয়ের রোলিং স্টক অপারেশন উন্নয়ন (রোলিং স্টক সংগ্রহ) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৪০টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ, ৭৫টি মিটারগেজ লাগেজ ভ্যান, ৫০টি ব্রডগেজ লাগেজ ভ্যান, ৫৮০টি মিটারগেজ ওয়াগন এবং ৪২০টি ব্রডগেজ ওয়াগন সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগ্রহের মাধ্যমে রেলওয়ের অপারেশনাল সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন ৭২ কিলোমিটার দ্বিতীয় ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ; বিদ্যমান ৭২ কিলোমিটার মিটারগেজ রেললাইনকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর; লুপ ও সাইডিংসহ মোট ১৮৪.৬০ কিলোমিটার রেলপথ উন্নয়ন ও কম্পিউটারভিত্তিক আধুনিক সিগন্যালিং সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে রেলপথের মানোন্নয়ন ও সেকশনাল ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি করা হয়েছে। কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর উপর রেল কাম রোড সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি একনেক কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। জয়দেবপুর হতে ঈশ্বরদী পর্যন্ত ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্পের বিশদ নক্সার জন্য জাইকার সাথে ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বগুড়া হতে শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশন পর্যন্ত নতুন ডুয়েল গেজ রেলওয়ে লাইন নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে এবং এ প্রকল্পে Asian Infrastructure Investment Bank (AIIB) এবং New Development Bank (NDB) যৌথ অর্থায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। 'লাকসাম-চিনকিআন্তানা-চট্টগ্রাম মিটারগেজ ট্র্যাক-কে ডুয়েলগেজ ডাবল ট্র্যাকে রূপান্তর' শীর্ষক প্রকল্পের পিডিপিপি অনুমোদিত হয়েছে এবং এ প্রকল্পে এডিবি অর্থায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।


বিদ্যমান হার্ডিঞ্জ ব্রিজের সমান্তরালে একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণ, আব্দুলপুর-রাজশাহী সেকশনে বিদ্যমান ব্রডগেজ লাইনের সমান্তরালে এবং আব্দুলপুর-সান্তাহার-পার্বতীপুর সেকশনে বিদ্যমান ডুয়েলগেজ লাইনের সমান্তরালে একটি নতুন ব্রডগেজ লাইন নির্মাণ, সান্তাহার বাইপাসসহ সান্তাহার-বগুড়া-কাউনিয়া-লালমনিরহাট মিটারগেজ সেকশনকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর এবং বিদ্যমান লাইনের সমান্তরালে একটি নতুন ডুয়েলগেজ/ব্রডগেজ রেল লাইন নির্মাণ, ভৈরববাজার-ময়মনসিংহ মিটারগেজ সেকশনকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর এবং বিদ্যমান লাইনের সমান্তরালে একটি নতুন ডুয়েলগেজ/ব্রডগেজ রেল লাইন নির্মাণ, নারায়ণগঞ্জ থেকে লাকসাম/কুমিল্লা পর্যন্ত কর্ডলাইন নির্মাণ, যশোর-বেনাপোল সেকশনে বিদ্যমান ব্রডগেজ লাইনের সমান্তরালে একটি ব্রডগেজ লাইন নির্মাণ এবং টঙ্গী বাইপাসসহ জামালপুর-তারাকান্দি-বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব মিটারগেজ সেকশনকে ডুয়েলগেজ/ব্রডগেজ রূপান্তরের জন্য বিশদ নক্সা প্রণয়নসহ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলমান রয়েছে।


            গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রীসভা শপথ গ্রহণ করেছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের নির্বাচনী ইশতিহারে সাশ্রয়ী ও টেকসই পরিবহন মাধ্যমগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে জাতীয় উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, সবার জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী চলাচল নিশ্চিত করা এবং একটি সমন্বিত, দক্ষ ও সবুজ পরিবহন করিডোর গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।


সাশ্রয়ী ও টেকসই পরিবহন মাধ্যমগুলোর মধ্যে নিঃসন্দেহে রেল প্রধান। সেক্ষেত্রে রেলওয়ের উন্নয়নকে সরকার প্রাধান্য দেবে তা স্বাভাবিকভাবেই ধরে নেওয়া যায়। দলটি ইতঃমধ্যে তাদের নির্বাচনী ইশতিহারে রেলকে জাতীয় পরিবহনের কেন্দ্রীয় মেরুদণ্ড হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করার ঘোষণা দিয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-পঞ্চগড়, ঢাকা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ করিডোরে বিদ্যুতায়ন ও ডাবল-লাইন নির্মাণকে জাতীয় মিশন হিসেবে নেওয়া, দেশের সকল জেলা ও প্রধান শহরসমূহকে একটি সমন্বিত রেল নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসা এবং ঢাকা ও অন্যান্য মহানগরে মনোরেল, মেট্রোরেল, বৃত্তাকার কমিউটার লাইন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করাসহ আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারে মিয়ানমার হয়ে ঢাকা-কুনমিং রেল সংযোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে তাদের নির্বাচনী ইশতিহারে উল্লেখ করা হয়েছে। 


পর্যায়ক্রমে এক ঘন্টার মধ্যে রাজধানী ঢাকাকে প্রধান আঞ্চলিক শহরগুলোর সাথে যুক্ত করার লক্ষ্যে উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক (বুলেট ট্রেন) সংযোগ গড়ে তোলা হবে বলে নির্বাচনী ইশতিহারে ঘোষণা করেছে বিএনপি। এছাড়া প্রধান প্রধান আন্তঃনগর রুটে আরও অধিক সংখ্যক এক্সপ্রেস সার্ভিস চালু করা, যাত্রী ও মালবাহী করিডোর ও নগর রেল ব্যবস্থায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব উৎসাহিত করে অবকাঠামো ও সেবার মান উন্নত করা, নিরাপত্তা, দক্ষতা ও নিয়মশৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জন্য স্মার্ট মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হবে বলেও তাদের নির্বাচনী ইশতিহারে উল্লেখ করা হয়েছে।


মেট্রোরেল ও দূরপাল্লার পরিবহনে শিক্ষার্থী, প্রতিবন্ধী ও ৬০ বছরের অধিক বয়স্কদের জন্য বিশেষ ছাড় প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করার মতো মহতী পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন তারুণ্য-নির্ভর বর্তমান সরকার শতভাগ সফলতা অর্জন করবে, আমাদের প্রত্যাশা এমনটাই।


#


-লেখক: তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা, রেলপথ মন্ত্রণালয়।


পিআইডি ফিচার

সম্পর্কিত খবর

;