ফরিদপুর-২ আসনে রিকশা মার্কার এজেন্টদের হুমকি, কেন্দ্র দখলের আশঙ্কা।

প্রকাশ : 12 Feb 2026
ফরিদপুর-২ আসনে রিকশা মার্কার এজেন্টদের হুমকি, কেন্দ্র দখলের আশঙ্কা।

অনিক রায়, ফরিদপুর অফিস: ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনে ভোটের আগের রাতে রিকশা মার্কার কেন্দ্র এজেন্টদের ওপর হামলা ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে।


১১ দলীয় জোটের প্রার্থী শাহ মো. আকরাম আলী বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৮টায় সালথা উপজেলা সদর বাজারে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ তুলে বলেন, তার কেন্দ্র এজেন্টদের পরিকল্পিতভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করতে না পারেন।


শাহ মো. আকরাম আলীর লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, “আমাদের এজেন্টদের বলা হচ্ছে—যদি তারা ভোটকেন্দ্রে যান, তাহলে তাদের বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হবে। নির্বাচনের পর এলাকায় থাকতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।”


তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষের কিছু লোক প্রকাশ্যে কেন্দ্র দখলের পরিকল্পনার কথা বলছে। "ধানের শীষ ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থীর এজেন্টকে কেন্দ্রে থাকতে দিলে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হবে,” যোগ করেন তিনি।


সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান, যিনি বলেন, “গত কয়েকদিন ধরে রিকশা মার্কার কর্মী ও সমর্থকদের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। কিছু এলাকায় তাদের বাড়িতে গিয়ে ভয় দেখানো হয়েছে, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে, মাইকিংয়ে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং রাতের অন্ধকারে হুমকি দেওয়া হয়েছে।”


তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ভোটের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো প্রার্থী বা এজেন্ট ভয়ভীতির শিকার না হন।”


শাহ মো. আকরাম আলী নির্বাচন কমিশন, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিতেও প্রস্তুত আছেন। তিনি বলেন, “আমরা চাই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন এবং কোনো পক্ষ যেন প্রভাব বিস্তার করতে না পারে।”


এদিকে, এলাকায় কয়েকজন ভোটার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নির্বাচনী উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থান নেবে এবং সব প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত হবে।


সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি বাবলুর রহমান খান বলেন, “এ বিষয়ে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, প্রার্থী এখনও লিখিত অভিযোগ দেননি। তবে উপজেলায় তিনজন ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করছেন।


প্রসঙ্গত, ফরিদপুর-২ আসনে এবারের নির্বাচনে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শামা ওবায়েদসহ একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ মুহূর্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।


ভোটের আগের রাতে এ ধরনের অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ভোটাররা আশা করছেন, সব ভয়ভীতি উপেক্ষা করে তারা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার নির্বিঘ্নে প্রয়োগ করতে পারবেন।

সম্পর্কিত খবর

;