রমজান ঘিরে ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের বহুমুখী উদ্যোগ

প্রকাশ : 20 Feb 2026
রমজান ঘিরে ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের বহুমুখী উদ্যোগ

অনিক রায়, ফরিদপুর অফিস: পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে ফরিদপুর জেলায় স্বস্তি, স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লা।

বুধবার(১৮ ফেব্রুয়ারি) রমজানের আধ্যাত্মিক পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রেখে সাধারণ মানুষের নিত্যজীবনে যেন কোনো ভোগান্তি না হয়—সে লক্ষ্যেই প্রশাসনের এ উদ্যোগ বলে জানান তিনি।


জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লা বলেন, সেহরি, ইফতার ও তারাবির সময় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট কমাতে বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন করা হবে এবং যেকোনো কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা থাকবে। রমজানের ইবাদতের সময় বিদ্যুৎ সমস্যায় মানুষ যাতে কষ্টে না পড়েন, সে বিষয়ে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।


দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজারে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনার কথাও জানান তিনি। বিশেষ করে তেল, লেবু, বেগুন ও মুরগির সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কিছুটা কম থাকায় দ্রুত যোগান বাড়াতে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি বরদাশত করা হবে না বলেও কঠোর বার্তা দেন জেলা প্রশাসক।


গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা দরে বিক্রির সিদ্ধান্তের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, যাদের ক্রয়ক্ষমতা কম তারা যাতে অল্প পরিমাণেও মাংস কিনতে পারেন—সে বিষয়ে বিক্রেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তি আসবে বলে আশা করছে প্রশাসন।


সরকারি সহায়তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর পণ্য সরবরাহও জোরদার করা হয়েছে। পৌরসভায় একটি, সদর উপজেলায় একটি এবং অন্যান্য উপজেলায় তিনটি করে ট্রাক সার্ভিস চালু থাকবে। প্রয়োজন হলে ট্রাকের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক, যাতে ন্যায্যমূল্যের পণ্য সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া যায়।


রমজান ও ঈদকে ঘিরে পোশাকের বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি রোধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিক্রেতাদের ক্রয়রশিদ সংরক্ষণে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে পণ্যের প্রকৃত মূল্য যাচাই করা সম্ভব হয় এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।


আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সর্বদা সজাগ থাকবে বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি। চুরি, ছিনতাইসহ যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে টহল কার্যক্রম জোরদার করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ বাজার ও জনসমাগমস্থলে বাড়ানো হবে নজরদারি।


এদিকে জেলার বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রশাসনের ঘোষিত পদক্ষেপে তারা আশাবাদী। এক দিনমজুর বলেন, “বাজারের দাম যদি নিয়ন্ত্রণে থাকে আর বিদ্যুৎ ঠিক থাকে, তাহলে রোজা রাখতে কষ্ট অনেকটাই কম হবে।”


সম্পর্কিত খবর

;