পঁচিশে বৈশাখে রবীন্দ্র-আলোয় নবজন্ম –
লুতুব আলি:
“চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির” – রবীন্দ্রনাথের এই অমর আহ্বানকে বুকে নিয়েই শনিবার, ৯ মে ২০২৬, বিশ্বকবির ১৬৫তম জন্মজয়ন্তীর পুণ্যলগ্নে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দিতে চলেছে ইতিহাস। কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে যখন শঙ্খধ্বনি আর রবীন্দ্রসংগীতের মূর্ছনায় আকাশ ভারী হবে, তখনই প্রথমবারের মতো গেরুয়া শিবিরের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের ইতি টেনে, ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনের নিরঙ্কুশ রায় নিয়ে বাংলার মসনদে বসতে চলেছেন নন্দীগ্রামের এই ভূমিপুত্র। এ শুধু সরকার বদল নয়, এ এক যুগাবসান – ভয়শূন্য বাংলার নতুন প্রভাত। শপথ অনুষ্ঠানে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সহ এনডিএ-শাসিত একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা উপস্থিত থাকবেন।
শুভেন্দু অধিকারীর উত্থান কোনো রূপকথা নয়, রক্ত-ঘাম-আগুনে পোড় খাওয়া লড়াইয়ের দলিল। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান সেনাপতি থেকে বিজেপির প্রধান মুখ হয়ে ওঠার পথটা কণ্টকাকীর্ণই ছিল। ২০২০-র ডিসেম্বরে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে নেমে এসেছিল কটাক্ষের ঝড়, মামলার পাহাড়, এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও। তবু থামেননি। ২০২১-এ নন্দীগ্রামে মমতাকে হারিয়ে প্রথম চমক দেন, আর ২০২৬-এ তো ইতিহাস গড়লেন – ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম, দুই দুর্গেই বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে ধরাশায়ী করে। ৮ মে বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপি পরিষদীয় দলের বৈঠকে যখন তাঁর নাম প্রস্তাব হয়, তখন আটটি প্রস্তাবের আটটিতেই ছিল একটিই নাম – শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেন, “দ্বিতীয় নামের জন্য সময় দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু আর কোনো নাম আসেনি। সর্বসম্মতিক্রমে শুভেন্দু অধিকারীই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী”। এভাবেই বন্ধুর পথ পেরিয়ে, অগ্নিপরীক্ষা দিয়ে রাজপথে উঠে এলেন বাংলার নতুন সারথি।
এই জয় শুধু শুভেন্দু অধিকারীর একার নয়। এই বিজয়ের কারিগর রাজ্যের প্রতিটি বুথের কর্মী, আর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিকের মতো সেনাপতিরা। আর দিল্লি থেকে রণকৌশল সাজিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ। ভোটের ফল বেরোনোর পরই মোদি বলেছিলেন, তিনি আবার বাংলায় আসবেন শপথ অনুষ্ঠানে। কথা রেখেছেন। আগামীকাল ব্রিগেডের মঞ্চে তিনি তো থাকবেনই, সঙ্গে থাকবেন অমিত শাহ, জে পি নাড্ডা, রাজনাথ সিংহ এবং এনডিএ-শাসিত ২০ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। ২০৭ আসনের এই ভূমিধস জয় প্রমাণ করে, কেন্দ্রের সমর্থন আর রাজ্য নেতৃত্বের মাটি-কামড়ানো লড়াই যখন এক হয়, তখন ১৫ বছরের দুর্গও ধূলিসাৎ হয়।
রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিনটিকে শপথের জন্য বেছে নেওয়ার পিছনে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বার্তা। রবীন্দ্রনাথ শুধু কবি নন, বাঙালির আত্মপরিচয়। তাঁর জন্মদিনে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু মানে স্পষ্ট ঘোষণা – এই সরকার বাংলা সংস্কৃতি, মনন ও জাতীয়তাবাদকে সামনে রেখেই চলবে। প্রধানমন্ত্রী মোদি বারবার বলেছেন, বিজেপি এমন বাংলা গড়তে চায় “যেখানে মনের মধ্যে ভয় নেই এবং মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো যায়”। এ তো কবিগুরুরই স্বপ্ন। আগামীকালের শপথ সেই স্বপ্নপূরণের প্রথম পদক্ষেপ। ব্রিগেডের মাঠে যখন “আগুনের পরশমণি” বাজবে, তখন বোঝা যাবে – এ শুধু প্রশাসনিক বদল নয়, এ এক সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ।
বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর রাজ্যের কিছু প্রান্তে বিচ্ছিন্ন অশান্তির ঘটনা ঘটেছে। তাই নতুন সরকারের প্রথম অঙ্গীকার – আইনের শাসন। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের স্পষ্ট কথা, “আমরা তৃণমূলের মতো শাসন করব না। কোনো ধরনের হিংসা বরদাস্ত করা হবে না”। অমিত শাহেরও হুঁশিয়ারি, দেশের আর কোথাও ভোট-পরবর্তী হিংসার এমন নজির নেই। শপথ নিতে চলা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, দুর্নীতি, নারী নির্যাতন, নিয়োগ কেলেঙ্কারি – সব ফাইল খোলা হবে। তদন্ত হবে, বিচার হবে, কেউ রেহাই পাবে না। কিন্তু কড়া প্রশাসনের পাশাপাশি থাকবে মমত্বের প্রলেপও। কারণ রবীন্দ্রনাথের বাংলা মানে বিভেদের বাংলা নয়, মিলনের বাংলা। তাই নতুন সরকারের শপথ – গ্রাম থেকে শহর, সংখ্যাগুরু থেকে সংখ্যালঘু – সবার জন্য সম্প্রীতি, সবার জন্য সুরক্ষা। অনুপ্রবেশ ও গরু পাচার রুখবে সরকার, অথচ বাংলার বহুত্ববাদী উৎসব, কৃষ্টি, পার্বণ – দুর্গাপুজো থেকে ঈদ, সবই থাকবে অবারিত। কবিগুরুই তো শিখিয়েছেন, “নানা ভাষা, নানা মত, নানা পরিধান” নিয়েই মহাভারতের মহামিলন, আর বাংলা তার শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞাপন।
শপথ নিতে চলা শুভেন্দু অধিকারীর কণ্ঠে আত্মবিশ্বাস ঝরে পড়ছে, “বিজেপি বাংলায় ১০০ বছর ক্ষমতায় থাকবে”। এ অহংকার নয়, ১৫ বছরের অপশাসন দেখা জনতার রায়ের প্রতি দায়বদ্ধতা। মানুষ বদল চেয়েছে। মানুষ চেয়েছে এমন বাংলা, যেখানে চাকরি বিক্রি হয় না, যেখানে সিন্ডিকেট-রাজ চলে না, যেখানে মা-বোনেরা নিশ্চিন্তে রাস্তায় বেরোতে পারে। আগামীকাল পঁচিশে বৈশাখে সেই নতুন বাংলারই বোধন। ব্রিগেডের আকাশে যখন নতুন দিনের গেরুয়া পতাকা উড়বে, তখন রবীন্দ্রনাথের গান মিশে যাবে বিবেকানন্দের বজ্রনির্ঘোষে, বঙ্কিমের বন্দেমাতরম মিলে যাবে নেতাজির দিল্লি চলো-র হুঙ্কারে।
ইতিহাসের পাতা ওল্টাচ্ছে। কবিগুরুর জন্মদিনেই জন্ম নিতে চলেছে নতুন পশ্চিমবঙ্গ – ভয়শূন্য, দুর্নীতিমুক্ত, গর্বিত বাংলা। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে, মোদি-শাহের সহযোগিতায়, বাংলার মাটির সন্তানদের নিয়ে শুরু হতে চলেছে সেই মহাযাত্রা।
আবুল বাশার মিরাজ:নদী আমাদের সভ্যতা, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। “নদীমাতৃক বাংলাদেশ” নামটি কেবল কাব্যিক নয়, বাস্তবেরও প্রতিচ্ছবি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এই নদীগুলোই আজ সবচেয়ে বেশি বিপ ...
এ এম ইমদাদুল ইসলাম:রাত তখন অনেকটা গভীর। ঢাকার রাস্তাগুলো ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়ে আসছে, কিন্তু গুলিস্থান বাসস্ট্যান্ডে এখনো মানুষের কোলাহল রয়ে গেছে। সেই ভিড়ের মাঝেই ছোট্ট রাকিব দৌড়ে বেড়াচ্ছে কখনো যাত্রীকে ...
মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন:বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন সময় নানা ধরনের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্পট ...
মো. বেলায়েত হোসেন:বোরো ধানে পাক ধরেছে। ঘরে তুলতে সমূহ আয়োজন চারদিকে। ব্যস্ত হাওড়ের প্রতিটি গ্রাম। এবছরের ১৮ এপ্রিল শনিবার, ধান কাটায় মগ্ন কৃষক। আকাশের কালো মেঘের দিকে তাকানোর সময় নেই। ঠিক সেসময় শুধুমা ...
সব মন্তব্য
No Comments