ফরিদপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় নৃত্য উৎসব

প্রকাশ : 09 May 2026
ফরিদপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় নৃত্য উৎসব

অনিক রায়, ফরিদপুর অফিস: ফরিদপুরে বাংলাদেশ নৃত্য শিল্পী সংস্থার বৃহত্তর ফরিদপুর জেলা কমিটির উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে “জাতীয় নৃত্য উৎসব ২০২৬"। নৃত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে এ আয়োজন নতুন প্রজন্মকে উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 


শুক্রবার (৮মে) সন্ধ্যায় ফরিদপুর জেলা পরিষদের কবি জসীমউদ্দীন হলে অনুষ্ঠিত এ উৎসব ঘিরে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। নৃত্য, সাহিত্য ও সংস্কৃতির সমন্বয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন জেলার সংস্কৃতিমনা মানুষ, শিল্পী, সাহিত্যিক, শিক্ষক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার দর্শনার্থীরা।


শুক্রবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মিন্টু বিশ্বাস। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ। অনুষ্ঠানের শুরুতেই অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ ফরিদপুরের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন, বিশিষ্ট রবীন্দ্র গবেষক প্রফেসর মো. আলতাফ হোসেন, ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট সাহিত্যিক-সাংবাদিক মফিজ ইমাম মিলন, বাংলাদেশ নৃত্য শিল্পী সংস্থার বৃহত্তর ফরিদপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. বেলায়েত হোসেন এবং নৃত্যশিক্ষক নমিতা কুন্ডুসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। এ সময় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।


আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে নতুন প্রজন্মকে সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে এগিয়ে নিতে নৃত্য, সংগীত ও সাহিত্যচর্চার বিকল্প নেই। তারা আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য ও দর্শন বাঙালির সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে এবং তাঁর সৃষ্টিকর্ম আজও মানুষের হৃদয়ে অনুপ্রেরণা জোগায়। বক্তারা সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিকাশে সরকারের পাশাপাশি সমাজের সচেতন মানুষদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।


বক্তব্যে প্রধান অতিথি চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ বলেন, “সংস্কৃতি একটি জাতির আত্মপরিচয় বহন করে। নতুন প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে সম্পৃক্ত করতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।” তিনি এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।


সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মিন্টু বিশ্বাস বলেন, “নৃত্য শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে পারলে তারা মানবিক ও সৃজনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।”


আলোচনা পর্ব শেষে ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন শিশু ও কিশোর শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ নৃত্য পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। রবীন্দ্রসংগীত, লোকজ সংস্কৃতি ও দেশাত্মবোধক গানের সঙ্গে পরিবেশিত নৃত্য দর্শকদের মুগ্ধ করে। বর্ণিল পোশাক ও চমৎকার পরিবেশনায় পুরো মিলনায়তনে সৃষ্টি হয় প্রাণবন্ত পরিবেশ।


অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত দর্শকরা এ ধরনের আয়োজনকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উল্লেখ করে ভবিষ্যতেও নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনের দাবি জানান। উৎসবটি ঘিরে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কোন ক্যাটাগরি

সম্পর্কিত খবর

;