ব্রিকস সম্মেলনের আগে বেইজিংয়ে অজিত দোভাল, সীমান্ত নিয়ে ওয়াং ই’র সঙ্গে ২৫তম বৈঠক আজ

প্রকাশ : 25 Aug 2026
ব্রিকস সম্মেলনের আগে বেইজিংয়ে অজিত দোভাল, সীমান্ত নিয়ে ওয়াং ই’র সঙ্গে ২৫তম বৈঠক আজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হিমালয় সীমান্ত নিয়ে আলোচনার জন্য ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল সোমবার দুপুরের পর দুই দিনের সফরে বেইজিং পৌঁছেছেন। আগামী মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আগে তার এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সীমান্ত বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দোভাল মঙ্গলবার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন।


ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, এটি হবে দুই দেশের মধ্যে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের ২৫তম বৈঠক। ২০০৩ সালে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধের সামগ্রিক সমাধানের জন্য। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওয়াং ইয়ের আমন্ত্রণে ভারতের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দোভাল বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন। তিনি চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেংয়ের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। 


বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই বৈঠক এমন সময়ে হচ্ছে যখন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আগামী মাসে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফরের সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শি জিনপিং প্রায় ৪০০ সদস্যের একটি বড় প্রতিনিধিদল নিয়ে নয়াদিল্লিতে আসতে পারেন, যা সাত বছরের মধ্যে তার প্রথম ভারত সফর হবে। ভারতীয় সূত্রের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানায়, চীনা কর্মকর্তারা ইতিমধ্যেই হোটেল এবং নিরাপত্তা প্রোটোকল চূড়ান্ত করতে ব্যস্ত। ভারত আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ব্রিকস সম্মেলনের আয়োজক। 


সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উভয় পক্ষই ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। সিএনবিসি টিভি১৮ জানিয়েছে, দোভাল তার প্রারম্ভিক বক্তব্যে বলেছেন, সীমান্ত শান্ত রয়েছে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। তিনি বলেন, বর্ডার শান্ত রয়েছে, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় আছে, আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পৃক্ততা আরও substantial হয়েছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, ভারত ও চীনের উচিত কৌশলগত যোগাযোগের মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা বাড়ানো এবং সীমান্তের নির্দিষ্ট বিষয়গুলো সঠিকভাবে নিষ্পত্তি করা। 


প্রসঙ্গত, দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যার বেশিরভাগই অনির্ধারিত এবং বিরোধপূর্ণ। ২০২০ সালের লাদাখের গালওয়ান সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় এবং ৪ জন চীনা সেনা নিহত হওয়ার পর সম্পর্কে তীব্র অবনতি ঘটে। চার বছরের সামরিক অচলাবস্থার পর ২০২৪ সালের অক্টোবরে সেনা প্রত্যাহার চুক্তি হয়। এরপর থেকেই সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। 


চলতি মাসের শুরুতে অরুণাচল প্রদেশে ভারত ও চীনের টহলদলের মুখোমুখি হওয়ার খবর প্রকাশিত হলেও ভারত সরকার তা প্রত্যাখ্যান করেছে। চীন অরুণাচলকে দক্ষিণ তিব্বত বলে দাবি করে, যদিও ভারত এটিকে নিজের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করে। এর মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল এবং নাথুলা সীমান্ত দিয়ে বাণিজ্য পুনরায় চালু হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দোভাল-ওয়াং ইয়ের এই বৈঠক ব্রিকস সম্মেলনের আগে আস্থা তৈরির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে এবং শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য সফরের পথ সুগম করবে।


সম্পর্কিত খবর

;