জাকসু নির্বাচন: ভিপি স্বতন্ত্র, জিএস ও এজিএসসহ সংখ্যাগরিষ্ঠ পদে ছাত্র শিবিরের জয়

প্রকাশ : 13 Sep 2025
জাকসু নির্বাচন: ভিপি স্বতন্ত্র, জিএস ও এজিএসসহ সংখ্যাগরিষ্ঠ পদে ছাত্র শিবিরের জয়


বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ -ডাকসু'র পরে এবার জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনেও ছাত্র শিবির সংখ্যাগরিষ্ঠ পদে জয় পেয়েছে  । 

নির্বাচনের দুই দিন পর আজ শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন।

জাকসু নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণায় ভিপি স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুর রশিদ জিতু, জিএস ছাত্র শিবিরের মাজহারুল ইসলাম ও এজিএস (নারী) আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা ও এজিএস (পুরুষ) ফেরদৌস আল হাসান পদে বিজয়ী হয়েছেন। 

৩,৩৩৪ ভোট পেয়ে ভিপি পদে বিজয়ী হয়েছে আবদুর রশিদ জিতু। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আরিফ উল্লাহ  পেয়েছেন ২,৩৭৯ ভোট। ৩,৯৩০ ভোট পেয়ে জিএস পদে বিজয়ী হয়েছে শিবিরের মাজহারুল ইসলাম । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিয়াম পেয়েছেন ১, ২৩৮ ভোট। ৩, ৪০২ ভোট পেয়ে এজিএস (নারী) পদে বিজয়ী হয়েছে আয়শা সিদ্দিকী মেঘলা। এবং ২, ৩৫৮ ভোট পেয়ে এজিএস (পুরুষ) পদে বিজয়ী হয়েছে ফেরদৌস আল হাসান।


দীর্ঘ ৩৩ বছর পর বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন সকাল ৯টা থেকে বিরতিহীনভাবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে।

এবারের নির্বাচনে মোট ৮টি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

বাংলাদেশ শিবির সমর্থিত সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট,  গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) সমর্থিত প্যানেল, জাতীয়তাবাদী ছাত্র দল সমর্থিত প্যানেল, বামপন্থী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সমন্বয়ে সম্প্রীতির ঐক্য, ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফ্রন্ট (আংশিক) সমর্থিত সংশপ্ত পর্ষদ প্যানেল এবং ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফ্রন্ট (একাংশ) সমর্থিত আংশিক প্যানেল । এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ও স্বতন্ত্র মিশ্র প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বীতায় ছিলেন।


নির্বাচনে পাঁচ প্যানেল নির্বাচন বর্জন করেছেন। তারা ফের নির্বাচন কমিশন গঠন করে নতুন তফসিল ঘোষণাসহ পুননির্বাচনের দাবিও জানিয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সপোর্ট চত্বরে চারটি প্যানেলের পক্ষে ভোট বর্জনের ঘােষণা দেন শরণ এহসান।


এরআগে বিকালে ভোট বর্জন করে জাতীয়তাবাদী ছাত্র দল সমর্থিত প্যানেল। তারা ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার ঘন্টা খানেক আগে এক সংবাদ সম্মেলনে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। এসময় নির্বাচনে প্রশাসনে অসঙ্গতি ও জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধরেন  ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী শেখ সাদী হাসান।

পরবর্তীতে সন্ধ্যায় সম্প্রীতির ঐক্য, সংশপ্তক পর্ষদ, অঙ্গীকার পরিষদ ছাত্র ফ্রন্টের একাংশের প্যালেন ভোট বয়কটের ঘোষণা দেয়। ৫ স্বতন্ত্র প্রার্থীও ভোট বর্জন করেন।

এদিকে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিএনপিপন্থী ৩ শিক্ষক জাকসু নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো ঘোষণা দেন। 

তারা অভিযোগ করে বলেন, জামায়াতে ইসলামীর কোম্পানির পেপার দিয়ে আজকের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে করে ছাত্র শিবির ব্যালট পেপার সংগ্রহ করে কারচুপির মাধ্যমে জয়ী হওয়ার জন্য আগে থেকেই নীলনকশা করে রেখেছে।


শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) জাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্য ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা পদত্যাগ করেছে। এরআগে গতকাল শুক্রবার রাতে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের কথা জানান নিভৃাচন কমিশনের সদস্য ড. অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার। জাসকু নির্বাচন চলাকালে আসা অভিযোগগুরোর সুরাহা না করেই ভোট গণনা প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ায় পদত্যাগ করেন তিনি।



ছাত্র দলের ভিপি প্রার্থী বলেন, আমরা শুনতে পাচ্ছি জামায়াত-শিবিরের অনেক নেতাকর্মী ক্যাম্পসের আশেপাশে জড়ো হয়েছেন। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভোট দেওয়ার আকাঙ্খা হারাবেন। গেটের বাহিরে জামায়াতের লোক কি কাজ করে, আমরা বুঝতে পারছি না।


নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবার মোট ভোটার ১১ হাজার ৯১৯ জন। এর মধ্যে ৬ হাজার ১০২ জন ছাত্র ও ৫ হাজার ৮১৭ জন ছাত্রী ভোটার। 

ভোট অনুষ্ঠিত হয় ২১টি কেন্দ্রের  ২২৪টি কক্ষে ভােট গ্রহণ করা হয়।  মোট  ১১,৮৯৭ জন ভোটের ভোট কাস্টিং হয়েছে ৭,৯৩৪ জন।

এর মধ্যে আল বেরুনী হল মোট ভোট ২১১, কাস্ট হয়েছে ১২৫ জন। আ ফ ম কামাল উদ্দিন হল মোট ভোটার ৩৪১, কাস্ট হয়েছে ২১৬ জন।  মীর মোশাররফ হোসেন হলে মোট ভোটার ৪৮৭, কাসট হয়েছে ৩১০ জন।  নওয়াব ফয়জুন্নেসা হল মোট ভােটার ২৮৭, কাস্ট হয়েছে ১৩৮ জন। শহীদ সালাম-বরকত হলে মোট ভোটার ৩০৩, কাস্ট হয়েছে ২২৪ জন। মওলানা ভাসানী হল মোট ভোটার ৫২১, কাস্ট হয়েছে ৩৮৪ জন। জাহানারা ইমাম হল মোট ভোট ৪০২, কাস্ট হয়েছে ২৪৭ জন। প্রীলতা হলে মোট ভোট ৪০২, কাস্ট হয়েছে ২৫০ জন। বেগম খালেদা জিয়া হল মোট ভোটার ৪১৭, কাস্ট হয়েছে ২৪৯ জন। ১০ নং ছাত্র হল মোট ভোটার ৫৪১, কাস্ট হয়েছে ৩৮১ জন। শহীদ রফিক-জব্বার হলে মোট ভোটার ৬৫৬, কাস্ট হয়েছে ৪৭০ জন। বেগম সুফিয়া কামাল হল মোট ভোটার ৪৬০, কাস্ট হয়েছে ২৪৬ জন। ১৩ নং ছাত্রী হল মোট ভোটার ৫৩২, কাস্ট হয়েছে ২৯২ জন। ১৪ নং ছাত্রী হলে মোট ভোটার ৫৬৭৭, কাস্ট হয়েছে ৩৫০ জন।  বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলে মোট ভোটার ৩৫৮, কাস্ট হয়েছে ২৬১ জন। রোকেয়া হলে মোট ভোটার  ৯৫৭ , কাস্ট হয়েছে ৬৮০ জন।  ফজিলাতুন্নেছা হলে মোট ভোটার ৮০৯, কাস্ট হয়েছে ৪৮৯ জন।  বীরপ্রতীক তারামন বিবি হলে মোট ভোটার ৯৮৩, কাস্ট হয়েছে ৫৯৫ জন। ১৯ নং ছাত্র হলে মোট ভোটার ৭৪৬, কাস্ট হয়েছে ৫৬০ জন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে মোট ভোটার ৯৯৩, কাস্ট হয়েছে ৭১৫ জন। এবং  শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ হলে মোট ভোটার  ৯১৪, কাস্ট হয়েছে ৭৫২ ভোট।


ভোট পরিচালনায় ছিলেন ২১ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা, ৬৭ জন পোলিং অফিসার (শিক্ষক) এবং ৬৭ জন সহকারী পোলিং কর্মকর্তা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসে মোতায়েন ছিল ১ হাজার ৫০০ পুলিশ, ৭ প্লাটুন বিজিবি, ৫ প্লাটুন আনসার এবং প্রায় ৮০টি সিসিটিভি ক্যামেরা ।

কেন্দ্রীয় সংসদে ২৫টি পদে প্রতিদ্বন্দীতা করছেন ১৭৯ জন প্রার্থী। এর মধ্যে পুরুষ ১৩২ জন এবং নারী ৪৬ জন। একজন ভোটার কেন্দ্রীয় ভোটার কেন্দ্রীয় সংসদ ও হল সংসদ মিলিয়ে ৪৪টি পদে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।


উল্লেখ্য, সর্বশেষ ১৯৯২ সালে জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ ৩৩ বছর পর আবারও শিক্ষার্থী ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধিত্বশীল নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।


সম্পর্কিত খবর

;