হরমুজ ঘিরে উত্তেজনা

ইরানের বন্দর লক্ষ্য করে মার্কিন অবরোধ, পাল্টা হুঁশিয়ারি তেহরানের

প্রকাশ : 13 Apr 2026
ইরানের বন্দর লক্ষ্য করে মার্কিন অবরোধ, পাল্টা হুঁশিয়ারি তেহরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপসাগরীয় অঞ্চলের বন্দরগুলোকে লক্ষ্য করে আনুষ্ঠানিক সামুদ্রিক অবরোধ কার্যকর করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক কমান্ড।


মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১৩ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে এই অবরোধ শুরু হয়। তারা জানিয়েছে, ইরান-এর বন্দরমুখী বা সেখান থেকে বের হওয়া যেকোনো দেশের পতাকাবাহী জাহাজ এই অবরোধের আওতায় পড়বে। প্রয়োজনে এসব জাহাজকে থামানো, গতিপথ পরিবর্তনে বাধ্য করা বা জব্দ করা হতে পারে।


তবে মার্কিন পক্ষ স্পষ্ট করেছে, ইরান ছাড়া উপসাগরীয় অন্য দেশের বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজ এই নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হবে না।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X-এ দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালী এবং ওমান উপসাগর সংলগ্ন আরব সাগর এলাকায় অবস্থানরত জাহাজগুলোর ওপর এই অবরোধ কার্যকর করা হবে।


অন্যদিকে, এই পদক্ষেপকে কঠোর ভাষায় নাকচ করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। বাহিনীটির এক মুখপাত্র সতর্ক করে বলেছেন, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের কোনো বন্দরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে পুরো অঞ্চলের বন্দরই ঝুঁকিতে পড়বে।


ইরান এই অবরোধকে ‘অবৈধ’ এবং ‘সামুদ্রিক দস্যুতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।


এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। দেশটির দাবি, তাদের শত্রুদের কোনো জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ রুট ব্যবহার করতে পারবে না।


বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের দিক থেকে হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সম্পর্কিত খবর

;