বরিশালে ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশ

গণভোট ব্যর্থ হলে সরকার ব্যর্থ হবে: আমীরে জামায়াত

প্রকাশ : 19 Jul 2026
গণভোট ব্যর্থ হলে সরকার ব্যর্থ হবে: আমীরে জামায়াত

বরিশাল অফিস: গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে বরিশালে ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “গণভোটে জনগণ প্রায় ৭০ ভাগ রায় দিয়েছে। গণভোট না থাকলে এই সরকারও মানা হবে না। গণভোটকে ব্যর্থ করে দিলে আপনাদের ব্যর্থ করে দেওয়া হবে।”


শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ বিকেলে বরিশালের হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “যারা গণভোটের ভোট মানে না, তারা গণতন্ত্র মানে না, এরা গণতন্ত্রের শত্রু। বৈষম্যের জন্য জুলাই হয়নি, বৈষম্যের কবর রচনার জন্য জুলাই হয়েছিল। সময় থাকতে সচেতন হন, মানুষের ম্যান্ডেটের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করুন।”


তিনি আরও বলেন, ২০০৯ থেকে ২৪ সাল পর্যন্ত মানুষ জীবন দিয়েছে, ফ্যাসিবাদের কাছে মাথানত করেনি। “আপনারা ডামি ফ্যাসিবাদ হতে পারবেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ হতে পারবেন না। সংবিধান সংশোধন কমিটি অবৈধ। কোনো ভাঁওতাবাজি করলে জাতি ছেড়ে কথা বলবে না।” চব্বিশকে অবহেলা না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “চব্বিশের বীরদের রাষ্ট্রীয় সম্মানে সম্মানিত করতে হবে। জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে পরিবর্তন করা হলে আমরা আবার গর্জন করব।”


দ্রব্যমূল্য, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও ট্যাক্স বৃদ্ধির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “দ্রব্যমূল্য দ্বিগুণ হয়েছে। গণভোটের রায় না মানলে ঢাকার মহাসমাবেশের জন্য প্রস্তুত থাকুন।” ভোলায় সেতু ও বরিশালে রেললাইনের দাবিও তোলেন তিনি।


সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, “গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদ ও সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হব।” এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, “আওয়ামী লীগের ফেরার সুযোগ নেই। বিএনপি তাদের পতন থেকে শিক্ষা নেয়নি।”


অন্যান্য বক্তারা সরকার গঠিত সংবিধান সংশোধন কমিটিকে ‘খেলনা কমিটি’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে অবমাননার বিরুদ্ধে আইনের দাবি জানান।


সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল। সঞ্চালনা করেন জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর ও ফখরুদ্দিন খান রাজী। আরও বক্তব্য রাখেন ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, ডা. মাহমুদা আলম মিতু এমপি, অধ্যাপক আবদুল জব্বারসহ ১১ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

সম্পর্কিত খবর

;