রাজ্যসভায় চার নম্বর উইকেট পড়ল তৃণমূলের

ইস্তফা দিয়েই ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠক কোয়েলের

প্রকাশ : 17 Jul 2026
ইস্তফা দিয়েই ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠক কোয়েলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাজ্যসভায় পরপর উইকেট পতনে আরও চাপে পড়ল তৃণমূল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণণের কাছে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিলেন অভিনেত্রী-সাংসদ কোয়েল মল্লিক ওরফে রুক্মিণী মল্লিক। এর ফলে রাজ্যসভায় তৃণমূলের শক্তি ১৩ থেকে কমে দাঁড়াল ৯-এ। তিনিই চতুর্থ তৃণমূল সাংসদ যিনি গত কয়েক সপ্তাহে উচ্চকক্ষ থেকে ইস্তফা দিলেন।


পদত্যাগের পরপরই দিল্লিতে কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদবের মোতিলাল নেহরু মার্গের সরকারি বাসভবনে যান কোয়েল। সেখানেই দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন দুজনে। এরপর থেকেই জল্পনা তুঙ্গে—তিনিও কি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন? যদিও কোয়েল এখনও নিজের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে মুখ খোলেননি।


কোয়েলের ইস্তফার আগে রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশচিক বরাইক। তাঁরা তিনজনই পরে বিজেপিতে যোগ দিয়ে নিজেদের ছেড়ে আসা আসনেই বিজেপির টিকিটে উপনির্বাচনের মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। দলত্যাগ-বিরোধী আইনের ফাঁক গলে আলাদা গোষ্ঠী করা কঠিন হওয়ায় তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদরা একে একে ইস্তফার পথই বেছে নিচ্ছেন বলে রাজনৈতিক মহলের মত।


চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তৃণমূলের টিকিটে রাজ্যসভায় মনোনীত হন কোয়েল মল্লিক। সঙ্গে ছিলেন প্রাক্তন ডিজিপি রাজীব কুমার, মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় ও আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। এপ্রিলে শপথ নেওয়ার সময় কোয়েল বলেছিলেন, “মানুষের সেবা করার সুযোগ পেয়ে গর্বিত।” কিন্তু মাত্র তিন মাসের মাথায় ইস্তফা দিলেন তিনি। সূত্রের দাবি, বিদেশে থাকায় তাঁর পদত্যাগ পিছিয়ে যায়, যদিও বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা অনেক আগেই সারা ছিল।


কোয়েলের ইস্তফার পর ফেসবুক লাইভে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যাঁরা বিজেপি, পুলিশ, ইডি-সিবিআইয়ের চাপে দল ছাড়তে চান, ২১ জুলাই শহিদ দিবসের আগেই চলে যান। দলকে কালিমালিপ্ত করবেন না। আপনারা চলে গেলেও দল দুর্বল হবে না।” মমতা জানান, কোয়েল আগেই ইমেলে ইস্তফার কথা জানিয়েছিলেন।


পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূলে ভাঙন শুরু হয়েছে। লোকসভায় ইতিমধ্যে ২০ জন সাংসদ আলাদা বসার আবেদন করেছেন। রাজ্যসভায় বাংলার ১৬টি আসনের মধ্যে বিজেপির দখলে ছিল ৩টি। তৃণমূলের চার সাংসদ ইস্তফা দেওয়ায় সেই আসনগুলিতে উপনির্বাচন হলে বিজেপির জয়ের সম্ভাবনাই বেশি। 


সম্পর্কিত খবর

;