৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি

শ্রমিক বিক্ষোভ ঠেকাতে মাঠে নেমেছেন বিএনপি

প্রকাশ : 02 Nov 2026
শ্রমিক বিক্ষোভ ঠেকাতে মাঠে নেমেছেন বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার: ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে টানা কয়েক দিনের শ্রমিক আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল। নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের পরও থামেনি শ্রমিকদের বিক্ষোভ।


সোমবার ২ নভেম্বর সকাল থেকে কোনাবাড়ী, সফিপুর, মৌচাক ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে মহাসড়কের ওইসব অংশে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট ও চরম ভোগান্তি।


পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্পাঞ্চলে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। সোমবার সকালে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূরুল করিম ভূঁইয়া এবং জেলা প্রশাসকের মিডিয়া সেলের সহকারী কমিশনার আরিফ হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।


এদিকে বিক্ষোভ চলাকালে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আন্দোলনের জের ধরে কালিয়াকৈরের মৌচাক, সফিপুর ও চন্দ্রা-পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।


এরই ধারাবাহিকতায় গাজীপুরের নাওজোর এলাকায় পুলিশের তিনটি গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। দুপুর ১২টার দিকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশের একাধিক গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় বিজিবির এক সদস্যও আহত হয়েছেন।


একই এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সময় টেলিভিশনের প্রতিবেদক ও ক্যামেরাপারসনের ওপর হামলা এবং তাদের ক্যামেরা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় এসএ টিভির এক ক্যামেরাপারসন পায়ে আঘাত পেয়েছেন।


অন্যদিকে শ্রমিক বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করতে মাঠে নেমেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।


সোমবার দুপুরে গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকারের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী কোনাবাড়ী এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নেন। এছাড়া মহানগরীর ভোগড়া বাইপাস থেকে নাওজোর পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা গেছে। তারা দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থান করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেন।


শ্রমিক অসন্তোষের কারণে সোমবার সকাল ৮টা থেকে কোনাবাড়ী, সফিপুর, মৌচাক ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার বিভিন্ন কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলন, মহাসড়ক অবরোধ, যানবাহনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।



সম্পর্কিত খবর

;