সাংবাদিকসহ দলীয় কার্যালয় থেকে জাসদের তিন শতাধিক নেতাকর্মী আটক

প্রকাশ : 26 Sep 2026
সাংবাদিকসহ দলীয় কার্যালয় থেকে জাসদের তিন শতাধিক নেতাকর্মী আটক

স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে সাংবাদিকসহ তিন শতাধিক নেতাকর্মীকে আটকের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তানে জিপিও মোড়ে অবস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।


জাসদের দফতর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজকের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভা ছিল পূর্ব নির্ধারিত। ডিএমপি কমিশনার, মতিঝিল জোনের ডিসি এবং পল্টন থানার ওসিকে অবগত করেই সভার আয়োজন করা হয়েছিল। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাসদ নিষিদ্ধ দল নয় এবং জাসদের কার্যক্রমের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। এই প্রতিনিধি সভায় অংশগ্রহণকারী সবাই চিহ্নিত ও পরিচিত জাসদের নেতা-সদস্য। সভাটি জাসদের একান্ত নিজস্ব সাংগঠনিক কার্যক্রম ছিল।


বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সভায় কার্যকরী সভাপতি রবিউল আলম, সহ-সভাপতি মীর হোসেন আক্তার, শফিউদ্দিন মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শওকত রায়হান, নঈমুল আহসান জুয়েল, মোহাম্মদ মহসীনসহ প্রায় ৫০০ জন বিভিন্ন স্তরের নেতা উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে ৩০ জন নারী ছিলেন। অভিযোগ করা হয়, যুবদলের প্রায় ৫০০ জন নেতাকর্মী পুলিশের উপস্থিতিতেই কার্যালয়ে অনুপ্রবেশ করে মব সৃষ্টি ও শারীরিক আঘাত করেন এবং পরবর্তীতে পুলিশ পুরো কার্যালয় ঘেরাও করে উপস্থিত সকলকে গ্রেফতার করে পল্টন, শাহজাহানপুরসহ বিভিন্ন থানায় নিয়ে যায়। কয়েকটি গণমাধ্যমে জাসদের সভার আড়ালে আওয়ামী লীগের সভা হচ্ছে বলে যে রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলেও বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়।


অপরদিকে পুলিশের ভাষ্য ভিন্ন। ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. হারুন অর রশিদ শনিবার সন্ধ্যায় জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে সাংবাদিকদের বলেন, জাসদ কার্যালয়ে জড়ো হওয়া আনুমানিক ২৮০ থেকে ৩০০ জনকে থানায় নিয়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তার দাবি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা কোনো উদ্দেশ্যে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন এমন সংবাদ পেয়ে পুলিশ প্রাথমিক ব্যবস্থা নেয়। এ সময় স্থানীয় ছাত্র-জনতাও পুলিশকে সহায়তা করেছে।


ডিসি হারুন আরও বলেন, তারা কী উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছিলেন, তাদের কাছে কী তথ্য ছিল এবং তারা কী ধরনের কর্মকাণ্ড করেছেন, সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে যে তারা সেখানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়েছেন। তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং পুরো ঘটনাটি যাচাই-বাছাই করার স্বার্থে থানায় নেওয়া হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে। সেখানে সাংবাদিকসহ অন্য কোনো পেশার মানুষ আছেন কিনা, তাও যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি পল্টন থানার আওতাধীন হওয়ায় তদন্তের সুবিধার্থে প্রয়োজন হলে তাদের আশপাশের থানায় রাখা হতে পারে।


পল্টন মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর ইসলাম জানান, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কিছু লোকজনকে থানায় আনা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদ করে যাচাই-বাছাই চলছে। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার মো. আকতার হোসেন জানান, জাসদের প্রধান কার্যালয়ে জয় বাংলা স্লোগান দেওয়া ও বহিরাগতদের অবস্থান এবং বৈঠকের সন্দেহে ক্রাইম ও গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ অভিযান চলছে।


পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, দুপুর ১২টার দিকে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের একটি ঝটিকা মিছিল থেকে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে ধানমন্ডি থেকে তিনজন এবং মোহাম্মদপুর থেকে একজনকে হাতবোমাসহ আটক করা হয়। ওই মিছিলে অংশ নেওয়া অনেকেই পরে গুলিস্তানে জাসদের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে। এছাড়া অভিযানের সময় ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের সাবেক সভাপতি আবু জাফর সূর্যকেও আটক করা হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।


সম্পর্কিত খবর

;