পানিতে ডুবা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কর্মশালা: জীবন রক্ষার উদ্যোগে ইউনিসেফের অঙ্গীকার

প্রকাশ : 21 Jan 2025
পানিতে ডুবা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কর্মশালা: জীবন রক্ষার উদ্যোগে ইউনিসেফের অঙ্গীকার


ডেস্ক রিপোর্ট:  ঢাকার গুলশান-২ এর সিক্স সিজনস হোটেলে অনুষ্ঠিত হলো পানিতে ডুবা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কর্মশালা। সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)-এর আয়োজনে এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের (ময়েস) নেতৃত্বে এই অনুষ্ঠানে কারিগরি দিকনির্দেশনা প্রদান করে ইউনিসেফ।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের অফিসার ইন-চার্জ এবং চাইল্ড প্রোটেকশন চিফ, ড. এলিসা কল্পনা। তিনি ডুবানো প্রতিরোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যার তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, “বাংলাদেশে ডুবানো প্রতিরোধে ইউনিসেফ শুরু থেকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। সিআইপিআরবি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের (মওক্যা) সহযোগিতায় পরিচালিত ‘সুইমসেফ’ প্রোগ্রামের মাধ্যমে আমরা শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের জীবন রক্ষাকারী দক্ষতা শেখাচ্ছি। পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীলতা ও সমতার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভূমিকা রাখছি।”

ড. এলিসা কল্পনা আরও বলেন, “এই প্রোগ্রাম শুধু জীবন বাঁচায় না, বরং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সহায়তা করে। খেলাধুলার মাধ্যমে মেয়েদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তাদের ভবিষ্যৎ গড়ার পথে অগ্রসর হওয়ার ক্ষমতা প্রদান করে, যা সমাজের ক্ষতিকর প্রথাগুলোর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সাহায্য করে।”

ইউনিসেফের চাইল্ড প্রোটেকশন স্পেশালিস্ট মনিরা হাসান প্রোগ্রামটির সাফল্যের দিক তুলে ধরে বলেন, “২০০৬ সালে শুরু হওয়া ‘সুইমসেফ’ প্রোগ্রাম ইতোমধ্যে ৬ লাখেরও বেশি শিশু ও কিশোর-কিশোরীকে সাঁতার শেখাতে পেরেছে। ১০ হাজার কমিউনিটি ভলান্টিয়ারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং লক্ষাধিক অভিভাবক ও তত্ত্বাবধায়ককে সচেতন করা হয়েছে। এই উদ্যোগ ডুবানো প্রতিরোধে এক বিপ্লব ঘটিয়েছে।”

তিনি আরও জানান, ২০২২ সালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় প্রোগ্রামটি আরও সম্প্রসারিত হয়েছে, যা এর কার্যকারিতা বহুগুণে বৃদ্ধি করেছে।

উল্লেখযোগ্য অতিথিদের দৃষ্টিভঙ্গি

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন অতিথি ডুবানো প্রতিরোধ উদ্যোগের টেকসই সম্প্রসারণে সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন, ড. মো. শিব্বির আহমেদ ওসমানী, যুগ্ম সচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, শিশু মৃত্যুরোধে স্বাস্থ্যখাতের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। সানজিদা ইসলাম, ইউনিসেফ এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের স্পোর্টস ফর ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের কো-অর্ডিনেটর, খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুদের জীবন রক্ষাকারী দক্ষতা শেখানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন। এছাড়াও মো. আজিম হোসেন, সহকারী পরিচালক, ক্রীড়া অধিদপ্তর, শিশু সুরক্ষা কার্যক্রমে খেলাধুলার ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন। মো. তারিকুল ইসলাম চৌধুরী, প্রোগ্রাম ম্যানেজার, বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশন এবং শিশু একাডেমি (আইসিবিসি প্রজেক্ট), শিশুদের জন্য সাঁতার প্রশিক্ষণের সুযোগ সহজলভ্য করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন, যাতে করে প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই কার্যক্রম শুরু হয়। মো. গোলাম মোস্তফা, যুগ্ম সচিব, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, ডুবানো প্রতিরোধ উদ্যোগ সম্প্রসারণে অংশীদারিত্বের গুরুত্বের উপর জোর দেন।

ইভেন্টটি শেষ হয় সুইমসেফ প্রোগ্রামের আরও বিস্তৃতি এবং বহুমুখী অংশীদারিত্ব জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে। তারা সবাই অনুষ্ঠানে প্রতিশ্রুতি দেন যে, এ উদ্যোগ দেশের শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের জীবন সুরক্ষার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন এবং সামাজিক বৈষম্যের মতো চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে ও তারা এ নিয়ে কাজ করে যাবেন।

সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ডুবানো প্রতিরোধকে একটি জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে স্থাপন করা হবে, যা বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যসম্মত ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাবে।


সম্পর্কিত খবর

;