পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে পূর্ণমন্ত্রী নিয়োগের দাবি ৩২ বিশিষ্ট নাগরিকের

প্রকাশ : 26 Jun 2026
পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে পূর্ণমন্ত্রী নিয়োগের দাবি ৩২ বিশিষ্ট নাগরিকের

স্টাফ রিপোর্টার: পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর পদত্যাগের পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে পার্বত্য অঞ্চলের একজন আস্থাভাজন প্রতিনিধিকে অবিলম্বে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের ৩২ জন বিশিষ্ট নাগরিক। তারা বলেছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দিনই পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব একজন পূর্ণমন্ত্রীর হাতে অর্পণ করায় পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের মধ্যে সরকারের প্রতি আস্থা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগের পর সেই আস্থা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।


আজ শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী, শিক্ষক, গবেষক, লেখক ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ ৩২ জন বিশিষ্ট নাগরিক। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন, সুলতানা কামাল, খুশী কবির, ড. ইফতেখারুজ্জামান, জেড আই খান পান্না, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, ড. শহিদুল আলম, ড. গীতি আরা নাসরিন, ড. জোবাইদা নাসরীন, পাভেল পার্থ, সালমা আলী, কাজল দেবনাথ, রেজাউল করিম চৌধুরী, দীপায়ন খীসা, মুক্তাশ্রী চাকমা, মেইনথিন প্রমীলা প্রমুখ।


বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ মহল প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বাধা সৃষ্টি করেছে। ফলে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সরকারের প্রতি যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা এখন প্রশ্নের মুখে পড়ছে।


বিবৃতিদাতারা বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহাসিকভাবে বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার। তাদের স্বতন্ত্র জীবনধারা, সংস্কৃতি ও অধিকার রক্ষার লক্ষ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তারা উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারেও পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীদের অধিকার বিবেচনায় নিয়ে ‘রেইনবো নেশন’ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে বর্তমান শূন্যতা পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি করছে, যা সরকারের ভাবমূর্তির জন্যও ইতিবাচক নয়।


এ পরিস্থিতিতে তারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি দ্রুত বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বিধান অনুযায়ী পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে তাদের আস্থাভাজন একজনকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়ে পুরো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করা উচিত।


বিবৃতিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ‘ঘ’ খণ্ডের ১৯ ধারার উল্লেখ করে বলা হয়, সেখানে উপজাতীয়দের মধ্য থেকে একজন মন্ত্রী নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতে বিএনপি সরকারের সময়ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর একজন সদস্যকে উপমন্ত্রী করা হয়েছিল এবং মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দায়িত্ব তাঁর ওপরই ন্যস্ত ছিল।


সম্পর্কিত খবর

;