ছয় দিনের চীন-মালয়েশিয়া সফর

শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশ : 26 Jun 2026
শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

স্টাফ রিপোর্টার: দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে চীন ও মালয়েশিয়ায় ছয় দিনের প্রথম সরকারি বিদেশ সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ রাতে বেইজিং থেকে দেশে ফিরেছেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী ফ্লাইট বাংলাদেশ সময় রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। এরআগে বেইজিংয়ের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১৬ মিনিটে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীরাও একই ফ্লাইটে দেশে ফেরেন। 


২১ জুন মালয়েশিয়া দিয়ে শুরু হয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর। কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠকে শ্রমবাজার খোলা, অভিবাসী শ্রমিকদের কল্যাণ, নিয়োগ খরচ কমানো ও বৈধ চ্যানেল নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। মালয়েশিয়ায় বর্তমানে প্রায় ৮ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করছেন, যা দেশটির বিদেশি কর্মীর প্রায় ৩৭ শতাংশ। ২০২৪ সালের ১ জুন থেকে অনিয়মের অভিযোগে বাংলাদেশের শ্রমবাজার বন্ধ রয়েছে। এছাড়া শিক্ষা সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও দুই নেতা আলোচনা করেন। 


২৩ জুন মালয়েশিয়া থেকে চীনের দালিয়ানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘সামার দাভোস ফোরাম’ নামে পরিচিত নিউ চ্যাম্পিয়নসের ১৭তম বার্ষিক সভায় অংশ নেন। ২৪ জুন বুলেট ট্রেনে বেইজিং যান তিনি। ২৫ জুন গ্রেট হলে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, সংযোগ ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক, দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা ও একটি প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়। 


২৬ জুন সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে গ্রেট হলে বৈঠক করেন। স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে শুরু হওয়া বৈঠক প্রায় আধা ঘণ্টা স্থায়ী হয়। আলোচনায় তিস্তা প্রকল্প, চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল, প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি ও স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগসহ বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় অবকাঠামো সহযোগিতা গুরুত্ব পায়। একই দিন সকালে তিয়ানআনমেন স্কয়ারে চীনের বিপ্লবী বীরদের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানান তিনি। লাল-সবুজ গোলাপ ও পাইন পাতায় তৈরি বিশেষ পুষ্পস্তবকে বাংলা ও চীনা ভাষায় লেখা ছিল ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও জনগণের গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি’। 


চীন সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ২৪ সদস্যের প্রতিনিধিদলে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জাহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী আনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমাইউন কবির, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। চীন সফরকে সরকারের বিনিয়োগ এজেন্ডার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। তিনি জানান, চট্টগ্রামের চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভূমি উন্নয়ন ও নির্মাণকাজ শুরুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। ৪১৮৯ কোটি টাকার এ প্রকল্পে ২৪৬৭ কোটি টাকা চীনা সহজ শর্তের ঋণে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে এতে এক লাখ কর্মসংস্থান ও ৫০ কোটি ডলারের বেশি বিদেশি বিনিয়োগ আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। 


এটি ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। ভারত ও চীন দুই দেশের আমন্ত্রণ থাকলেও কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় তিনি প্রথমে মালয়েশিয়া ও পরে চীন সফর বেছে নেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। 


সম্পর্কিত খবর

;