জামিন পেলেন বরিশাল জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস

প্রকাশ : 23 Feb 2026
জামিন পেলেন বরিশাল জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস

বরিশাল অফিস: কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস একটি হামলা মামলায় জামিন পেয়েছেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. শরীয়তউল্লাহ তাঁর জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। এর আগে তিনি ওই মামলায় সেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন   আওয়ামীলীগের সাবেক সাংসদ তালুকদার মো. ইউনুস। 


আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৫ মে বরিশাল নগরের অনামী লেনে হামলার অভিযোগে ২০২৪ সালে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় সোমবার দুপুর ১২টার দিকে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন তালুকদার মো. ইউনুস। পরে তাঁর আইনজীবী জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নাজিম উদ্দিন পান্না বলেন, ‘মামলার ৩ নম্বর আসামি তালুকদার মো. ইউনুস। আমরা জামিনের বিরোধিতা করেছিলাম। আদালত জামিন দিয়েছেন। বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজন হলে উচ্চ আদালতে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী কাইয়ুম খান কায়সার বলেন, ‘জামিনযোগ্য ধারায় মামলা হওয়ায় আদালত আসামির জামিন মঞ্জুর করেছেন।’

মামলার এজাহার অনুযায়ী, বিএনপি কর্মী মো. সরোয়ার হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলাটি করেন। এতে বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের বরিশাল মহানগর শাখার সভাপতি সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক একেএম জাহাঙ্গীর এবং জেলা সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুসসহ ২১০ জনকে আসামি করা হয়।

জামিন মঞ্জুরের পর আদালত প্রাঙ্গণে কিছুক্ষণ আলোচনা–সমালোচনা দেখা যায়। তবে আদালত থেকে বেরিয়ে তালুকদার মো. ইউনুস সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা না বলে দ্রুত চলে যান।

আইনজীবী সূত্র জানায়, গত ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তালুকদার মো. ইউনুস আত্মগোপনে ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে এই একটি রাজনৈতিক মামলা দায়ের হয়। 

তালুকদার মো. ইউনুস বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি। তিনি ২০০৮ সালে বরিশাল-১ এবং ২০১৪ সালে বরিশাল-2 আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি মুজিব বাহিনীর সদস্য হিসেবে প্রশিক্ষণ নেন এবং ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে আটক হন। পরে এলাকা মুক্ত হওয়ার পর কারাগার থেকে মুক্তি পান।

সম্পর্কিত খবর

;