এস এম মোজাম্মেল হক:
ক্যান্সার একটি দূরারোগ্য ব্যাধি।যদিও যে কোন রোগই মৃত্যুর জন্য নিয়ামক ভূমিকা পালন করতে পারে।তুচ্ছ কারণে মৃত্যুর বহু প্রমাণ যেমন রয়েছে আবার অনেক জটিল রোগ থেকে z cও অবিশ্বাস্যভাবে নিরাময় লাভ করার বহু নজিরও আছে।তবে কিছু রোগ আছে যা একবার পেয়ে বসলে তাথেকে নিস্তার পাওয়া খুবই কঠিন।অনেক উন্নত চিকিৎসায় হয়ত কষ্ট কিছুটা লাঘব হয় বা মৃত্যু ঝুঁকি সামান্য সময়ের জন্য কিছুটা কমিয়ে আনা যায় তবে প্রকৃতপক্ষে সে রোগই শেষ পর্যন্ত জীবনাবসনের কারণ হয়।বহু জটিল রোগের মধ্যে ক্যান্সার তদ্রুপ একটি রোগ যা কিনা শারিরীক রোগের অন্তর্গত তবে অনেক মানুষিক রোগও রয়েছে যা অত্যন্ত জটিল ও অনিরাময় যোগ্য।শরীর মন এর বাইরে চরিত্রও একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ অবয়ব যা দেখা নাগেলেও বাহ্যিক আচার আচরণে এর অন্তর্গত দোষ গুন প্রকাশ পায় যা সব সময় গোপন বা অপ্রকাশিত থাকেনা।ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক তা প্রকাশ হয়েই পরে।তবে ভাল মানুষের অনিচ্ছাকৃত কিছু ভুল ভ্রান্তি হলে তারা তা আত্মসম্মান বজায় রাখার স্বার্থে গোপন রাখার চেষ্টাpmকরে বা গোপন থাক সেই কামনা করে যদিও সব সময় তাদের সে কামনা বাসনা পূরণ হয় এমন নয়। পক্ষান্তরে যারা নিজেদের ভাল মন্দের কারণে সুনাম দুর্নামের বিষয়টি তেমন তোয়াক্কা you Co করেনা তারা নিজ কর্মের বিষয় নিয়েও তেমন ভাবেনা ।আবার অন্য একদল আছে যারা মন্দ কাজকেই সঙ্গী করে অগ্রগতি অর্জন করতে ব্যাপৃত।তারা কৌশলে নিজের দুষ্ট চরিত্র প্রকাশের ব্যাপারে আগ্রহী কারণ তারা মনে করে তাদের দুষ্ট চরিত্রের যত বেশী প্রচার হবে লোকজন তাদের তত বেশী সমীহ বা ভয় করে চলবে এটাই তাদের নিজেকে শক্তিশালী প্রমাণের অন্যতম উপায় এবং যেহেতু এতে তারা সাময়িক সময়ের জন্য নিজেকে কৃতকার্য zhczjOমনেকরে তাই তারা আচরণের এ কলুষিত দিকটিকে ক্রমান্নয়ে অবনতিশীল করতে ব্যাপৃত হয়।যদিও তারা মনে করে এটা তাদের কৃতিত্বেরই বহি:প্রকাশ।
সচেতন মানুষেরা কোন কিছুকেই ছোট করে দেখেনা।কোন ছোট ঘটনা বা কারণ ছোট বলে অবহেলার ফলে অনেক বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দেখা দেয় যা থেকে অকল্পনীয় দূর্দশা সৃষ্টি হতে পারে।তাই বড় ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবার জন্য শুরুতে সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন যা জীবনের সব ক্ষেত্রেই মেনে চলা আবশ্যক এবং যারা তা পারে জীবনে অনেক বড় বিপর্যয় থেকে তারা খুব সহজে রক্ষা পেয়ে যায়।কথা হচ্ছিল মিথ্যা নিয়ে।মিথ্যাকে অনেকে খুব ছোট খাট বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে থাকে অথচ বিষয়টি মোটেও ছোট নয়।অনেক বড় ঘটনা দূর্ঘটনার সূচনা হয় মিথ্যাকে আশ্রয় প্রশ্রয় দেয়ার মাধ্যমে।ব্যক্তি পর্যায়ে মিথ্যা বলার বা আশ্রয় প্রশ্রয়ের কারণে যদি তার চরিত্র ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় তাতে ক্ষতি হয় তার বা তার পরিবারের কিন্তু নেতৃস্হানীয়দের বেলায় তা নয় তার কারণে ক্ষতি হয় নেতৃত্বের অধীন বৃহৎ জনগোষ্ঠির সে কারণে ভেবে চিন্তে সকলের চলা খুবই জরুরী।কোন রাজনৈতিক ব্যক্তি যখন মিথ্যা বলে ফেঁসে যান তখন তা থেকে বাঁচার জন্য নতুন করে বলেন বক্তব্যটি রাজনৈতিক অথবা কথার কথা যা আর একটি মিথ্যা বিষয়টি তারা উপলব্ধি করতে না পারলেও জনগণ ঠিকই ধরে ফেলে আর এতে করে তাদের পূত পবিত্র চরিত্রে কালিমা লিপ্ত হয়।যা অন্যের দেয়া নয় নিজেদেরই অর্জন।মিথ্যা বলা ও আশ্রয় প্রশ্রয়ের কারণে কেউ যদি একবার অন্যের নিকট মিথ্যাবাদী হিসেবে চিহ্নিত হয় তাহলে কোন ভাবেই আর সে কলঙ্ক থেকে নিস্তার পাবার সুযোগ থাকেনা।গোয়েবলসের চরিত্রে মিথ্যার কলঙ্ক এমনভাবে লেপ্টে গেছে কোনদিন আর সে কলঙ্ক থেকে মুক্ত হবার সুযোগ নেই।ইসলামের সূচনা লগ্নে ওমর(রা) ও আবু জাহেল উভয়ে একই মতাবলম্বি হওয়া সত্তেও ওমর(রা) সত্যাশ্রয়ী হবার কারণে তার মর্যাদা হিমালয় সম উচ্চতায় অধিষ্ঠিত হয় অথচ আবু জাহেলের করুণ পরিনতি সবারই জানা। তদ্রুপ মিথ্যার আশ্রয় নেয়ার কারণে খুব সামান্য সময়ের জন্য মীর জাফর নিজেকে বিজয়ী মনে করলেও প্রকৃত পক্ষে ঐতিহাসিক ভাবে সেই পরাজিত এবং নবাব সিরাজউদ্দৌলাই বিজয়ী।ইতিহাস পর্যালোচনা করলে এভাবে হাজারো দৃষ্টান্ত পাওয়া যাবে।অতিরিক্ত লোভ মোহ এবং ন্যায়বোধের অভাবেই মানুষ যুগে যুগে এভাবে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে।অথচ তা থেকে পরবর্তি প্রজন্ম শিক্ষা গ্রহন করে নিজেদের সংশোধনের পথে কখনো ফিরিয়ে না এনে বরং চাতুরতার আশ্রয় নিয়ে মিথ্যাকে রাজনৈতিক বক্তব্য বা কথার কথা হিসেবে চালিয়ে দেয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করে থাকে।
পক্ষ বিপক্ষ নির্ধারণে স্বার্থকে প্রাধান্য নাদিয়ে মিথ্যার পরিবর্তে সত্য এবং অন্যায়ের পরিবর্তে ন্যায়কে প্রাধান্য দেয়া হলে জীবন মান অনেক সহজ হতে বাধ্য ফলে অনেক দন্ধ সংঘাত থেকে রক্ষা পাওয়া ও একটি সুন্দর পরিবেশও বজায় রাখা সম্ভব যা সকলের জন্যই মঙ্গলজনক।পৃথিবীতে মিথ্যাশ্রয়ী বহু যুদ্ধে এ যাবত বহু নিরীহ মানুষের প্রাণহানির কারণ হয়েছে।অথচ মিথ্যা অযুহাতে যুদ্ধ না বাধিয়ে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ পরিহার করে শান্তি স্থাপন খুবই সহজ।পৃথিবীতে বর্তমান চলমান অনেক সংঘাতও এর বাইরে নয়।শান্তিপ্রিয় ও বিবেকবান মানুষ মনে করে নিরীহ মানুষের জীবন রক্ষা ও শান্তি স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলি অতি দ্রুত আলাপ আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে শান্তিপূর্ণ বাসযোগ্য পৃথিবী বিনির্মানে এগিয়ে এসে ইতিহাসে নিজেদের গৌরবময় অবস্থান নিশ্চিত করবে।মনেরাখা দরকার শান্তির প্রশ্নে এগিয়ে আসায় কোন হার নেই বরং ইতিহাসে তাঁরাই অধিক সম্মানজনক অবস্থান লাভ করেন কারণ ভবিষ্যত যেহেতু কারো জানা নেই তাই বিজয়ের আশা পোষণ করে সংঘাত চালিয়ে যাবার চেয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় যার যার নিজের অবস্থানকে কাজে লাগানোই উত্তম।আশা করা যায় সবাই পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখবেন।
-লেখক-কবি,প্রাবন্ধিক,কলামিস্ট ও গবেষক। সেন্টএলবান্স,নিউইয়র্ক।
মো. মামুন হাসান:
ইলিশ আমাদের জাতীয় মাছ এবং দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। এটি শুধু আমাদের নদী ও সাগরের সম্পদই নয়, বরং দেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়ি ...
ইমদাদ ইসলাম:
বিষাক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিচ্ছে দেশের মানুষ। প্রায় প্রতিটি গণমাধ্যমেই প্রতিদিনই দেশের বায়ু মান গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয়।গত ৪ মার্চ বুধবার সকাল ১০টার দিকে রাজধানী ঢা ...
মানিক লাল ঘোষ: ইতিহাসের পাতায় কোনো কোনো দিন আসে যা কেবল একটি তারিখ নয়, বরং একটি জাতির ভাগ্যবদল ও আত্মপরিচয়ের চূড়ান্ত দলিল হয়ে দাঁড়ায়। ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ ছিল তেমনই এক মাহেন্দ্রক্ষণ। সেদি ...
আতিকুল ইসলাম টিটু:
বাংলাদেশকে নয়া উপনিবেশিক আধাসামন্তবাদী রাষ্ট্র হিসেবে বোঝার জন্য কেবল রাষ্ট্র গঠনের পরবর্তী সময় নয়, বরং বিশ্ব ইতিহাসের বৃহত্তর শ্রেণি সংগ্রাম এবং সাম্রাজ্যবাদ ...
সব মন্তব্য
No Comments