ঢাকাসহ সারাদেশে মুষলধারে বৃষ্টি, ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতের শঙ্কা, জনজীবন বিপর্যস্ত

প্রকাশ : 27 May 2026
ঢাকাসহ সারাদেশে মুষলধারে বৃষ্টি, ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতের শঙ্কা, জনজীবন বিপর্যস্ত

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানী ঢাকায় বুধবার, ২৭ মে ২০২৬ ভোর থেকে আকাশ মেঘলা থাকার পর সকাল ৮টার পর অঝোর ধারায় বৃষ্টি নেমেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকায় তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আর্দ্রতা ৯০ শতাংশ। দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ঢাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা ১০০ শতাংশ পর্যন্ত উঠতে পারে এবং দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে ঘণ্টায় ১২ থেকে ১৬ কিলোমিটার বেগে। সন্ধ্যার পরও বজ্রবৃষ্টি ও বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। 


টানা ও ভারী বর্ষণের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে স্কুল-কলেজ ও অফিসগামী মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। ঈদের ছুটিতে ঘরমুখো মানুষের যাত্রায়ও দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির কারণে সড়কে যানবাহন সংকট দেখা দেওয়ায় ভাড়াও বেড়ে গেছে। 


শুধু ঢাকা নয়, দেশের আরও অনেক জেলায় ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে এবং সেই সঙ্গে বজ্রপাতসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায়ও অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। 


ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ি ও অববাহিকা অঞ্চলের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অত্যন্ত ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেশের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এরই মধ্যে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে বলে জানা গেছে। 


বৃষ্টির পাশাপাশি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তাপপ্রবাহও অব্যাহত আছে। নোয়াখালী, খুলনা, বাগেরহাট ও যশোর জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। 


বজ্রপাত নিয়ে নতুন করে কোনো মৃত্যুর তথ্য আজ সকাল পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই দেশে বজ্রপাতে শতাধিক মানুষ মারা গেছেন। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে বজ্রপাতে ১৭৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল, আর চলতি বছর এখন পর্যন্ত ২৮ থেকে ৩০ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। বাংলাদেশে মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে সবচেয়ে বেশি বজ্রপাত হয় এবং সবচেয়ে বেশি হয় সিলেট অঞ্চলে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বজ্রপাতে মারা যাওয়া ৮৭ শতাংশ মানুষ উন্মুক্ত স্থানে ছিলেন। 


আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বজ্রঝড় সাধারণত ৪০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। এ সময় ঘরে অবস্থান করতে হবে এবং জরুরি প্রয়োজনে বাইরে গেলে রাবারের জুতা পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। খোলা মাঠে থাকলে পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে কানে আঙুল দিয়ে নিচু হয়ে বসতে বলা হয়েছে। 


আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, এই বৃষ্টিপাত আরও কয়েকদিন থাকতে পারে। নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার এবং নদীপথে চলাচলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। 

সম্পর্কিত খবর

;