আশাশুনি চাপড়া ব্রীজ টু বড়দল ব্রীজের ঝুঁকিপূর্ণ ১২ ফুটের সড়কটি চওড়া করার দাবি

প্রকাশ : 06 Feb 2026
আশাশুনি চাপড়া ব্রীজ টু বড়দল ব্রীজের ঝুঁকিপূর্ণ ১২ ফুটের সড়কটি চওড়া করার দাবি

শ্যামল বিশ্বাস (সাতক্ষীরা) আশাশুনি প্রতিনিধি:  আশাশুনি উপজেলার  চাপড়া ব্রীজ থেকে বড়দল ব্রীজ পর্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় ১০ কি.মি. সড়কটি প্রসস্থ করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। 

বাস ও মালবাহী ট্রাক সহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ক্রসিংয়ের সময় ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সড়কটি ১২ ফুটের সড়কটি ১৮ ফুটে উন্নীত করার জন্য এলাকাবাসীর পক্ষে আবেদন জানিয়েছেন বড়দল ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা মাষ্টার আব্দুল ওহাব মোল্যা।

সরজমিনে দেখা গেছে, চাপড়া ব্রীজ থেকে বড়দল ব্রীজ পর্যন্ত সড়কটি অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। আশাশুনি সদর থেকে খুলনা জেলার পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলায় যাতায়াত সহ ব্যাবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে খুব সহায়ক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী বড়দল হাট ও গোয়ালডাঙ্গা বাজারের শতশত ব্যাবসায়ীরা খুলনা থেকে অথবা ভোমরা স্থলবন্দর থেকে মালামাল এনে ব্যাবসা করে যাচ্ছেন। অপরদিকে শ্যামনগর থেকে কোলাঘোলা পার হয়ে আশাশুনি হয়ে এ সড়ক ধরে অসংখ্য মানুষ অত্যন্ত সহজেই পাইকগাছা ও খুলনায় যাতায়াত করতে পারে। কয়রা উপজেলা সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন হওয়ায় নিয়মিত তারা বড়দল ব্রীজ পার হয়ে ভায়া আশাশুনি হয়ে সাতক্ষীরা যাতায়াত করে থাকেন। কালীগঞ্জ ও দেবহাটা উপজেলার মানুষকে আশাশুনির এ সড়ক ব্যবহার করে  পাইকগাছা ও খুলনা যাতায়াত করতে হয়। 

গত বর্ষায় ব্যস্ততম এ সড়কটি খানাখন্দে পরিনত হয়ে জনভোগান্তির চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল। এরমধ্যে ফুলতলা চক্ষু হাসপাতাল ও ফকরাবাদ প্রাইমারি স্কুলের সামনের সড়কে জরাজীর্ণ কালভার্ট ভেঙে গাড়ি চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। পরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে খানিকটা সংস্কার করে কোন রকমে চলাচলের উপযোগী করে। এর আগে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লে ফুলতলা চক্ষু হাসপাতাল, গোয়াল ডাঙ্গা বাজার, ফকরাবাদ পল্লী বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, বড়দল কমিউনিটি সেন্টার ও বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের সামনের সড়কে সড়ক ও জনপথ বিভাগ জরাজীর্ণ কার্পেটিংয়ের উপর দিয়ে আবার ইটের এইচবিবি রাস্তা নির্মাণ করে দেয়। বিষয়টি নিয়ে পত্র, পত্রিকা সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখি ও হাস্যরসের সৃষ্টি হতে দেখা গেছে। চরম ভোগান্তিতে পড়লে সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে কিছু দিন আগে খানাখন্দ গুলো খোয়া বালি দিয়ে ভরাট করে উপরে উপরে পিচ দিয়ে ক্ষত লুকানো হয়েছে। 

এ ব্যাপারে এলাকাবাসীর পক্ষে আবেদনকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা মাষ্টার আব্দুল ওহাব মোল্যা বলেন, জোড়াতালি দিয়ে হলেও আপাতত চলাচলের উপযোগী করে দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ১২ ফুটের সড়কটি চাহিদা অনুযায়ী প্রসস্থ না হওয়ায় দুটি বাস বা দুটি ট্রাক ক্রসিংয়ের সময় একটি চাকা মাটিতে পড়ে যায়। শুকনা মৌসুমে অসুবিধা না হলেও বর্ষা মৌসুমে এটা চরম ঝুঁকিতে থাকে। গতবছর বর্ষা মৌসুমে ডলফিন হ্যাচারি মোড় এলাকায় এভাবেই ক্রসিংয়ের সময় একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে পাশের মৎস্য ঘেরে পড়ে কমপক্ষে ৩০ জন যাত্রী আহত হয়।

উপজেলা সদরের প্রাক্তন শিক্ষক মোঃ বাবর আলী জানান, চাপড়া ব্রীজ থেকে মানিকখালী ব্রীজ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার সড়কের দু'পাশে মৎস্য ঘের এরিয়ায় কোন নিরাপত্তা বেষ্টনী নেই। তাই বর্ষা মৌসুমে গাড়ি ক্রসিং চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। নিরাপত্তা বেষ্টনীর ব্যবস্থা সহ সড়কের দু'ধারে ৬ ফুট বাড়িয়ে দিলে ভালো হয়।

গোয়াল ডাঙ্গা বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাংবাদিক মুকুল শিকারী বলেন, বর্ষা মৌসুমের আগেই এই সড়কের ফুলতলা, গোয়াল ডাঙ্গা, ফকরাবাদ গ্রামের জরাজীর্ণ কালভার্ট গুলো সংস্কার অথবা পুনঃ নির্মাণ করতে হবে। গোয়াল ডাঙ্গা বাজারটি বর্ষা মৌসুমে খানাখন্দে পরিনত হয়ে পড়ে। এখানে আরসিসি ঢালাইয়ের ব্যবস্থা করলে ব্যাবসায়ীরা নিরাপদে মালামাল লোড-আনলোড করতে পারে। এছাড়া সড়কের দু'ধারে পুকুর ও মৎস্য ঘের থাকলে সেসব জায়গায় প্রটেক্টিভ ওয়ার্কের ব্যবস্থা করতে হবে। ট্রাক শ্রমিক রুবেল হোসেন বলেন, দয়ারঘাট জেলেখালি নদী ভাঙন স্থলে ব্লকের কাজের জন্য ট্রাক থেকে পাথর নামানোর কাজ করছি। কিন্তু রাস্তা সরু হওয়ায় গাড়ি চলাচলে খুব অসুবিধা হচ্ছে। রাস্তাটি বড় হলে খুব ভালো হয়। বিষয়টা আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে জেলা প্রশাসক সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার সর্বস্তরের পথচারী।


সম্পর্কিত খবর

;