অনিক রায়, ফরিদপুর অফিস: বসন্তের প্রথম আলোর সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতি যেন নিজেই পরিধান করে অগ্নিরঙা এক শাড়ি। মাঠের ধুলো, গ্রামের পথ, শহরের প্রান্তর—সবখানেই ছড়িয়ে পড়েছে আগুনরাঙা পলাশের দীপ্তি।
ঋতুরাজের এই আবির্ভাবে,ফরিদপুর শহরও যেন পেয়েছে নতুন প্রাণ। বিশেষ করে ফরিদপুর প্রেস ক্লাব চত্বর আজ রঙের উচ্ছ্বাসে ভরপুর; সবুজের বুক চিরে কমলা-লালের শিখা হয়ে ফুটে আছে পলাশ।
দিনভর ই দেখা যায় দর্শনার্থীদের।কেউ দাঁড়িয়ে মুগ্ধ দৃষ্টিতে দেখেছেন, কেউবা স্মার্টফোনে (মুঠোফোনে) বন্দি করেছেন মুহূর্তটি। কালো কুশির ফাঁকে ফাঁকে ফুটে থাকা পলাশ যেন দূর থেকে দেখলে মনে হয়—সবুজের ভেতর দাউদাউ করে জ্বলছে অগ্নিশিখা। বসন্তের এই রঙিন ভাষা নিঃশব্দে ছুঁয়ে যায় মানুষের মন।
পলাশের বৈজ্ঞানিক নাম Butea monosperma। এটি Fabaceae (ফ্যাবেসি) পরিবারভুক্ত একটি মাঝারি আকারের পর্ণমোচী বৃক্ষ, যা বসন্তকালে উজ্জ্বল লাল-কমলা রঙের ফুলের জন্য পরিচিত।ইংরেজিতে একে 'Flame of the Forest' বা অরণ্যের অগ্নিশিখাও বলা হয়।
গড়ে প্রায় ১৫ মিটার উচ্চতার এই বৃক্ষের শাখা-প্রশাখায় থোকায় থোকায় ফোটে ফুল। এর পাপড়ির গঠন বাঘের নখের মতো বাঁকানো; সামনে চওড়া, পেছনে ডানার মতো বিস্তৃত, আবার কোথাও পাখির ঠোঁটের মতো অবয়ব—যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা এক শিল্পকর্ম। পলাশের আরও কিছু নাম রয়েছে—কিংশুক, পলাশক, বিপর্ণক—যা তার ঐতিহ্য ও বিস্তৃত সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সাক্ষ্য বহন করে।
বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে পলাশের উপস্থিতি অনিবার্য। প্রাচীন মহাকাব্য মহাভারত-এর সভাপর্বে ইন্দ্রপ্রস্থ নগরের যে বর্ণনা পাওয়া যায়, সেখানে উদ্যান ও জলাধারের পাশে পলাশের উল্লেখ রয়েছে। কেবল সাহিত্যেই নয়, ধর্মীয় আচারেও পলাশের গুরুত্ব সুপ্রাচীন। সরস্বতী পূজা ও দোলযাত্রায় পলাশের রঙ ব্যবহারের ঐতিহ্য রয়েছে ভারতীয় উপমহাদেশজুড়ে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, মিয়ানমার, লাওস ও ভিয়েতনামে এই বৃক্ষ জন্মে থাকে। এর রয়েছে ভেষজগুণ; কাঠ দিয়ে তৈরি চামচ হিন্দু ধর্মীয় আচারেও ব্যবহৃত হয়।
ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধাণ জনাব শহীদুল ইসলাম বাবু বলেন, “পলাশ যেন বসন্তের হৃদস্পন্দন। তার দাউদাউ লাল আভা আমাদের জাতীয় চেতনা, আত্মত্যাগ আর গভীর আবেগকে নতুন করে জাগিয়ে তোলে।” তিনি আরও বলেন, শীতের নিস্তব্ধতা ভেঙে প্রকৃতির ক্যানভাসে আগুনরঙা স্বপ্ন আঁকে পলাশ।
আক্ষেপের সুরে তিনি যোগ করেন, “একসময় গ্রামবাংলার পথঘাট পলাশের রঙে রাঙা থাকত, এখন সে দৃশ্য ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। নানা অবহেলা আর অপরিকল্পিততার কারণে আমাদের প্রিয় দেশীয় বৃক্ষ আজ সংকটে।”
পরিবেশবিদ প্রফেসর আলতাব হোসেন মনে করেন, দেশীয় বৃক্ষ সংরক্ষণে এখনই সচেতন না হলে আগামী প্রজন্ম হয়তো শুধু গল্পেই পলাশের রূপ চিনবে। তাঁর কথায়, “পলাশসহ দেশীয় গাছ বেশি করে রোপণ ও পরিচর্যা করলে প্রকৃতি যেমন ভারসাম্য ফিরে পাবে, তেমনি সমৃদ্ধ হবে আমাদের জীববৈচিত্র্য ও ভবিষ্যৎ পৃথিবী।”
ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, “ক্লাব প্রাঙ্গণে ফুটে থাকা পলাশ প্রতিদিনই মানুষকে টানে। এর রং হৃদয়ে দোলা দেয়।” সত্যিই, এই একটি গাছই যেন শহরবাসীর মনে বসন্তের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।
রংপুর অফিস: লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশনের প্রবেশদ্বারে দীর্ঘদিন ধরে থাকা ‘শহীদ মোফাজ্জল হোসেন তোরণ’-এর নাম পরিবর্তন করে বর্তমানে শুধু ‘শহীদ তোরণ’ লেখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সাল ...
স্টাফ রিপোর্টার: মাত্র ২৫ দিনে সংস্কারকাজ শেষ করে সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে কামরাঙ্গীরচর লোহার ব্রিজ। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসিসি) নিজস্ব অর্থায়নে ও তত্ত্বাবধানে ব্রিজটির ...
বরিশাল অফিস: বরিশালের বানারীপাড়ায় চিকিৎসকের অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার এবং মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়ার অভিযোগে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইএনটি (ENT) বহির্বি ...
নেত্রকোণা প্রতিনিধি: রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ছাড়াই প্রকৃতিতে আপনাআপনি জন্ম নেওয়া অচাষকৃত শাকসবজির পুষ্টি ও ঔষধিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে নেত্রকোণায় ব্যতিক্রমী প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় ...
সব মন্তব্য
No Comments