এন. সাঈদ।।
ইয়েমেনের যুদ্ধকে বিশ্বের অনেক গণমাধ্যমে হুথি বনাম সৌদি আরবের যুদ্ধ হিসেবে দেখানো হয়। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। এই যুদ্ধ ইয়েমেনের জনগণ ও তাদের বৈধ সরকারের সাথে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) এবং তার প্রক্সি হুথি সন্ত্রাসী মিলিশিয়ার যুদ্ধ।
ইয়েমেন সংকটের শিকড় খুঁজতে হলে ফিরে যেতে হবে ২০১২-২০১৪ সালের ট্রানজিশনাল পর্বে। ২০১১ সালের নভেম্বরে গালফ ইনিশিয়েটিভ অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ ক্ষমতা হস্তান্তর করেন এবং ২০১২ সালের শুরুতে ঐকমত্যের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আবদ-রাব্বু মানসুর হাদি দুই বছরের জন্য দায়িত্ব নেন।
আমরা তখন ২০১৫ সালের শুরুতে আইনসভা ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। তখন সবার ধারণা ছিল, ইয়েমেনি কংগ্রিগেশন ফর রিফর্ম (আল-ইসলাহ) বড় বিজয় পেতে পারে। আল-ইসলাহ একটি মধ্যপন্থী ইসলামী ধারার রাজনৈতিক শক্তি, যার মাধ্যমে ইয়েমেনি জনগণ দেশে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ভিত্তি পেতে পারত।
কিন্তু মিসরে মুসলিম ব্রাদারহুডের উত্থানের পুনরাবৃত্তির ভয়ে একটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহল আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। আমার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরান, ইসরায়েল, কিছু ইউরোপীয় দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি অংশ চায়নি ইয়েমেনে একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক শক্তি ক্ষমতায় আসুক।
আমি মনে করি, সে কারণেই নির্বাচনী প্রক্রিয়া বানচাল করতে একটি গোপন সমঝোতা হয়েছিল। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে IRGC তার ইয়েমেনি প্রক্সি হুথি মিলিশিয়ার মাধ্যমে সানায় অভ্যুত্থান ঘটায়। এই অভ্যুত্থানে অর্থায়ন করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, আর ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র তাতে মৌন সম্মতি দেয়। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তখন গর্ব করে বলেছিলেন, সানা বাগদাদ, দামেস্ক ও বৈরুতের পর IRGC-র হাতে পড়া চতুর্থ আরব রাজধানী।
২০১৫ সালের মার্চে প্রেসিডেন্ট হাদির অনুরোধে সৌদি আরবের নেতৃত্বে আরব জোট "অপারেশন ডিসাইসিভ স্টর্ম" শুরু করে। দশ বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে ইয়েমেনি ন্যাশনাল আর্মি কয়েকবার বিজয়ের খুব কাছে পৌঁছেছিল।
দুটি ঘটনা আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই। প্রথমটি ২০১৬ সালে, যখন আমাদের বাহিনী রাজধানী সানার উপকণ্ঠে পৌঁছে গিয়েছিল, তখন সামরিক ভুলের অজুহাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমান হামলায় আমাদের অগ্রযাত্রা থেমে যায়। দ্বিতীয়টি ২০১৮ সালে হুদায়দায়। আমরা বন্দর থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে ছিলাম। তখন আমাদের জানানো হয়, ব্রিটেন ও ফ্রান্স আমাদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালাবে যদি আমরা ১৫০ কিলোমিটার পিছিয়ে না যাই। ইউরোপের চাপে, বিশেষ করে ফ্রান্স, ব্রিটেন, আমিরাত ও ওমানের চাপে আমাদের হুদায়দা থেকে সরে আসতে বাধ্য করা হয়।
পশ্চিম উপকূলের যুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা সবচেয়ে স্পষ্ট। হুদায়দা ও তাইজের হাইস এবং মাকবানাহ এলাকায় IRGC ও হুথিদের হামলা আমাদের সেনারা প্রতিহত করেছিল। কিন্তু আমাদের সাথে থাকা রিপাবলিকান গার্ডস, যাদের সংগঠিত, প্রশিক্ষিত ও সশস্ত্র করেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত, তাদের কমান্ডার তারিক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ সালেহকে আমিরাত যুদ্ধক্ষেত্র থেকে মোকায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।
এর ফলে আমাদের বাহিনীর পেছনের অংশ উন্মুক্ত হয়ে যায় এবং হুথিরা হাইস ও মাকবানাহ দখল করে মোকা বন্দরের দিকে এগিয়ে যায়। পরে আবার আমিরাত রিপাবলিকান গার্ডদের মোকা থেকে এডেনে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। আমার বিশ্লেষণে, এই পদক্ষেপটি দক্ষিণ ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের বাহিনীকে শাবওয়াহ, হাদরামাউত ও আল-মাহরাহ থেকে প্রত্যাহারের সাথে যুক্ত ছিল।
আমাদের কাছে তথ্য আছে, এরপর আমিরাত ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়, যার অধীনে IRGC ও হুথিদের মোকা শহর ও বন্দর এবং আমাদের দ্বীপগুলোতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। বিনিময়ে ইরান আবুধাবি ও দুবাইতে হামলা থেকে বিরত থাকবে। এর ফলেই আমিরাতের বন্দর, উপকূল ও দ্বীপ দখলের উদ্দেশ্য এবং ইরানের হরমুজ প্রণালী ও বাব আল-মান্দেব প্রণালীর ওপর প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্য একসাথে পূরণ হয়।
আজ এর পরিণতি কী? ইরান এখন হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব উভয় প্রণালীর ওপর প্রভাব বিস্তারের বার্তা দিচ্ছে। সৌদি আরব, উপসাগরীয় দেশ, মিশর ও তুরস্কের অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা সরাসরি হুমকির মুখে। সৌদি আরব এখন উত্তরে ইরাকে পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস ও IRGC এবং দক্ষিণে ইয়েমেনে হুথিদের দ্বারা ঘেরাও অবস্থায়।
এই হুমকি মোকাবিলায় আমি চারটি পদক্ষেপ প্রস্তাব করছি:
১. সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির সামরিক অংশ সক্রিয় করতে হবে।
২. আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বৈধ সরকারের অধীন ইয়েমেনি ন্যাশনাল আর্মিকে অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও যোগাযোগ সক্ষমতা দিয়ে শক্তিশালী করতে হবে। মাঠে আমাদের পর্যাপ্ত যোদ্ধা আছে, সঠিক সহায়তা পেলে আমরা স্থলে ও সমুদ্রে, ইয়েমেনের জলসীমা ও দ্বীপগুলোতে IRGC ও হুথিদের পরাজিত করতে পারব।
৩. এই জোটে ইয়েমেন, মিশর ও অন্যান্য উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রকে অন্তর্ভুক্ত করে সম্প্রসারিত করতে হবে।
৪. বিশ্ব জনমতের কাছে সংঘাতের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে হবে। এটি কোনোভাবেই হুথি-সৌদি যুদ্ধ নয়, এটি ইয়েমেনের জনগণের অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ।
সবশেষে, বৈধ সরকার নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বসবাসরত কয়েক মিলিয়ন অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তার আহ্বান জানাচ্ছি। তারা আজ নিঃশর্ত সহায়তার অপেক্ষায়।
-লেখক: এন. সাঈদ, সংসদ সদস্য, ইয়েমেন।
তারানা চৌধুরী:২০১৮ সালের অক্টোবর মাস। এক শুক্রবার রাতে মামার বাসায় দাওয়াত খেয়ে বাড়ি ফেরেন মুনিয়া (ছদ্মনাম)। তখনো সব স্বাভাবিক। কিন্তু পরদিন সকাল থেকেই হঠাৎ প্রচণ্ড জ্বর আর মাথাব্যথা শুরু হয়। বুঝতে দের ...
রাহাদ সুমন: বরিশালের বানারীপাড়ার আমৃত্যু সংগ্রামী শতবর্ষী নারী মায়া রাণী দাস। যেন কবি জসিম উদ্দিনের কবিতার "কঙ্কাল সার" দেহের সেই আসমানীর প্রতিরূপ। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত জীবিকার সন্ধানে কঙ্কালসার ...
মোঃ মাহফুজুর রহমান:একটা সময় ছিল গ্রামের অনেক কৃষক সাদা কাগজে টিপসই দিয়ে ভিটেমাটি হারিয়ে পথের ফকির হয়ে যেত । আবার অনেকে ঋণ না নিয়েও ঋণের ফাঁদে পড়তো । কারণ তারা ছিল নিরক্ষর । মানুষের অজ্ঞতার সুযোগকে কাজ ...
এ এম ইমদাদুল ইসলাম:তরুণ বয়সে যে হাত লাঙল ধরেছিল, বার্ধক্যেও সেই হাতেই এখন ধরা থাকে একটি প্লাস্টিকের কার্ড। দেখতে সাধারণ, কিন্তু এর ভেতরে জমা আছে এক কৃষকের পরিচয়, তার জমির হিসাব, প্রাপ্য ভর্তুকি এবং ভব ...
সব মন্তব্য
No Comments