রিজেন্ট সাহেদ ফের গ্রেফতার

প্রকাশ : 14 Sep 2026
রিজেন্ট সাহেদ ফের গ্রেফতার


স্টাফ রিপোর্টার: ৭১ লাখ ৮৭ হাজার ২৬৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ করিমকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।


সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের আইনজীবী দেলোয়ার জাহান রুমি। এদিন আদালতে সাহেদের আইনজীবী দবির উদ্দিন জামিনের আবেদন করলেও তার ওপর শুনানি হয়নি।


মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৭ মার্চ দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী বাদী হয়ে এজাহার দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি দুদকের সহকারী পরিচালক ও তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়াতুল ইসলাম মোহাম্মদ সাহেদ ও তার স্ত্রী সাদিয়া আরবীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।


অভিযোগপত্রে বলা হয়, সাহেদের স্ত্রী সাদিয়া আরবী ২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর দুদকে দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে মোট ৬১ লাখ ৩০ হাজার টাকার সম্পদের হিসাব দেন। তবে যাচাই-বাছাই ও তদন্তে তার নামে মোট ৭৬ লাখ ২৩ হাজার ৬২৫ টাকার সম্পদ পাওয়া যায়। এতে তিনি ১৪ লাখ ৯৩ হাজার ৬২৫ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করে মিথ্যা তথ্য দেন।


এছাড়া ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার পারিবারিক ব্যয়সহ সাদিয়া আরবীর অর্জিত সম্পদের মোট মূল্য দাঁড়ায় ৭৮ লাখ ২৩ হাজার ৬২৫ টাকা। কিন্তু তার আয়কর নথি অনুযায়ী অর্জিত আয়ের পরিমাণ ছিল মাত্র ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ফলে ৭৩ লাখ ৫৩ হাজার ৬২৫ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত হিসেবে প্রমাণিত হয়।


তদন্তে আরও উঠে আসে, সাদিয়া আরবীর নিজস্ব কোনো নির্ভরযোগ্য আয়ের উৎস ছিল না। তার স্বামী মোহাম্মদ সাহেদ অবৈধ ও দুর্নীতিগ্রস্ত উপায়ে অর্জিত অর্থ স্ত্রীর নামে হস্তান্তর, রূপান্তর ও গোপন করে সম্পদ অর্জনে প্রত্যক্ষ সহায়তা করেছেন। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১), মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় চার্জ গঠনের আবেদন করা হয়।


উল্লেখ্য, মোহাম্মদ সাহেদ বিভিন্ন জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলায় একাধিক সাজাপ্রাপ্ত আসামি। করোনাকালে রিজেন্ট হাসপাতালে ভুয়া করোনা রিপোর্ট ও প্রতারণার অভিযোগে ২০২০ সালের ১৫ জুলাই সাতক্ষীরা সীমান্ত থেকে র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি। অস্ত্র মামলা ও চেক ডিজঅনারের মামলায় সাজাসহ তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন আদালতে বেশ কয়েকটি পরোয়ানা রয়েছে। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর মুক্তি পেলেও মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ঋণখেলাপি ও চেক ডিজঅনার মামলায় এক বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের সাজা সংক্রান্ত পরোয়ানায় তাকে পুনরায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় সাজা ও পরোয়ানা বহাল থাকায় তিনি কারাগারেই রয়েছেন।


সম্পর্কিত খবর

;