শেষ হলো ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন, ৪৫ পৃষ্ঠার নয়া দিল্লি ঘোষণাপত্র

প্রকাশ : 14 Sep 2026
শেষ হলো ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন, ৪৫ পৃষ্ঠার নয়া দিল্লি ঘোষণাপত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দিল্লির ভারত মণ্ডপমে দুই দিনব্যাপী ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন শেষ হয়েছে। ১২-১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ অনুষ্ঠিত এই সম্মেলন রোববার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সমাপনী ভাষণের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এবারের সম্মেলনের থিম ছিল - “Building for Resilience, Innovation, Cooperation and Sustainability”।


ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ইকোনমিক টাইমস এবং দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারি সংবাদ সংস্থা SA News-এর খবর অনুযায়ী, সম্মেলনের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো সর্বসম্মতভাবে নয়া দিল্লি ঘোষণাপত্র গ্রহণ। প্রধানমন্ত্রী মোদী ঘোষণা করেন, “যেহেতু কোনো সদস্য দেশ আপত্তি করেনি, তাই নয়া দিল্লি ঘোষণা ২০২৬ গৃহীত হলো।”


এটি একটি ৪৫ পৃষ্ঠার, ১৪০ পয়েন্টের দলিল। এতে ব্রিকসের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে সন্ত্রাসবাদ, একতরফা সামরিক পদক্ষেপ, পশ্চিম এশিয়া সংকট, বাণিজ্য, জলবায়ু, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে।


পশ্চিম এশিয়া: গাজায় চলমান উত্তেজনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সর্বোচ্চ সংযম এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। গাজায় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে ইসরায়েলের আইনি বাধ্যবাধকতার কথাও বলা হয়েছে।

একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কের বিরোধিতা: যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি ও একতরফা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার অবিলম্বে অবসান চাওয়া হয়েছে। বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে পশ্চিম এশিয়া নিয়ে তীব্র মতবিরোধের পরও ব্যাক-চ্যানেল আলোচনায় ঐকমত্যে পৌঁছানো ভারতের জন্য বড় কূটনৈতিক সাফল্য।

সন্ত্রাসবাদ: পেহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার সর্বসম্মত নিন্দা করা হয়েছে, যাকে ভারতীয় মিডিয়া পাকিস্তানের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছে।

গ্লোবাল সাউথ: ঘোষণাপত্রে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সার্বভৌম সমতা, সংহতি, গণতন্ত্র ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা সংস্কারের অঙ্গীকার করা হয়েছে।

মোদীর সমাপনী ভাষণ ও ১০ দফা রোডম্যাপ:

সমাপনী ভাষণে মোদী বলেন, “নয়া দিল্লি ঘোষণা আমাদের অভিন্ন সংকল্পের জন্য স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেবে। এখন আমাদের দায়িত্ব এই অঙ্গীকারগুলোকে সময়-বেঁধে দেওয়া পদক্ষেপ এবং প্রান্তিক পর্যায়ে বাস্তব প্রভাবে রূপান্তর করা।” তিনি এর আগে যে ১০ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিলেন - জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সংস্কার, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ভোটাধিকার সংস্কার এবং AI, সাইবার স্পেসের মতো ভবিষ্যতের নিয়ম তৈরিতে গ্লোবাল সাউথের সমান অংশগ্রহণ, তাকেই ঘোষণাপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি ‘rule-takers থেকে rule-shapers’ হওয়ার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।


এবারের সম্মেলনে ১১ সদস্য দেশ ও ১০ সহযোগী দেশের ২০ জনের বেশি রাষ্ট্রপ্রধান উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখযোগ্য ছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (৭ বছর পর প্রথম ভারত সফর), রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।


ইকোনমিক টাইমসের লাইভ ব্লগ অনুযায়ী, শেষ দিনে মোদী দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর, কাজাখস্তান, ফিলিপাইন, বুরুন্ডি, উগান্ডা ও নাইজেরিয়ার নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। শি জিনপিং ও পুতিন উভয়েই ইউক্রেন সংকটে মধ্যস্থতায় সাহায্যের প্রস্তাব দেন। শি জিনপিং রোববার দুপুরে দিল্লি ত্যাগ করেন।


সম্মেলন শেষে ব্রিকসের সভাপতিত্ব ভারত থেকে চীনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০২৭ সালে ১৯তম ব্রিকস সম্মেলন হবে চীনে। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট রামাফোসা সম্মেলনকে ‘অত্যন্ত সফল’ বলে অভিহিত করেছেন।


সম্পর্কিত খবর

;