দুর্নীতির ১৫ মামলা থেকে খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস

প্রকাশ : 27 Aug 2026
দুর্নীতির ১৫ মামলা থেকে খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস

স্টাফ রিপোর্টার: বিনা দরপত্রে ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রির মাধ্যমে ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকা দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৭ সালে দায়ের করা ১৫টি মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মির্জা আব্বাস। একই সাথে এই ১৫ মামলার অন্য সকল আসামিকেও খালাস দিয়েছেন আদালত।


বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক মুহাম্মদ কামরুল হাসান খান দীর্ঘ ১৮ বছর পর এই রায় দেন। রায়ে আদালত বলেন, অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে দুদক।


মামলার বিবরণে জানা যায়, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী থাকাকালীন মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে রাজধানীর ১৮টি পরিত্যক্ত সরকারি বাড়ি রাজউকের মাধ্যমে সাজানো দরপত্র ও কারচুপির মাধ্যমে অস্বাভাবিক কম দামে নিজ পছন্দের ব্যক্তিদের পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। এর মাধ্যমে সরকারের ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকা ক্ষতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে দুর্নীতি দমন কমিশন। 


এই অভিযোগে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ মতিঝিল থানায় মির্জা আব্বাসসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে পৃথক ১৫টি মামলা দায়ের করে দুদক। তদন্ত শেষে ২০০৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্র দেওয়া হয় এবং ২৫ সেপ্টেম্বর তৎকালীন বিচারক শাহেদ নূরউদ্দিন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। 


মামলাগুলোতে মির্জা আব্বাসসহ ১২ জনকে প্রত্যেক মামলায় আসামি করা হয়। তারা হলেন- এস এম জাফর উল্লাহ, মো. এমদাদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, গোলাম নবী, কাজী রিয়াজুল মনির, জিয়াউদ্দিন আহমেদ, আব্দুস সাদেক, হুমায়ন খান, মীর মোশাররফ হোসেন, ইকবাল উদ্দিন চৌধুরী ও মো. শহীদ আলম। এছাড়া আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে দুই মামলায়, আহমেদ আকবর সোবহানকে দুই মামলায় এবং মেহেদী হাসান, শফিকুর রহমান কিরনসহ আরও কয়েকজনকে পৃথক মামলায় আসামি করা হয়। সব মিলিয়ে আসামি করা হয় ২১ জনকে। 


২০০৮ সালে উচ্চ আদালত মামলাগুলোর কার্যক্রম স্থগিত করেন। পরে ২০১৮ সালের ৬ এপ্রিল হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে বিচার কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।


মির্জা আব্বাসের আইনজীবী মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ১৫ মামলায় সব আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। তবে বিচার চলাকালে তিন আসামি মারা গেছেন। রায়ে আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি। 


সম্পর্কিত খবর

;