ফুলবাড়ী দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন ও সমাবেশ

প্রকাশ : 27 Aug 2026
ফুলবাড়ী দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন ও সমাবেশ

স্টাফ রিপোর্টার: ফুলবাড়ী অভ্যুত্থানের ২০তম বার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ঢাকা মহানগর, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।


শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জাতীয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সচিব অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, জনপদ, প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশ ধ্বংস করে ফুলবাড়ীতে নতুন করে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের যেকোনো চক্রান্ত দেশবাসী রুখে দেবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা তোলার ঘোষণায় ইতিমধ্যে লন্ডনের স্টক মার্কেটে নতুন নামে গঠিত এশিয়া এনার্জি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়ে গেছে এবং তারা অধিক লাভের চক্রান্ত করছে।


অধ্যাপক আকাশ বলেন, ২০০৬ সালে ফুলবাড়ী গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন বিএনপি সরকার জাতীয় কমিটির সাথে ছয় দফা চুক্তি করেছিল। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার এই চুক্তি বাস্তবায়ন করেনি। বর্তমান সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো এই চুক্তি বাস্তবায়ন করা। দেশের জ্বালানি সংকট সমাধানে অনেক বিকল্প পথ আছে, সেই পথ অনুসরণ করতে হবে। কোনো একটা অঞ্চলের মানুষের প্রাণ, প্রকৃতি, পরিবেশ ও জীবন-জীবিকা ধ্বংস করে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা তোলা চলবে না।


জাতীয় কমিটির ঢাকা মহানগরের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন নগর কমিটির অন্যতম সমন্বয়ক জুলফিকার আলী এবং সমাবেশ পরিচালনা করেন অন্যতম সমন্বয়ক খান আসাদুজ্জামান মাসুম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাজ্জাদ জহির চন্দন, রুহিন হোসেন প্রিন্স, বজলুর রশিদ ফিরোজ, সাইফুল হক, আব্দুস সাত্তার, শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, ডা. জয়দীপ ভট্টাচার্য, আব্দুল আলী, মাহিন উদ্দিন চৌধুরী লিটন, বাচ্চু মিয়াসহ জাতীয় কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকটকে পুঁজি করে কয়লা সিন্ডিকেটের দেশি-বিদেশি চক্র নতুন করে নানা ধরনের চক্রান্ত ও ধ্বংসযজ্ঞের খেলায় মেতে উঠেছে। জ্বালানি সমস্যার সমাধানে জাতীয় কমিটি যে বিকল্প পথ নির্দেশ করেছে, সেই পথ বাদ দিয়ে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা তোলার পথে অগ্রসর হলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।


অন্যদিকে গণসংহতি আন্দোলন (জিএসএ)-এর পক্ষ থেকেও একই দিনে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ মিনার থেকে রাজু ভাস্কর্য চত্বর পর্যন্ত একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলু, নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য তাসলিমা আখতার, সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ রুমী, মনির উদ্দীন পাপ্পুসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।


সমাবেশে গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল প্রাণ-প্রকৃতিকে রক্ষা করা। প্রাণ-প্রকৃতির উপযোগী করে নতুন জ্বালানি নীতি তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, ফুলবাড়ীতে আমিন, তরিকুল, সালেহীন জীবন দিয়ে সেই অঞ্চলের মানুষ, মাটি, পানি ও পুরো প্রকৃতিকে রক্ষা করেছিলেন। ফুলবাড়ীর কয়লা খনিতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের পরিকল্পনা বাংলাদেশের জনগণ গ্রহণ করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না।


গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলু বলেন, বাংলাদেশে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করে জ্বালানি সংকটের দ্রুত সমাধানের কোনো পথ নেই। নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎসকে প্রাধান্য দিয়ে জ্বালানি নীতি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সম্পর্কিত খবর

;