স্টাফ রিপোর্টার: দেশের প্রখ্যাত কবি, লেখক ও একসময়ের তুখোড় সাংবাদিক বিল্লাল বিন কাশেম সোহেল পুনরায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তার এই প্রত্যাবর্তন প্রশাসনিক ও সাহিত্য অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, বহুমাত্রিক প্রতিভা এবং সমাজসচেতন দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তার এই যোগদানকে সংশ্লিষ্ট মহল একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছে। অনেকের মতে, একজন সাহিত্যিক ও অভিজ্ঞ গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে তার উপস্থিতি প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে নতুন গতি ও প্রাণসঞ্চার করবে।
বাংলা সাহিত্যে বিল্লাল বিন কাশেম একটি সুপরিচিত নাম। কবিতা, প্রবন্ধ ও উপন্যাস—সব ক্ষেত্রেই তিনি নিজস্ব স্বতন্ত্র শৈলীতে পাঠকের মন জয় করেছেন। তার লেখায় সমাজের বাস্তবতা, মানুষের আবেগ, প্রেম-বিরহ, দেশপ্রেম এবং সময়ের সংকট গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়।
তার কাব্যগ্রন্থ “অনুরণন” পাঠকমহলে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে। জীবনের সূক্ষ্ম অনুভূতিগুলো তিনি এতে কাব্যিক ভাষায় তুলে ধরেছেন, যা পাঠককে একই সঙ্গে ভাবায় এবং আবেগাপ্লুত করে। অন্যদিকে, তার উপন্যাস “দূরে কোথায়” সমাজের বহুমাত্রিক বাস্তবতা ও সম্পর্কের জটিলতা তুলে ধরে বিশেষভাবে সমাদৃত হয়েছে।
২০০২ সালে সাংবাদিকতা ও লেখালেখির মাধ্যমে তার কর্মজীবনের সূচনা। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, সাপ্তাহিক এবং ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। তার সাংবাদিকতা ছিল অনুসন্ধানী, সাহসী এবং সত্যনিষ্ঠ—যেখানে সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরে জনসচেতনতা তৈরিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
২০১২ সাল থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। এই প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতা তার চিন্তা ও লেখালেখিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
জনসংযোগ প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম জনসাধারণের কাছে তুলে ধরা, ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মসূচির প্রচার, এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ বজায় রাখা। এছাড়াও তিনি আইসিটি, প্রকাশনা এবং বিভিন্ন জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
তার পুনরায় যোগদানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্যপ্রবাহ, জনসম্পৃক্ততা ও প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ব্যক্তিজীবনে বিল্লাল বিন কাশেম একটি সম্মানিত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি মেঝ। তার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবুল কাশেম এবং মাতা মিসেস গুলশান আরা বেগম—দুজনই প্রয়াত।
তার বড় ভাই মোহাম্মদ বিন কাশেম জুয়েল একজন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার। তিনি একটি সংবাদপত্রের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক হিসেবেও কর্মরত আছেন। ছোট ভাই ইলিয়াস বিন কাশেম রাসেল একটি জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেলের নিউজ ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন। ছোট বোন ফারহানা আফরোজ একটি বেসরকারি ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং এক কন্যা সন্তানের জনক। তার কন্যা ফারিহা জাহিন।
সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মতে, তার অভিজ্ঞতা, সততা ও সৃজনশীলতা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বিশেষ করে ধর্মীয় শিক্ষা, সামাজিক সচেতনতা ও জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে তার ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
একই সঙ্গে সাহিত্য অঙ্গনেও তার সক্রিয় উপস্থিতি অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে। নতুন কাব্যগ্রন্থ, প্রবন্ধ ও গবেষণামূলক কাজ নিয়ে তিনি ইতোমধ্যে পরিকল্পনা শুরু করেছেন।
কবি, লেখক, সাংবাদিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা—এই চারটি পরিচয়ের সার্থক সমন্বয়ে বিল্লাল বিন কাশেম এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। ইসলামিক ফাউন্ডেশনে তার এই প্রত্যাবর্তন কেবল একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং সাহিত্য, গণমাধ্যম ও সমাজসেবার এক সেতুবন্ধন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তার এই নতুন যাত্রার সাফল্য সময়ই নির্ধারণ করবে; তবে এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়- তার কলম যেমন সচল, তেমনি সমাজের প্রতি তার দায়বদ্ধতাও অটুট।
বরিশাল অফিস: বরিশালের বানারীপাড়ায় চিকিৎসকের অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার এবং মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়ার অভিযোগে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইএনটি (ENT) বহির্বি ...
নেত্রকোণা প্রতিনিধি: রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ছাড়াই প্রকৃতিতে আপনাআপনি জন্ম নেওয়া অচাষকৃত শাকসবজির পুষ্টি ও ঔষধিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে নেত্রকোণায় ব্যতিক্রমী প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় ...
উজিরপুর প্রতিনিধিঃ বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ধামুড়া-শোলক সড়কে সেতু নির্মাণ কাজ দেড় বছর আগে সম্পন্ন হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। সেই সংযোগ সড়ক নির্মাণকে ঘিরে উঠেছে নানা অভিযোগ। সড় ...
পঞ্চগড় প্রতিনিধি: রাত পোহালেই মেয়ের বিয়ে। বাড়িতে চলছিল ধুমধাম করে বিয়ের আয়োজন। বরযাত্রীদের আপ্যায়নের জন্য গরু জবাইসহ শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। এরই মধ্যে বিদ্যুতের তার সর ...
সব মন্তব্য
No Comments