মোঃ মুনসুর রহমান: সাতক্ষীরা শহরের বসুন্ধরা মাকের্ট মালিকদের নামে জমি অধিগ্রহণ ও জমির অবকাঠামো ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদান স্থগিত চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর ২৬) সকালে দক্ষিণ পলাশপোল নিউ মার্কেট মোড় এলাকার মৃত লূৎফর রহমানের ছেলে মোঃ আলিফ হোসেনের পক্ষে আইনজীবী মোঃ ইয়ারুল ইসলাম বাদী এ রিট পিটিশন দাখিল করেন। যার পিটিশন নং-১২৭৭৮/২০২৬। এরপূর্বে রবিবার (২ আগস্ট ২৬) সকালে একই বিষয়ে মোঃ আলিফ হোসেনসহ ১২ বাদী হয়ে একই এলাকার মৃত আতিয়ার রহমানের ছেলে এমদাদুল হকসহ ২১ জনকে বিবাদী করে যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালত সাতক্ষীরাতে একটি মামলা দায়ের করেন। যার নং-১৮০/২০২৬।
জানা গেছে, পলাশপোল মৌজার অধিগ্রহনকৃত ০.০৫৯০ একর সম্পত্তির ক্ষতিপূরন বাবদ ১,২৪,০০,৬৬৬.০২/= টাকা এবং অধিগ্রহনকৃত জমির উপর নির্মিত অবকাঠামোর ক্ষতিপূরন বাবদ ১২,২৩,৮১,৯০৯.৭৬/= টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার এলএ কেস নং-০৬/২০২৪-২৫। বিবাদীপক্ষ বাদীপক্ষের অধিগ্রহনকৃত ০.০৩৮৬ একর জমির ক্ষতিপূরনের টাকা বাটোয়ারা করে দিতে ইচ্ছুক; তবে তাহারা বাদীপক্ষের অধিগ্রহনকৃত জমির মধ্যে বাদীপক্ষের ভোগ দখলীয় ০.০১৭২ একর জমির উপর নির্মিত ভবন বা দোকানঘর (অবকাঠামো) ক্ষতিপূরনের টাকা ভাগ করে দিতে অনিচ্ছুক।
আরজি সূত্রে জানা গেছে, ‘সাতক্ষীরা-সখিপুর-কালিগঞ্জ (জেড-৭৬০২) মহাসড়ক এবং কালিগঞ্জ-শ্যামনগর-ভেটখালী (জেড-৭৬১৭) মহাসড়ক যথাযথ মানে উন্নীতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের সড়ক সম্প্রসারণ কাজ শুরু হয়েছে। উক্ত সড়ক সম্প্রসারনের কাজের আওতাভুক্ত হয়ে বাদী ও বিবাদীপক্ষের স্বত্ব দখলীয় সাতক্ষীরার ৯৪ নং পলাশপোল মৌজার বিআরএস ৫৯২৬, ৫৯০৫, ৫১৩৪, ৫০১৩, ৪৫৮৭, ২৬১৬, ১৫৩৭, ১৩৫২ খতিয়ানের ১৭০২৮ দাগের মোট ০.৩৭৫০ একর জমির মধ্য থেকে সম্মুখ অংশের ০.০৯১০ একর জমির মধ্য থেকে ০.০৫৯০ একর সম্পত্তি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। অধিগ্রহণকৃত ০.০৫৯০ একর জমির মধ্য থেকে বাদীপক্ষের জমির পরিমান ০.০৩৮৬ একর, বিবাদীপক্ষের জমির পরিমান ০.০১০৮ একর। অবশিষ্ট ০.০০৯৬ একর জমি ৫ শরিকগণের। এই বাদীপক্ষের অধিগ্রহণকৃত ০.০৩৮৬ একর সম্পত্তির মধ্য থেকে ০.০১৪০ একর সম্পত্তিতে থাকা ৩ টি পাকা দোকানঘর রয়েছে এবং বসুন্ধরা টাওয়ারের সম্মুখ অংশে এই বাদীপক্ষের ০.০০৩২ একর জমি রয়েছে।
আরও জানা গেছে, ৯৪ নং পলাশপোল মৌজার বিআরএস ১৭০২৮ দাগের মোট ০.৩৭৫০ শতক জমির মধ্যে ০.০৪৮২ শতক জমির উপর মোঃ আলিফ হোসেনের শরিকগণের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত ৫টি একতলা বিশিষ্ট পাকা দোকান ঘর, ৬ টি টিনশেড ও ১ টি ছাদখোলা দোকানসহ মোট ১২ টি দোকান ঘর বিদ্যমান রয়েছে। উক্ত অবকাঠামোসমূহের তৈরি, রক্ষাণাবেক্ষণ, ভাড়া উত্তোলন এবং ব্যবসায়ী দখলও রয়েছে, সেপ্রেক্ষিতে আইন মোতাবেক উহার ক্ষতিপূরণ পাওয়ার প্রকৃত হকদার বাদীপক্ষ। তবে বাদীপক্ষের শরিকগণের ০.০৪৮২ একর জমির মধ্য থেকে ১ টি ছাদখোলা দোকান বসুন্ধরা মাকের্ট মালিকপক্ষের মৃত আব্দুল মজিদ এর ছেলে বিবাদী ওমর ফারুক দখলে রাখতে উদ্যত হয় এবং ১ টি টিনশেডকৃত দোকান মুজিবর রহমানের মেয়ে বিবাদী মোছাঃ মানছুরা পারভিন জোরপূর্বক দখলে নিয়ে ভাড়া উত্তোলন করেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মোঃ আলিফ হোসেন বলেন, বসুন্ধরা মার্কেট মালিকরা সাতক্ষীরা পৌরসভার নকশা অনুযায়ী বিল্ডিং না করে বিল্ডিং কোড ভঙ্গ করেছে। সাতক্ষীরা পৌরসভার কর্মকর্তারা তাদের বসুন্ধরা মার্কেটের জমি মাপ জরিপ করে বিল্ডিং কোড ভঙ্গের সত্যতা পায়। তবে সাতক্ষীরা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ তাদের বিল্ডিং এর নকশা বাতিল করেনি। এছাড়াও বিল্ডিং কোড ভঙ্গের অভিযোগে বসুন্ধরা মার্কেট মালিকদের নামে মামলাও করেনি সাতক্ষীরা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। তিনি বলেন, সাতক্ষীরা পৌরসভা অনুমোদিত নকশায় বসুন্ধরা মার্কেটের সামনের ফ্রন্ট ২৫ ফুট। বাস্তবে রয়েছে ২৯ ফুট ৪ ইঞ্চি। সেজন্য আমাদের ৫ শরিকের প্রায় ০.০৩০০ একর জমি তাদের মধ্যে ঢুকে গেছে। তিনি আরও বলেন, ৮ থেকে ১০ বছর পূর্বে বসুন্ধরা মার্কেটের ঐ জায়গার উপর আমাদের গাছ-গাছালি লাগানো ছিল। বিবাদীপক্ষ আমাদের শরিকগণের অন্য জায়গা থেকে জমি দিয়েছেন। তবে আমাদের শরিকগনের রেসিও অনুযায়ী জমি দেয়নি। এই জমি এজমালি। এই জমি নিয়ে আমাদের কোনো রেজিষ্ট্রি বন্টননামা নেই। তাই বিবাদীপক্ষ একতরফা ভাবে ঐ জমি দখল দেখিয়ে অধিগ্রহনকৃত জমি ও জমির অবকাঠামো ক্ষতিপূরনের অর্থ তুলতে পারে না।
অপরদিকে অভিযুক্ত বিবাদী দিদারুল হক দিং বলেন , আমাদের এজমালি জমি ১৭০২৮ দাগে মোট ০.৩৭৫০ একর। ঐ জমি আমাদের সমানভাবে আট শরিকের। সেমতে সবাই নিজ নিজ জায়গার উপর ঘরবাড়ি বানিয়ে ভোগ দখল করছি। আমরাও আমাদের ৩ শরিক প্রত্যেকে সামনের অংশে সাড়ে ১৭ ফুট করে পাবে। অর্থাৎ তিনজনে মিলে প্রায় ৫২ ফুট। তবে আমাদের বিল্ডিং এর নকশায় সামনের অংশে রয়েছে মাত্র ২৫ ফুট। তবে এই জমি নিয়ে শরিকগণের মধ্যে কোনো রেজিষ্ট্রি বন্টননামা নাই। এখন রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য জমি অধিগ্রহনের তালিকা করেছে কর্তৃপক্ষ। ঐ তালিকায় আমাদের মার্কেটের একাংশ পড়েছে। এছাড়াও আমাদের অন্যান্য শরিকগণেরও জমি আংশিক করে পড়েছে। সেই তালিকায় আমাদের শরিকগণের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা মূল্যায়ন করা আছে। তবে নোটিশে সবাই জমি ও জমির অবকাঠামো ক্ষতিপূরনের অর্থ একসাথে করাই হয়েছে আমাদের সমস্যা। আমাদের শরিকগণের অনেকে মনে করছে ওরা তো অনেক টাকা পাচ্ছে। ঐ টাকা তুলতে দেওয়া যাবে না। ঐ টাকা আটকে দিতে হবে। আসলে আমরা তো আমাদের অংশের টাকা পাচ্ছি। এতে আমাদের অন্যান্য শরিকগণের তো কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নহে। তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের অংশের জমিতে রয়েছি। শুনেছি আমাদের প্রতিপক্ষরা আদালতের দারস্থ হয়েছে। এতে হয়রানিতে পড়েছি আমরা।
এ সম্পর্কে রিটকারী আইনজীবী মোঃ ইয়ারুল ইসলাম বলেন, আইন সবার জন্য সমান। বিবাদীপক্ষ দ্বারা হয়রানি হইতেছি আমরা। অধিগ্রহনকৃত জমির মধ্যে আমার মক্কেলদের জমি রয়েছে। ঐ জমি বিবাদীপক্ষ জোরপূর্বক দখল দেখিয়ে অধিগ্রহনের অর্থ উত্তোলন করতে উদ্যত। সেজন্য উচ্চ আদালতের দারস্থ হয়েছি। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবে তা মেনে নেবো আমরা। অন্যদিকে বিল্ডিং কোড এর শর্ত ভঙ্গের বিষয়ে সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আলী হায়দার বলেন, নতুন এসেছি। বিষয়টি জানা নাই। আগামীকাল সকাল ১১ টায় ফোনে কল দিয়েন। বিস্তারিত জেনে বলতে পারবো।
বেলাল হোসেন ঠাকুরগাঁও : আইনি সহায়তা সেবা আরও সহজ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করতে ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর সম্ভাবনা নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে আলোচনা ও মতামত গ্রহণ করা হয়েছে। এ সময় লিগ্যাল এইডের বর্তমান সেবা ...
বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি: জামালপুরের বকশীগঞ্জে বিদ্যুতের কাজ করতে গিয়ে প্রাণ গেল ১৬ বছর বয়সী স্কুলছাত্র মো. পারভেজ ইসলামের।বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের আইরমারী নতুনপাড়া এলাকায় ঘটে এ ...
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের সিংড়ায় অবৈধভাবে সার মজুত ও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে চার ব্যবসায়ীকে অর্থ ও কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ২৬১ বস্তা সার জব্দ করা হয়। অভিযানে ...
নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণার মদনে পারিবারিক কলহের জেরে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ছেলের দা-এর আঘাতে এলাহী (৬০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তার ছেলে ইয়াসিনকে (২০) আটক করেছে প ...
সব মন্তব্য
No Comments