আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক

প্রকাশ : 13 Sep 2026
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক

স্টাফ রিপোর্টার: সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ এ তথ্য জানান।


দুদক জানায়, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আগে থেকেই একটি অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। নতুন করে পাওয়া অভিযোগগুলো চলমান অনুসন্ধানের সঙ্গে সংযুক্ত করে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুদকের কাছে জমা পড়া অভিযোগে আর্থিক অনিয়ম ও লেনদেনের অঙ্ক প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 


অভিযোগে বলা হয়েছে, উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সারা দেশে ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ২ থেকে ১০ কোটি টাকা করে লেনদেন এবং ঢাকা উত্তর সিটি, ঢাকা ওয়াসা, এলজিইডি ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে কর্মকর্তা নিয়োগে মোট ১৮৭ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডারে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন নেওয়া এবং ঢাকা দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার বাণিজ্যে সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে। 


এছাড়া গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সেতু নির্মাণ, সায়েদাবাদ পানি শোধনাগারের তৃতীয় পর্যায় এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। তার নিজ উপজেলা কুমিল্লার মুরাদনগরের জন্য গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে অভিযোগপত্রে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে কোটি কোটি টাকা লেনদেন এবং ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আব্দুস সালামকে নিয়োগ দিয়ে ১০ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে। 


বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে বলা হয়েছে, দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এসব অর্থ দিয়ে পর্তুগালে জমি কেনা, দুবাইয়ের গ্রিন গ্রুপে বিনিয়োগ, বিলাসবহুল ভিলা কেনা এবং সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা রাখার অভিযোগ করা হয়েছে। দুদক জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে পর্তুগাল, দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইস ব্যাংকে সম্পদ গড়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 


অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি তার দুই ভগ্নিপতি ও এক ভাগ্নের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি তার বাবা, সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেন ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তার (পিও) বিরুদ্ধেও ঠিকাদারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, ঘুষ লেনদেনে তদবির ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এসেছে। 


দুদক কর্মকর্তা তানজির আহমেদ বলেন, নতুন ও পুরোনো সব অভিযোগ একসঙ্গে যুক্ত করে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। অনুসন্ধান শেষে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এ বিষয়ে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।


সম্পর্কিত খবর

;