তথ্য গোপন করে প্রধান পরীক্ষকের দায়িত্বে বাবা, ছেলে পরীক্ষার্থী

প্রকাশ : 23 May 2026
তথ্য গোপন করে প্রধান পরীক্ষকের দায়িত্বে বাবা, ছেলে পরীক্ষার্থী

রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে নিজের সন্তান এসএসসি পরীক্ষার্থী- এই তথ্য গোপন করে প্রধান পরীক্ষকের দায়িত্ব পালনের অভিযোগ উঠেছে। বোর্ডের নিয়ম নীতি লঙ্ঘন করে তার এই দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে।


অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি এসএসসি পরীক্ষায় মোশাররফ হোসেন বাংলা দ্বিতীয় পত্রের প্রধান পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তার ছেলে এবার পার্বতীপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। 


দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো শিক্ষকের সন্তান বা নিকটাত্মীয় পরীক্ষার্থী হলে তিনি পরীক্ষা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায়িত্বে থাকতে পারেন না। কিন্তু মোশাররফ হোসেন এই নিয়ম অমান্য করে এবং তথ্য গোপন করে প্রধান পরীক্ষকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব লুফে নেন। 


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রধান পরীক্ষকের নিজের সন্তানই যেখানে পরীক্ষার্থী, সেখানে খাতা মূল্যায়নে নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হওয়ার এবং অনৈতিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।


এই বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মোশাররফ হোসেন নিজের সন্তান পরীক্ষার্থী হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমি বিগত ৮ বছর ধরে এই দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমি যথানিয়মে আবেদন করলে শিক্ষা বোর্ড আমাকে দায়িত্ব দেয়। তবে নিয়ম অনুযায়ী এই দায়িত্বে থাকা ঠিক হয়নি। তিনি বলেন অনেকেই তো নিয়ম মেনে থাকে না।


দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. বোরহান উদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পরীক্ষক নিয়োগের সময় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয় যে তাদের কোনো সন্তান বা নিকটাত্মীয় পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে কি না। তথ্য গোপনের বিষয়টি জানতে পেরে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং দ্রুত এই বিষয়ে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন।


এদিকে রানীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ খাদিজা বেগম জানান, শিক্ষা বোর্ড থেকে বিষয়টি তাকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি জানতে পেরেছেন যে, ইতোমধ্যে বোর্ড অভিযুক্ত শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) পাঠিয়েছে। বোর্ডের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।


সম্পর্কিত খবর

;