বোরহান উদ্দীন, জাবি: ২০১২ সালের ৮ জানুয়ারি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইংরেজি বিভাগের স্নাতক শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদকে কুপিয়ে জখম করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পর দিন হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন জুবায়ের। তার হত্যার এক যুগ পার হলেও সাজা হয়নি হত্যাকারীদের।
জুবায়ের পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মদিনাবাগনা বলাপাড়ার তোফায়েল আহমেদের ছেলে। একবুক স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কিন্তু ছাত্রলীগের গ্রুপিংয়ের জেরে হারাতে প্রাণ। এই ঘটনা ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে। একই দিনে
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার হামিদুর রহমান বাদী হয়ে খন্দকার আশিকুল ইসলাম আশিক, রাশেদুল ইসলাম ও খান মো. রইসের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরো ১০-১২ জনকে আসামি করে আশুলিয়া থানায় মামলা করেন।
এরপর ২০১৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জুবায়ের আহমেদ হত্যা মামলায় পাঁচজনকে ফাঁসি ও ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় দুজনকে খালাস দেওয়া হয়।
মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ছাত্র খন্দকার আশিকুল ইসলাম আশিক, খান মো. রইছ ওরফে সোহান, জাহিদ হাসান, দর্শন বিভাগের মো. রাশেদুল ইসলাম রাজু এবং সরকার ও রাজনীতি বিভাগের মাহবুব আকরাম।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় শিক্ষার্থী হলেন, দর্শন বিভাগের অরূপ ও কামরুজ্জামান সোহাগ, প্রাণ রসায়ন বিভাগের নাজমুস সাকিব তপু, পরিসংখ্যান বিভাগের অভিনন্দন কুণ্ডু ও সফিউল আলম সেতু এবং ইতিহাস বিভাগের মাজহারুল ইসলাম। এদের মধ্যে সোহাগ, মাজহারুল, সেতু, অভিনন্দন ও তপু আদালতে রায় ঘোষণার সময় হাজির ছিলেন। পরবর্তীতে এদের কারাগারে পাঠানো হয়।
এর প্রায় দুই সপ্তাহ পর ঢাকার আদালত জামিন নামঞ্জুর করে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দিলে আশিক, আকরাম, অরূপ ও সোহান কাঠগড়া থেকে পালিয়ে যান। তখন থেকে পলাতক রয়েছেন তারা।
২০১৬ সালের ১৩ ডিসেম্বর জুবায়ের হত্যার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক খান মোহাম্মদ রইস ওরফে সোহান ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন, “আমি পাখির মত মুক্ত… এখন আমি উড়তে পারি…”
ফেসবুকের কল্যাণে জানা যায় তারা পালিয়ে মালয়েশিয়ার জেনটিং হাইল্যান্ডসে অবস্থান নিয়েছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে রাজু ও জাহিদ সেদিন আদালতে হাজির হননি। রাজু পরবর্তীতে আত্মসমর্পণ করলেও জাহিদ এখনো পর্যন্ত পলাতক রয়েছেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার পর ২০১৮ সালে পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং দুজনের যাবজ্জীবন সাজা বহাল রাখে হাইকোর্ট। বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন সাজার রায় পাওয়া ছয় আসামির মধ্যে বাকি চারজন আপিল করে খালাস পেয়ে যান।
খালাসপ্রাপ্তরা হলেন- প্রাণিবিদ্যা বিভাগের কামরুজ্জামান সোহাগ, পরিসংখ্যান বিভাগের মাজহারুল ইসলাম, শফিউল আলম সেতুও অভিনন্দন কুণ্ডু অভি।
ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি অমর্ত্য রায় বলেন, হত্যার একযুগ অতিবাহিত হওয়ার পরেও বিচার কার্যকর না হওয়া নিঃসন্দেহে প্রশাসনের ব্যর্থতা। আদালতের ভেতর থেকে প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া পালিয়ে যাওয়া প্রায় অকল্পনীয়। ক্ষমতাসীন সরকারের সহযোগিতা পায় বলেই আসামিরা এখনো পর্যন্ত বিদেশে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যতদিন পর্যন্ত বিচার কার্যকর না হবে আমরা আমাদের আন্দোলন অব্যহত রাখব।
রাহাদ সুমন, বিশেষ প্রতিনিধি: খেলোয়াড় ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে, দায়িত্বে অবহেলায় সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের উপ-পরিচালক সেলিনা বেগম। রব ...
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর তা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। রবিবার সকালে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের ...
স্টাফ রিপোর্টার: উচ্চশিক্ষা ও বিদেশে কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখিয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অভিযোগকারীদে ...
ডেস্ক রিপোর্ট: আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকে দীর্ঘদিনের বিচ্যুতি ও একপেশে ইতিহাস সংশোধন করে প্রকৃত সত্য তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর ...
সব মন্তব্য
No Comments