ববি'র বেপরোয়া কর্মকর্তা সেলিনা বেগমকে সাময়িক বরখাস্ত

প্রকাশ : 17 May 2026
ববি'র বেপরোয়া কর্মকর্তা সেলিনা বেগমকে সাময়িক বরখাস্ত

রাহাদ সুমন, বিশেষ প্রতিনিধি: খেলোয়াড় ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে, দায়িত্বে অবহেলায় সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের উপ-পরিচালক সেলিনা বেগম।

 

রবিবার (১৭ মে)  বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. হুমায়ুন কবীর স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আদেশে বলা হয়েছে, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও কেন্দ্রীয় ফুটবল টিমের খেলোয়ারদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা- ২০১৮ এর অনুচ্ছেদ ২ (খ) এর (আ) মোতাবেক তার কর্তব্য অবহেলার বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্তের লক্ষ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ধারা ৪৪ এর (৬) মোতাবেক তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে সাময়িকভাবে বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি মোতাবেক খোরাকীভাতা পাবেন।


তবে খেলোয়াড় ও শিক্ষার্থীদের দাবি তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টিমের অধিনায়ক মো. রুবেল বলেন, সেলিনা বেগমের অসহোযোগিতা ও অবহেলার কারণে আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় গিয়েও খেলতে না পেরে ফিরে এসেছি। সে আমাদের কাগজপত্রে সিল দেয়নি, বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা দেয়নি, সে নিজেও যায়নি বা দায়িত্বশীল কাউকে পাঠায়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আমাদের ম্যাচ ছিল। উল্টো শারীরিক শিক্ষা দপ্তর থেকে ঢাবিকে জানানো হয়েছে, আমাদের মাঝে অনেকে শিক্ষার্থী নয়; বিকেএসপির খেলোয়াড় আছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও খেলতে পারিনি। তাকে আর কোনোভাবেই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে রাখা যাবে না। 


তিনি আরও বলেন, সেলিনা বেগম সব সময়েই আলোচনা-সমালোচনায় থাকেন। কখনো তিনি যৌণ হয়রানীর আবেদন করে, আবার মদ পান করে, কখনো আবার প্রকাশ্যে মাদক ও ধুমপান করে। ইতোমধ্যে তার একাধিক অশ্লীল ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে। এছাড়াও সেলিনা বেগমের বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে, সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, ব্ল্যাকমেইল ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।


লালমনিরহাটের এক কালচারাল কর্মকর্তাকে অফিসকক্ষে আটকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সেই কর্মকর্তার সাইবার ক্রাইমের মামলায় আদালত গত ২৯ জানুয়ারি সেলিনা বেগমের জামিন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠায়। পরে তিনি জামিনে মুক্ত হন।


তিনি (সেলিনা বেগম) ২০১৮ সালে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌণ হয়রানির অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে সাময়িক শাস্তিও পেয়েছিলেন সাবেক ওই রেজিস্টার।


এরপূর্বে কয়েক বছর আগে সেলিনা বেগমের দায়ের করা যৌণ হয়রানির মামলায় চাকরিচ্যুত হয়েছেন বরিশালের পুলিশ সুপার। সেলিনার বিরুদ্ধে মারধর, শ্লীলতাহানি ও চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মির্জাগঞ্জের সুবিদখালীর কমলচন্দ্র হাওলাদার বাদি হয়ে মির্জাগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছিল (মামলা নম্বর -১/১৭)।


উল্লেখিত অভিযোগের ব্যাপরে জানতে সদ্য সাময়িক বরখাস্ত হওয়া বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের উপ-পরিচালক সেলিনা বেগমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সম্পর্কিত খবর

;