স্টাফ রিপোর্টার: উচ্চশিক্ষা ও বিদেশে কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখিয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও চাকরির নিশ্চয়তার কথা বলে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরতের জোর দাবি জানানো হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ), সেগুনবাগিচা মিলনায়তনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতিনিধিরা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিতরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রতিশ্রুতি, সময়ক্ষেপণ এবং হয়রানির শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত গণমাধ্যমের সামনে নিজেদের দুর্দশার কথা তুলে ধরতে বাধ্য হয়েছেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, বিদেশে উচ্চশিক্ষা, স্কলারশিপ এবং স্থায়ী চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়া হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি। বরং দীর্ঘসূত্রতা, মিথ্যা আশ্বাস এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার মাধ্যমে বহু পরিবার আর্থিক ও মানসিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বলে দাবি করা হয়।
‘প্রতারণার সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক’ অভিযোগ
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও নেটওয়ার্কের কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তি ও সহযোগী মিলে একটি সুসংগঠিত প্রতারণা চক্র পরিচালনা করেছে। তাদের দাবি, বিভিন্ন সময়ে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষা ও চাকরির সুযোগের বিজ্ঞাপন দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং সরাসরি প্রচারণার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অনেক শিক্ষার্থী ও পরিবার ভবিষ্যতের স্বপ্ন পূরণের আশায় ব্যাংক ঋণ নিয়েছে, জমি বিক্রি করেছে, এমনকি পারিবারিক সঞ্চয় পর্যন্ত ব্যয় করেছে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় তারা এখন দিশেহারা অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, শুরুতে দ্রুত ভিসা প্রসেসিং, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, চাকরির নিশ্চয়তা এবং বিদেশে নিরাপদ স্থাপনের আশ্বাস দেওয়া হলেও পরবর্তীতে বারবার নতুন অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে। কেউ কেউ বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে যেতে পারেননি।
ভুক্তভোগীদের ওপর ‘হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের’ অভিযোগ
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও অভিযোগ করা হয়, ক্ষতিগ্রস্তরা যখন অর্থ ফেরত চেয়ে চাপ প্রয়োগ করেন, তখন কিছু ক্ষেত্রে তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। এমনকি এক পর্যায়ে কয়েকশ শিক্ষার্থীকে একটি অফিসে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা এবং তাদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ তোলা হয়।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত বছরের একটি ঘটনায় অর্থ ফেরতের দাবিতে যাওয়া কয়েকশ শিক্ষার্থীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একটি অফিসে আটকে রেখে তাদের ওপর সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালানো হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়। ভুক্তভোগীরা জানান, এ ধরনের ঘটনায় তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এবং অনেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
আর্থিক ও সামাজিক বিপর্যয়
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের দাবি, এই ঘটনার কারণে বহু পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ভেঙে পড়েছে। সন্তানদের বিদেশে পাঠানোর আশায় অনেকে ঋণের বোঝা কাঁধে নিয়েছেন। কেউ কেউ বাড়ি-জমি বিক্রি করে সর্বস্বান্ত হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, সামাজিক ও মানসিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম সংকটে রয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষাজীবনে পিছিয়ে পড়েছে, হতাশায় ভুগছে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে কয়েকটি দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচার, আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধার করে ক্ষতিগ্রস্তদের ফেরত প্রদান, এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
তারা আরও জানান, এই সংকট সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের জন্য তারা একটি প্রতিনিধিদল গঠনের প্রস্তাব করেছেন। একই সঙ্গে বিদেশে শিক্ষা ও চাকরির নামে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে কঠোর নজরদারি বাড়ানোরও আহ্বান জানানো হয়।
বিশেষজ্ঞদের মত: যাচাই ছাড়া অর্থ লেনদেন ঝুঁকিপূর্ণ
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশে শিক্ষা ও চাকরির নামে প্রতারণার ঘটনা নতুন নয়। অনেক প্রতিষ্ঠান উচ্চ বেতনের চাকরি, দ্রুত ভিসা কিংবা নিশ্চিত স্থায়ী বসবাসের প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল অর্থ আদায় করে থাকে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো আর্থিক লেনদেন না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলেন, কোনো শিক্ষা কনসালটেন্সি বা রিক্রুটিং প্রতিষ্ঠানের বৈধতা, সরকারি অনুমোদন, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি এবং পূর্ববর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রতিটি আর্থিক লেনদেনের লিখিত প্রমাণ সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনে আইনি সহায়তা নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
ডেস্ক রিপোর্ট: আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকে দীর্ঘদিনের বিচ্যুতি ও একপেশে ইতিহাস সংশোধন করে প্রকৃত সত্য তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর ...
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর নতুন ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে যোগদান করেছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. একরামুল হক। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর-এঁর অনুমো ...
স্টাফ রিপোর্টার; পূর্নাঙ্গ উৎসব ভাতা প্রদান ও মাদ্রাসাসহ সকল শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের লক্ষ্যে আসন্ন বাজেটে শিক্ষাখাতে জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ মাদরাসা জেনারেল টিচার্স ...
রাহাদ সুমন, বিশেষ প্রতিনিধি: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) নতুন উপাচার্যের (ভিসি) দায়িত্ব পেয়েছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশানোগ্রাফি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মামুন-অর রশিদ। ব ...
সব মন্তব্য
No Comments