জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রীতিলতা হলের এক নারী শিক্ষার্থীর রুমে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে হল প্রশাসনের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী ঐ শিক্ষার্থী কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৭ তম শাহরিন খান।
জানা যায়, রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯ টায় প্রীতিলতা হলে শাহরিন খানের রুমে বিনা অনুমতিতেই প্রশাসন কর্তৃক একজন পুরুষ ৪৬ ব্যাচের অছাত্র অনুসন্ধান করার সময় ভুক্তভোগীর রুমে বিনা অনুমতিতেই দরজা খুলে প্রবেশ করেন। এরপর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী হল প্রশাসনকে বিনা অনুমতিতে পুরুষ স্টাফ নিয়ে রুমে আসার কারণ জিজ্ঞেস করায় তার সাথে তারা খারাপ ব্যাবহার করে এবং তার সার্টিফিকেট স্থগিত করার হুমকি দেয়।
ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি প্রীতিলতা হলের একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী। দুই সিটের রুমে থাকে ও তার রুমমেটও ৪৭ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী বলেন, বেশ কয়েকদিন থেকে হলের অবস্থা প্রচন্ড নাজুক। রাত ১০ টা থেকে এক প্রকার প্রহসন ই বলা চলে চলছে। ৫২ কে সিটে উঠানো, তিন সিটের রুম কে চার সিট বানানো, ৪৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের রেজাল্টের আগেই বের করে দেয়া ইত্যাদি।
তিনি আরোও বলেন, মেয়েদের হলে স্বভাবতই দরজা চাপানো থাকে। ছিটকিনি আটকানো হয় না। আমি পূর্ণ পর্দা বলতে যা বুঝায় না করলেও আমি হিজাব করি এবং পা ঢেকে চলি। ১০ টা থেকে আমার হল ৫-৭ জন পুরুষ দিয়ে ভরে যায় এবং বেল দুইটা থাকায় উনারা ছড়িয়ে গেলে সব জায়গায় বেল বাজানো পসিবল হয় না। কাল রাতে আমি আমার কম্ফোর্ট মত ড্রেস পরে পড়ার টেবিলে যখন নিজের মত বসে ছিলাম তখনি হুট করে দরজা খুলে এক পুরুষ বলে উঠে তোমার রুমে ৪৬ কেউ আছে? আমি সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত ছিলাম। এবং এটা আমার জন্য প্রচুর অস্বস্তিকর। কারণ আমি ব্যক্তিগতভাবে পর্দা মেনে চলি।
এছাড়াও প্রচন্ড ঘন্টার শব্দ, তালা ভাঙ্গার শব্দ এবং তাদের চিৎকার আমাদের আরোএস ও অস্বস্তিতে ফেলে দেয়। এবং ওয়াশরুম বা রুম থেকে বের হতে হলেও প্রতিবার এতরাতে হিজাব এবং মোজা পড়া বিরক্তিকর। এক পর্যায়ে আমি বিরক্ত হয়ে বাইরে গিয়ে বলি যে প্রতিরাতে এতজন পুরুষ আসা অত্যন্ত আনকম্ফোর্টেবল। শুধু এই কথা বলায় প্রায় ১২ জন মত পুরুষ এবং মহিলা শিক্ষক তেড়ে আসে। এবং আমাকে বেয়াদব মেয়ে বলে আরও জঘন্য রকম অপমান করে, আমার আইডেন্টিটি নোট করে, এবং চার্জ করে যে আমি কেন পুরুষ বললাম। কাদেরকে পুরুষ সম্বোধন করলাম। এত সাহস কিভাবে হয়। উনারা যেতে যেতে আমি শুনতে পাই যে বলছেন আমার ফাইল সাইন করবেন না কে করে দেখে নিবেন এবং মাস্টার্সের রেজাল্ট কিভাবে বের হয় দেখে নিবেন।
ঐ হলের আর এক শিক্ষার্থী আয়শা সিদ্দিকা বলেন, হল প্রশাসন বিনা অনুমতিতে মেয়েদের রুমে প্রবেশ করে যা সমীচীন নয়। এই বিষয়টি আমাদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে।
এছাড়াও জানা যায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি ফেসবুক গ্রুপে এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট করলে চাপ প্রয়োগ করে তা সরিয়ে ফেলতে বাধ্য করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জহিরুল ইসলাম কে ফোন করা হলে তিনি মুঠোফোনে বক্তব্য দিতে পারবেন না বলে জানান।
সার্বিক বিষয়ে প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নিগার সুলতানা কে একাধিকবার ফোন করা হলেও সাড়া পওয়া যায়নি
রাহাদ সুমন, বিশেষ প্রতিনিধি: খেলোয়াড় ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে, দায়িত্বে অবহেলায় সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের উপ-পরিচালক সেলিনা বেগম। রব ...
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর তা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। রবিবার সকালে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের ...
স্টাফ রিপোর্টার: উচ্চশিক্ষা ও বিদেশে কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখিয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অভিযোগকারীদে ...
ডেস্ক রিপোর্ট: আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকে দীর্ঘদিনের বিচ্যুতি ও একপেশে ইতিহাস সংশোধন করে প্রকৃত সত্য তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর ...
সব মন্তব্য
No Comments