প্যাকেটজাত খাবারে সহজ লেবেল চায় তরুণরা

প্রকাশ : 17 May 2026
প্যাকেটজাত খাবারে সহজ লেবেল চায় তরুণরা

স্টাফ রিপোর্টার: স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে দেশে ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং (এফওপিএল) নীতি দ্রুত বাস্তবায়ন এবং প্যাকেটজাত খাবারের মোড়কে সহজবোধ্য পুষ্টি তথ্য নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে তরুণরা।


রবিবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ‘ভবিষ্যতের তরুণদের ক্ষমতায়ন: সুস্থ খাদ্যাভ্যাস, প্যাকেটজাত খাবারের লেবেলিং সম্পর্কে ধারণা এবং এফওপিএল নীতি সমর্থন’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালায় এ দাবি জানানো হয়। গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের কারিগরি সহযোগিতায় কর্মশালাটির আয়োজন করে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন।


কর্মশালায় বক্তারা জানান, বিশ্বের ৫৪টি দেশে বিভিন্ন ধরনের এফওপিএল চালু রয়েছে, যার মধ্যে ১০টি দেশে এটি বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশে ৯৭ শতাংশ মানুষ সপ্তাহে অন্তত একবার প্যাকেটজাত খাবার গ্রহণ করেন। এসব খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ, স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ট্রান্স-ফ্যাট থাকায় ৩০ থেকে ৭০ বছর বয়সীদের অসংক্রামক রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি ১৯ শতাংশ।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৭১ শতাংশ মৃত্যুর কারণ হৃদরোগ, ক্যান্সার, ডায়াবেটিসের মতো অসংক্রামক ব্যাধি।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, “প্যাকেটজাত খাবার ও বর্তমান জীবনযাত্রার সঙ্গে অসংক্রামক রোগে মৃত্যুর সম্পর্ক রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি ৩.৪ অর্জন করতে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তরুণদের এফওপিএল সম্পর্কে সচেতন করে সুস্থ জাতি গঠন সম্ভব।”


বিশেষ অতিথি গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, “প্রক্রিয়াজাত খাবারের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে অসংক্রামক রোগে মৃত্যুর হারও বাড়ছে। তাই নিজেদের সচেতন হওয়া ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারায় ফেরা যুবসমাজের প্রথম কাজ।”


ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. এস এম খলিলুর রহমান বলেন, “দেশের অনেক প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে বিদেশে পণ্য রফতানি করে লাভবান হচ্ছে। স্বাস্থ্যকর প্যাকেটজাত খাবার সরবরাহের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার পাশাপাশি দেশের মানুষের সুস্থতাও নিশ্চিত করা যায়।”


স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের উপ-পরিচালক মোখলেছুর রহমান বলেন, “অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও মোড়কজাত খাবারের প্রতি তরুণদের আগ্রহ বাড়ার এই সময়ে তাদের জ্ঞান ও সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”


ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি প্রফেসর ড. গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য ও এফওপিএল সম্পর্কে তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নেতৃত্ব গঠনের ধারণা দেওয়া হয়।


সেশন পরিচালনা করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের প্রকল্প সমন্বয়কারী মাহবুবা রহমান এবং আহ্ছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িংয়ের কো-অর্ডিনেটর মারজানা মুনতাহা।


সম্পর্কিত খবর

;