আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ বন্ধের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। হোয়াইট হাউস মনে করছে, এক পৃষ্ঠার একটি সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার অবসান হতে পারে। এর পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার কাঠামোও তৈরি করা হবে। বুধবার ৬ মে সংবাদমাধ্যম এক্সিওস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
দুই পক্ষ সমঝোতা স্মারকে রাজি হলে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দেবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। জব্দ থাকা বিলিয়ন ডলার ছেড়ে দেবে এবং নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে। অপরদিকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে দেওয়া বিধিনিষেধ তুলে নেবে। তবে এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সম্মতি আসেনি। যুদ্ধ শুরুর পর বিভিন্ন ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে যে মতানৈক্য ছিল, তা এখন অনেকটাই কমেছে। এক্সিওস বলছে, বর্তমান অবস্থা সবচেয়ে নিকটতম পর্যায়ে রয়েছে।
সমঝোতা স্মারকে থাকা শর্তগুলো বাস্তবায়ন একটি চূড়ান্ত চুক্তির ওপর নির্ভর করবে। ফলে যুদ্ধ আবার শুরু হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অথবা বর্তমান পরিস্থিতি আরও দীর্ঘ হতে পারে। তখন বড় ধরনের হামলা বা পাল্টা হামলা না হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান আসবে না। মার্কিন কর্মকর্তারা এক্সিওসকে জানিয়েছেন, ইরানের নেতৃত্বে বিভক্তি রয়েছে। ফলে সবাই একমত হওয়া কঠিন। প্রাথমিক চুক্তিও না হতে পারে বলে তাদের সন্দেহ রয়েছে।
এক পৃষ্ঠার ওই সমঝোতা স্মারকে ১৪টি দফা আছে। এসব নিয়ে ইরানের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ ও জার্ড ক্রুসনার। দুজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় ট্রাম্প হরমুজে নতুন অভিযানের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন।
এক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, সমঝোতা স্মারকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের ঘোষণা থাকবে। এরপর ৩০ দিনের সময়সীমা শুরু হবে। এ সময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। আলোচনার স্থান হতে পারে পাকিস্তানের ইসলামাবাদ অথবা সুইজারল্যান্ডের জেনেভা।
আলোচনা চলাকালে ধাপে ধাপে ইরান হরমুজ থেকে বিধিনিষেধ তুলে নেবে। যুক্তরাষ্ট্রও ধাপে ধাপে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং ইরানের আটকে থাকা অর্থ ছেড়ে দেবে। আলোচনা ভেস্তে গেলে যুক্তরাষ্ট্র আবার নৌ অবরোধ আরোপ ও সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারবে।
ইরান কত বছর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখবে তা নিয়েও আলোচনা চলছে। বর্তমানে ১২ বছরের প্রস্তাব আছে, যা ১৫ বছর পর্যন্ত বাড়তে পারে। আগে যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের কথা বলেছিল। আর ইরান ৫ বছরের প্রস্তাব দিয়েছিল। এর সঙ্গে ইরান প্রতিশ্রুতি দেবে যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম বন্ধের বিষয়টিও সমঝোতা স্মারকে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ইরানকে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থাকে পরিদর্শনের সুযোগ দিতে হবে।
ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোথায় রাখা হবে, তা নিয়েও কথা হচ্ছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এসব ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে বহুল আলোচিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ১৪ মে সকালে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দুই পরাশক্তির মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে বেইজিং পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এএফপি জানিয়েছে, ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব ইরানের ভূখণ্ডে গোপন সামরিক হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই পশ্চিমা ও দুই ইরানি কর্মকর্তা। বুধবার আন্তর্জাতিক সংবা ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রবল ঝড় ও ভারী বৃষ্টির মধ্যে দেওয়াল ধসে পড়ে মার্গুদেবী মন্দিরে প্রাণ হারালেন ৬ জন ভক্ত। আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার, ১২ মে সন্ধ্যায়, সাঙ্গলি জেলার মোদেওয়াড়ি গ্রামে। ...
সব মন্তব্য
No Comments