ফরিদপুর-রাজবাড়ী সীমান্তে অজ্ঞাত নারী ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ : 14 May 2026
ফরিদপুর-রাজবাড়ী সীমান্তে অজ্ঞাত নারী ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার

অনিক রায়,ফরিদপুর অফিস: ফরিদপুর ও রাজবাড়ী জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী ও এক শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয়দের ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলার বগেরটিলা এবং ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সীমান্তসংলগ্ন ইখলাস মাতুব্বরের কলাবাগান এলাকা থেকে পুলিশ মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকার বাসিন্দা কুলসুম বেগম নামের এক নারী ছাগল চরাতে গিয়ে কলাবাগানের পাশে একটি কুকুরকে অস্বাভাবিকভাবে মাটি খুঁড়তে দেখেন। বিষয়টি তার সন্দেহ হলে তিনি কাছে গিয়ে দুর্গন্ধ অনুভব করেন। এরপর মাটির সামান্য অংশ সরালে সেখানে মানুষের পায়ের গোড়ালির অংশ দেখা যায়। এতে তিনি ভীত হয়ে দ্রুত স্থানীয়দের বিষয়টি জানান।


স্থানীয়রা পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং সঙ্গে সঙ্গে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ ও ফরিদপুর সদর থানা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে দুই থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাটি খুঁড়ে এক নারী ও এক শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতদের মধ্যে নারীটির বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর এবং শিশুটির বয়স প্রায় ৪ বছর বলে ধারণা করা হচ্ছে।


গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম জানান, মরদেহ দুটি ফরিদপুর জেলার সীমানার ভেতরে উদ্ধার করা হলেও এটি সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশও বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি আরও বলেন, মরদেহ দুটি ফরিদপুর সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া তারাই সম্পন্ন করবে।


এদিকে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন নিশ্চিত করে বলেন, এখন পর্যন্ত নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে পুলিশি তদন্ত চলছে। পাশাপাশি এটি হত্যাকাণ্ড কিনা, সে বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সম্পর্কিত খবর

;