বেইজিংয়ে ট্রাম্প-শি বৈঠক অনুষ্ঠিত

প্রকাশ : 14 May 2026
বেইজিংয়ে ট্রাম্প-শি বৈঠক অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে বহুল আলোচিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ১৪ মে সকালে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বৈঠকটি শুরু হয়। ২০১৭ সালের পর এটিই কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম চীন সফর। বৈঠক শুরুর আগে গ্রেট হল অব দ্য পিপলের বাইরে শি জিনপিং ট্রাম্পকে অভ্যর্থনা জানান। সুসজ্জিত সামরিক ব্যান্ড, মার্চিং ইউনিট এবং দুই দেশের পতাকা হাতে শিশুদের উপস্থিতিতে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ট্রাম্পকে স্বাগত জানানো হয়। 


বৈঠকের শুরুতেই দুই নেতা ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। শি জিনপিং বলেন, “একটি স্থিতিশীল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিশ্বের জন্য মঙ্গলজনক। আমাদের একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার হওয়া উচিত।” জবাবে ট্রাম্প বলেন, “চিন ও আমেরিকার সম্পর্ক আগের থেকে অনেক ভালো হয়েছে। আমরা একসঙ্গে এক চমৎকার ভবিষ্যৎ গড়তে চলেছি। চিন যে কাজ করেছে, তার জন্য আমার অত্যন্ত শ্রদ্ধা রয়েছে। আপনি একজন মহান নেতা।” তিনি আরও বলেন, “আপনাদের সঙ্গে থাকতে পারাটা সম্মানের। চিন ও আমেরিকার মধ্যে সম্পর্ক আরও ভালো হতে চলেছে। আমাদের মধ্যে খুব ভালো বোঝাপড়া রয়েছে। যখনই কোনও অসুবিধা হয়েছে, আমরা তার সমাধান করে নিয়েছি।” 


এই বৈঠক প্রথমে মার্চের শেষ অথবা এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে হওয়ার কথা ছিল। তবে ইরান পরিস্থিতির কারণে তা পিছিয়ে যায়। পরে ১৩ থেকে ১৫ মে তিন দিনের চীন সফর নির্ধারণ করা হয়। সোমবার চীন আনুষ্ঠানিকভাবে সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করে। শেষবার কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট চীনে গিয়েছিলেন ৯ বছর আগে। তাই এবারের সফরকে কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। 


বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, ইরান পরিস্থিতি এবং দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আকর্ষণীয় নৈশভোজ ও আনুষ্ঠানিকতার বাইরে গিয়ে দুটি দেশই বিশ্ব ক্ষমতার মানচিত্রে নিজেদের আলাদা জায়গা তৈরি করতে চাইবে। ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে এ নিয়ে ছয়টি বৈঠক হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি চীনের নেতাদের কৌশল এখন আগের চেয়ে ভালো বোঝেন। 


বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক মহল এই বৈঠকের দিকে নজর রাখছে। এটি দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন পথ দেখাবে, নাকি বোঝাপড়াভিত্তিক সংঘাত আরও বাড়াবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। 


সম্পর্কিত খবর

;