স্কুল শিক্ষককে পাইপ দিয়ে আঘাতের অভিযোগ পুলিশের এএসআইয়ের বিরুদ্ধে

প্রকাশ : 16 Aug 2026
স্কুল শিক্ষককে পাইপ দিয়ে আঘাতের অভিযোগ পুলিশের এএসআইয়ের বিরুদ্ধে

বিশেষ প্রতিনিধি, নরসিংদী: নরসিংদীর মনোহরদীতে এক স্কুলশিক্ষককে গ্রেফতারের পর লোহার পাইপ দিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিক্ষক খুরশীদ আলমের অভিযোগ, মনোহরদী থানার রামপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই সোহেল রানা তাকে লোহার পাইপ দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে তার বাম হাতের হাড় ভেঙে দ্বিখণ্ডিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।


ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে অভিযোগের বিষয়ে এএসআই সোহেল রানার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


জানা গেছে, অর্থসংকট ও শারীরিক অসুস্থতাসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজিরা দিতে পারেননি শিক্ষক খুরশীদ আলম। এ ঘটনায় নরসিংদীর আদালতে দায়ের করা একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। ওই পরোয়ানার ভিত্তিতে ২৫ জুলাই সকালে এএসআই সোহেল রানা তাকে গ্রেফতার করেন বলে অভিযোগ করেন শিক্ষক।


শিক্ষকের অভিযোগ, গ্রেফতারের পর তাকে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নেওয়ার পথে মামলার বাদীপক্ষের কাছ থেকে এএসআই সোহেল রানা মোটা অঙ্কের টাকা গ্রহণ করেন। এরপর বাদীপক্ষের কথায় প্রভাবিত হয়ে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। পরে তাকে রামপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার পাইপ দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।


এ সময় তার বাম হাতে গুরুতর আঘাত লাগে এবং হাতের হাড় ভেঙে যায় বলে দাবি করেন খুরশীদ আলম। ঘটনার পর তিনি চিকিৎসা নেন বলেও জানা গেছে।


এ ঘটনায় গত ২ আগস্ট নরসিংদীর আদালতে এএসআই সোহেল রানাসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক খুরশীদ আলম। মামলাটি বর্তমানে মনোহরদী থানার ওসির তত্ত্বাবধানে তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।


অন্যদিকে, শিক্ষক খুরশীদ আলমের দায়ের করা আরেকটি মামলায় রহিমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় নরসিংদীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।


ভুক্তভোগী শিক্ষকের অভিযোগ, তাকে গ্রেফতারের পর মারধরের ঘটনায় পুলিশ সদস্যের ভূমিকা এবং মামলার বাদীপক্ষের সঙ্গে তার কথিত আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।


এদিকে পুলিশের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে একজন শিক্ষককে গ্রেফতারের পর শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও তার স্বজনরা।


তবে অভিযোগের বিষয়ে এএসআই সোহেল রানার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

সম্পর্কিত খবর

;