দ্বিতীয় বিয়ে করতে স্ত্রীর অনুমতি লাগবেনা: হাইকোর্ট

প্রকাশ : 11 Jan 2026
দ্বিতীয় বিয়ে করতে স্ত্রীর অনুমতি লাগবেনা: হাইকোর্ট

স্টাফ রিপোর্টার: মুসলিম পারিবারিক আইনের ব্যাখ্যায় গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এক রায়ে আদালত স্পষ্ট করেছেন, বাংলাদেশের কোনো মুসলিম পুরুষের দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর পূর্বানুমতি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। শনিবার (১০ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত ২৪ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়।


রায়ে বলা হয়, ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ অনুযায়ী দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর লিখিত বা মৌখিক সম্মতির কথা আইনে কোথাও সরাসরি উল্লেখ নেই। বরং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে আরবিট্রেশন কাউন্সিলের। স্বামী দ্বিতীয় বিয়ের আবেদন করলে পারিবারিক পরিস্থিতি, কারণ ও ন্যায্যতা বিবেচনা করে কাউন্সিল অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করতে পারে।


আদালত আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক ও সামাজিক পর্যায়ে ‘প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা অপরাধ’—এমন একটি ধারণা প্রচলিত থাকলেও তা আইনের সঠিক ব্যাখ্যার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো নির্বিচারে বহুবিবাহ নিরুৎসাহিত করা এবং পারিবারিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।


তবে হাইকোর্ট এটিও উল্লেখ করেন, আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। অর্থাৎ, স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক না হলেও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা আবশ্যক।


আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ রায়ের মাধ্যমে মুসলিম পারিবারিক আইনের একটি দীর্ঘদিনের বিতর্কিত বিষয় স্পষ্ট হলো। একই সঙ্গে এটি সামাজিক বাস্তবতা, নৈতিকতা ও নারীর অধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করবে।


রায় প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে আইনের সঠিক ব্যাখ্যা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ নারীর অধিকার সুরক্ষার প্রশ্ন তুলছেন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ভবিষ্যতে এ রায়ের প্রভাব পারিবারিক মামলা ও আইন প্রয়োগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সম্পর্কিত খবর

;