ডেস্ক রিপোর্ট: সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে আজ নিউজিল্যান্ডের কাছে ৫২ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। ৪ ওভার করে প্যাটেল ১৬ রানে ৪টি ও ম্যাককঞ্চি ১৫ ৩টি উইকেট নেন।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১২৮ রান করে নিউজিল্যান্ড। জবাবে ৭৬ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। এই জয়ে সিরিজে ব্যবধান কমালো নিউজিল্যান্ড। তবে এখনো ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে বাংলাদেশ।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস করতে নেমেই অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। এটি ছিলো তার শততম টি-টুয়েন্টি ম্যাচ। তবে এমন ম্যাচে টস ভাগ্যে জিততে পারেননি মাহমুদুল্লাহ। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্বান্ত নেয় নিউজিল্যান্ড।
করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হয়ে এ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস শুরু করেন ফিন অ্যালেন। উদ্বোধনী জুটিতে অ্যালেনের সঙ্গী ছিলেন রাচিন রবীন্দ্র। ইনিংসের প্রথম ওভার করতে আসেন বাংলাদেশের স্পিনার মাহেদি হাসান। অ্যালেনের দুই বাউন্ডারিতে প্রথম ওভারে ১১ রান পায় নিউজিল্যান্ড।
স্পিনার নাসুম আহমেদের করা দ্বিতীয় ওভারে আরও একটি চার মারেন অ্যালেন। প্রথম দুই ওভারে মাহেদি ও নাসুমকে স্বাচ্ছেন্দ্যে খেলায়, তৃতীয় ওভারেই পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আক্রমনে আনেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ।
অধিনায়কের সিদ্বান্তকে সঠিক প্রমান করেন মুস্তাফিজ। প্রথম বলেই অ্যালেনকে বিদায় দেন ফিজ। মিড-অনে মাহমুদুল্লাহকে ক্যাচ দেন ১০ বলে ১৫ রান করা অ্যালেন। মুস্তাফিজের ওভারটি ছিল এক উইকেটসহ মেডেন।
অ্যালেন ফিরে গেলেও রানের চাকা সচল রাখেন রবীন্দ্র ও উইল ইয়ং। সাকিবের প্রথম ওভারে দু’টি বাউন্ডারি আদায় করে ইয়ং। পাওয়ার-প্লেতে স্বাচ্ছেন্দ্যে ব্যাট করে দলের স্কোর ৪০-এ নেন রবীন্দ্র-ইয়ং জুটি।
ইনিংসের সপ্তম ওভারে প্রথমবারের মত আক্রমনে এসে চমক দেখান মিডিয়াম পেসার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। চতুর্থ বলে ইয়ংকে ও শেষ বলে কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমকে শিকার করেন তিনি। দু’জনই লেগ বিফোর হন। ইয়ং ২০ বলে ২০ ও গ্র্যান্ডহোম খালি হাতে ফিরেন।
এরপর উইকেটে সেট হয়ে থাকা রবীন্দ্রকে বিদায় দেন মাহমুদুল্লাহ। প্রতিপক্ষের অধিনায়কের বলে বোল্ড হবার আগে ২০ বলে ২টি চারে ২০ রান করেন রবীন্দ্র।
আর নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক টম লাথামকে নিজের বলেই ক্যাচ নিয়ে বাংলাদেশকে বড়সড় ব্রেক-থ্রু এনে দেন মাহেদি। আগের ম্যাচে অপরাজিত ৬৫ রান করে দলকে দারুনভাবে লড়াইয়ে রেখেছিলেন লাথাম। কিন্তু এবার লাথামকে ৯ বলের বেশি ঠিকতে দেননি মাহেদি। এতে ১১তম ওভারে ৬২ রানে পঞ্চম উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড।
এ অবস্থায় দলের হাল ধরেন হেনরি নিকোলস ও টম ব্লান্ডেল। উইকেট বাঁচিয়ে খেলে ধীরলয়ে এগোতে থাকেন তারা। জুটিতে প্রথম ৩৬ বলে কোন বাউন্ডারিই মারতে পারেননি নিকোলস ও ব্লান্ডেল। ১৭তম ওভারের শেষ বলে বাউন্ডারি আসে ব্লান্ডেলের ব্যাট থেকে। ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের স্কোর ছিলো ৫ উইকেটে ৯৫ রান। রান রেট ৬এর নিচে ছিলো।
মুস্তাফিজের করা ১৮তম ওভারে নিকোলসের ২টি চারে ১৩ রান পায় নিউজিল্যান্ড। পরের ওভারে ১টি চার হাঁকান ব্লান্ডেল। ওভারে আসে ৯ রান।
আর মুস্তাফিজের করা শেষ ওভার থেকে ১১ রান তুলেন নিকোলস ও ব্লান্ডেল। ১টি করে বাউন্ডারি মারেন দুই ব্যাটসম্যান। এই ওভারে সাকিবের হাতে জীবন পান ব্লান্ডেল। শেষ পর্যন্ত অবিচ্ছিন্নই থাকেন নিকোলস ও ব্লানডেল। ষষ্ঠ উইকেটে ৫৫ বলে অবিচ্ছিন্ন ৬৬ রান যোগ করেন তারা। এতে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১২৮ রানের লড়াই করার পুঁিজ পায় নিউজিল্যান্ড।
নিকোলস ২৯ বলে ৩৬ এবং ব্লান্ডেল ৩০ বলে ৩০ রান করেন। ৩টি করে চার মারেন দুই ব্যাটসম্যান ।
বাংলাদেশের সাইফুদ্দিন ২টি, মাহেদি-মুস্তাফিজ-মাহমুদুল্লাহ ১টি করে উইকেট নেন।
জয়ের জন্য ১২৯ রানের সহজ টার্গেটে শুরুটা ভালো ছিলো বাংলাদেশের। ২৩ বলে ২৩ রান যোগ করেন দুই ওপেনার মোহাম্মদ নাইম ও লিটন দাস। প্রথম ওভারেই দু’টি চার আদায় করেন নেন নাইম। পরের ওভারে লিটনও বাউন্ডারি মারেন। তৃতীয় ওভারে ম্যাককঞ্চিতে পরপর দু’বলে চার মেরে আরো আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন লিটন।
কিন্তু ঐ ওভারের পঞ্চম বলে নাইম-লিটনের স্বাচ্ছন্দ্যময় ব্যাটিং ছেদ ঘটান স্পিনার ম্যাককঞ্চি। ১১ বলে ৩টি চারে ১৫ রান করা লিটনকে লেগ বিফোর ফাঁদে ফেলেন তিনি।
লিটনের বিদায়ে ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন পান মাহেদি। পিঞ্চ হিটার হিসেবে খেলতে নেমে ১ রানেই শিকার হন প্যাটেলের।
মাহেদির পর বাংলাদেশ মিডল-অর্ডারকে দুমড়েমুচড়ে ফেলেন প্যাটেল। আরও ৩ উইকেট তুলে নেন তিনি। সাকিবকে শুন্য রানে, মাহমুদুল্লাহকে ৩ রানে ও আফিফ হোসেনকে শুন্য রানে বিদায় দেন প্যাটেল। তার ঘুর্ণিতে ৪৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে কাঁপতে শুরু করে বাংলাদেশ। দুই ওপেনারের ২৩ রানের জুটির পর ২০ রানে মধ্যে ৬ উইকেট পতনে মহাবিপদে পড়ে বাংলাদেশ।
সেখান থেকে দলকে খেলায় ফেরাতে সপ্তম উইকেটে সাবধানী লড়াই শুরু করেন মুশফিকুর রহিম ও উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান। ধীরলয়ে এগোচ্ছিলেন তারা। এই জুটি বড় হবার আগে নিউজিল্যান্ডকে সময়পযোগী ব্রেক-থ্রূ এনে দেন ম্যাককঞ্চি। ৮ রান করা নুরুলকে নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান তিনি। জুটিতে ২২ বলে ১৪ রান এসেছিলো। নয় নম্বরে নামা সাইফুদ্দিনকেও ৮ রানে বন্দি করে ফেলেন ম্যাককঞ্চি। এতে ৬৬ রানে অষ্টম উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারে চলে যায় টাইগাররা।
শেষ পর্যন্ত ইনিংসে ২ বল বাকী থাকতে ৭৬ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে এটি টাইগারদের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন রান । প্রথমটিও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে, ৭০ রান। ম্যাচে মুশফিকের অপরাজিত ২০ রান, দলের পক্ষে সর্বোচ্চ। ইনিংসে ছিলনা কোন ওভার বাউন্ডারি।
আগামী ৮ সেপ্টেম্ব একই ভেন্যুতে জের চতুর্থ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
স্টাফ রিপোর্টার: অনিয়ম ও দুর্নীতির সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। একই সঙ্গে সাবেক জাতীয় দলের অধিনায়ক তা ...
স্টাফ রিপোর্টার: যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক বলেছেন, খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থ জাতি গঠন করা সম্ভব। ‘খেলাধুলা বাড়ায় প্রাণ, হৃদয় থাকে শক্তিমান’ শ্লোগান নিয়ে বিশ্ব স্ ...
স্টাফ রিপোর্টার: মালদ্বীপে ভারতকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জেতা বাংলাদেশ যুব ফুটবল দলকে সংবর্ধনা ও আর্থিক পুরস্কার দিয়েছে সরকার। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ ...
স্টাফ রিপোর্টার: সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে দারুণ সাফল্যের পর দেশে ফিরেছে বাংলাদেশের যুব ফুটবল দল। ফাইনালে ভারত-কে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব দেখায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফ ...
সব মন্তব্য
No Comments