যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা পর সচল জাতীয় গ্রিড, পর্যায়ক্রমে চালু হচ্ছে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো

প্রকাশ : 27 Oct 2026
যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা পর সচল জাতীয় গ্রিড, পর্যায়ক্রমে চালু হচ্ছে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো

স্টাফ রিপোর্টার: যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা পর সচল হয়েছে জাতীয় গ্রিড। এখন পর্যায়ক্রমে বন্ধ থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু করা হচ্ছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল সোয়া ৩ টার দিকে জাতীয় গ্রিড পরিচালনাকারী সংস্থা পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।


সংস্থাটির পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়েছে, দুপুর আড়াইটায় জাতীয় গ্রিডের রিস্টোরেশন কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুতের সব গ্রিড লাইন ও গ্রিড উপকেন্দ্রগুলো চালু রয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু করা হচ্ছে। উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষিপ্ত লোডশেডিংও কমে আসবে। অনাকাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ বিচ্যুতির কারণে জনসাধারণের সাময়িক অসুবিধার দুঃখ প্রকাশ করে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ।


এদিকে, দুপুর আড়াইটার দিকে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে পাঠানো জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু অংশে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনর্বহালের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এরইমধ্যে অধিকাংশ জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনর্বহাল করা হয়েছে। বাকি অংশেও স্বল্পসময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।


এদিন দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিটে রাজধানী ঢাকার পূর্বাঞ্চলের বড় একটি এলাকা এবং চট্টগ্রামের কিছু অংশে একযোগে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ঢাকার এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ভুলতা, হরিপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, গুলশান, রামপুরা, উলন ও মতিঝিল। এছাড়া মগবাজার, বনশ্রী, খিলগাঁওসহ ঢাকার পূর্বাঞ্চল ও চট্টগ্রামের একাংশে হঠাৎ বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দেয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সচিবালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।


কারিগরি ত্রুটির সূত্রপাত সম্পর্কে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাটের কাছে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের পূর্বাঞ্চলীয় অংশে কারিগরি ত্রুটির কারণে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। গ্রিডের কর্মকর্তারা জানান, সঞ্চালন লাইনে আকস্মিক ট্রিপের পর গ্রিডে ফ্রিকোয়েন্সি অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় একাধিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়।


বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, জাতীয় গ্রিডে সম্পূর্ণ বিপর্যয় এড়ানো গেলেও বিশেষ করে রাজধানী ও আশপাশের এলাকার বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিটগুলো পর্যায়ক্রমে পুনরায় চালু করে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করা হচ্ছে। সিলেট ও প্রান্তিক এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা ও আশপাশের বিতরণকেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারের কাজ এগিয়ে চলছে।


কারিগরি ত্রুটির কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে ন্যাশনাল লোড ডেসপ্যাচ সেন্টার (এনএলডিসি)। কর্মকর্তারা জানান, ত্রুটির সুনির্দিষ্ট কারণ শনাক্ত করতে রিলে ফল্টের তথ্য বিশ্লেষণসহ বিস্তারিত কারিগরি প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে।


দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ ফিরছে। নাহিদা আক্তার নামে কালাচাঁদপুর এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘দুপুর পৌনে ১টার কিছু সময় আগে বিদ্যুৎ চলে যায়। পরে আড়াইটার দিকে আবার ফিরে আসে। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় ইলেকট্রিক চুলায় রান্না বসিয়েও শেষ করতে পারিনি। ফলে দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হয়েছে। সেইসঙ্গে গরমতো ছিলোই।’


বনশ্রীর বাসিন্দা জুনায়েদ বলেন, ‘দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। সাধারণত ঢাকায় বিদ্যুৎ গেলে ১ ঘণ্টা বা তারও কম সময় লাগে। কিন্তু দুপুর সাড়ে ১২টার পর হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়, আর ফিরে আসে আড়াইটারও পর। গরমে বাসা থেকে বেরিয়ে বাইরে বাইরে ঘুরছিলাম।’


সম্পর্কিত খবর

;