অপরাধী যে-ই হোক, রাজনৈতিক পরিচয় দেখে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ : 01 Sep 2026
অপরাধী যে-ই হোক, রাজনৈতিক পরিচয় দেখে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সিলেট অফিস: অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, অপরাধী সে অপরাধীই, কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা দলীয় অ্যাফিলিয়েশন দেখে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সিলেট সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন আয়োজিত জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উন্নয়ন সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিলেট অঞ্চলের সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাচালানিদের তালিকা সম্পূর্ণ নির্মোহভাবে তৈরির নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে অপরাধীদের পরিচয় সবার জানা আছে, তাই তালিকায় যেন কোনো নিরীহ মানুষকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হয়রানির জন্য না ঢোকানো হয় এবং কোনো প্রকৃত অপরাধীকে যেন রাজনৈতিক বিবেচনায় বাদ না দেওয়া হয়। আগামী এক মাসের মধ্যে এই নির্দেশনার দৃশ্যমান ফলাফল উপস্থাপনের জন্য তিনি রেঞ্জ পুলিশ ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) উভয়কেই কঠোরভাবে নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান। পুলিশ বাহিনীতে রিওয়ার্ড ও পানিশমেন্ট নীতি চালু করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।


বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-পরবর্তী মামলার প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে এজাহারে ঢালাওভাবে ৫০০, ১০০০ বা ২০০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। বহু জায়গায় ভুক্তভোগী পরিবার মামলা না করে তৃতীয় পক্ষ স্বার্থসিদ্ধি বা ব্যবসায়ীদের হয়রানি ও চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে মামলা করেছে, ফলে প্রকৃত ভিকটিম ও শহীদ পরিবারগুলো ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, তার পরিবার বাদী হতে না পারলেও রাজনৈতিক আরেক ব্যক্তি বাদী হয়ে দেড় হাজার আসামি দিয়েছে, অথচ ভিডিও ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণের মাধ্যমে প্রকৃত জড়িতদের চিহ্নিত করা সম্ভব ছিল। এই প্রেক্ষিতে সিলেট রেঞ্জ ও মেট্রোপলিটন এলাকার মামলাগুলো ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ ধারা অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিরীহ ও অযথা হয়রানির শিকার ব্যক্তিদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। তবে এই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের দেনদরবার বা অনৈতিক লেনদেন না হয় এবং প্রকৃত নির্দেশদাতা ও অপরাধীরা যেন বাদ না পড়ে, সে বিষয়েও সতর্ক করেন।


সিলেটের বালু ও পাথর কোয়ারি বন্ধ থাকার প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, পরিবেশ রক্ষা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ব্যাপক কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তার নেতৃত্বে ইতিমধ্যে একটি জাতীয় কমিটি কাজ করছে। পরিবেশ মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং আদালতের নির্দেশনা সমন্বয় করে কার্যবিবরণী অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আদালতের মামলার দীর্ঘসূত্রতা কাটাতে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত আইনি জটিলতা নিরসনের নির্দেশ দেন তিনি।


মব বা অরাজকতার অপসংস্কৃতি সরকার কোনোভাবেই সহ্য করবে না উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দাবি-দাওয়া আদায়ের নামে সড়ক অবরোধ বা ঘেরাও না করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় স্মারকলিপি বা প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে বিষয় উপস্থাপন করতে হবে। ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে মবের ঘটনা ৫০ শতাংশের বেশি কমে এসেছে জানিয়ে তিনি সিলেট অঞ্চলকেও সম্পূর্ণ মবমুক্ত রাখার আহ্বান জানান।


মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেটকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশ প্রশাসনকে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দেখাতে হবে। মাদকের সাধারণ সেবনকারীদের পেছনে না ছুটে শীর্ষ অন্তত ৫০ জন মাদক কারবারির সুনির্দিষ্ট তালিকা করে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে হবে। তিনি এসএমপির লজিস্টিক সংকট দূরীকরণ, নতুন পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন ও পর্যাপ্ত যানবাহন সরবরাহে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেন।


সভায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মালেক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, এসএমপি কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভাটি সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকী সাহা।


সম্পর্কিত খবর

;