মোঃ মহশীন আলী, রংপুর অফিস: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও ঘুষ বাণিজ্যের এক অভূতপূর্ব সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর এবং অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা প্রধান সহকারী মো. বাবুল হোসেনের বিরুদ্ধে। সরকারি নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে কর্মচারীদের নায্য পাওনা আটকে রাখা, দাপ্তরিক কাজে চরম হয়রানি এবং প্রতিটি সেবার বিপরীতে প্রকাশ্যে অর্থ দাবির একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র দাবি করা ঘুষের টাকা না দেওয়ায় পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চারজন কর্মচারীর মঞ্জুরকৃত শ্রান্তি বিনোদন ভাতার বিল পরিশোধ করেননি বাবুল হোসেন। ফলে অর্থবছর শেষে সরকারের বরাদ্দকৃত টাকা অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত চলে যায়, যা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে।
তবে রহস্যজনকভাবে, অর্থবছর পার হওয়ার পর ওই একই ভাতা ছাড় করাতে ভুক্তভোগী কর্মচারীদের কাছ থেকে জনপ্রতি এক হাজার টাকা করে আদায় করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসা চাঞ্চল্যকর চিত্র:-
পাওনা আদায়ে চাঁদা: চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শ্রান্তি বিনোদন ভাতার অর্থ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে 'বরাদ্দ এনে দেওয়ার' অশুভ অজুহাতে কমপ্লেক্সের ১৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছ থেকে প্রকাশ্যে জনপ্রতি এক হাজার টাকা করে মোট ১৯ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
৮৭ জনের স্মারকলিপি ও অকার্যকর প্রশাসন: অভিযুক্ত বাবুল হোসেনের লাগামহীন অনিয়ম, পদে পদে হয়রানি ও অসৌজন্যমূলক আচরণ থেকে পরিত্রাণ পেতে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ৮৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী স্বাক্ষর করে স্থানীয় সংসদ সদস্য (ঠাকুরগাঁও-৩)-এর সুপারিশসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ে লিখিত আবেদন জানান। পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুবিভাগীয় উপ-পরিচালক (শৃঙ্খলা), মহাপরিচালক এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব পর্যন্ত এ অভিযোগ পৌঁছালেও রহস্যজনক কারণে বাবুল হোসেনের বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
সংরক্ষণশীল ছাতা ও ‘ম্যানেজ’ সংস্কৃতি: ভুক্তভোগী কর্মচারীদের দাবি, দিনের পর দিন এসব অপকর্ম প্রকাশ্যে চললেও অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. কামাল আহমেদ সরাসরি বাবুল হোসেনকে তোষণ ও সহযোগিতা করে আসছেন। এমনকি কর্মচারীরা ইউএইচএফপিওর কাছে প্রতিকার চাইতে গেলে তিনি অভিযোগ তদন্ত বা সুরাহা না করে উল্টো বাবুল হোসেনকে ‘ম্যানেজ’ করে কাজ গুছিয়ে নেওয়ার অসংবেদনশীল পরামর্শ দেন।
অসচেতন বক্তব্য ও অপরাধের ইঙ্গিত:
অভিযোগের বিষয়ে এবং সংবাদ মাধ্যমে আসার ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত বাবুল হোসেন টেলিফোনে সব দায় ইউএইচএফপিওর ওপর চাপিয়ে দিয়ে বলেন, "আমার অফিসারকে জিজ্ঞাসা করলে সব পাওয়া যাবে।" একই সাথে তিনি অহংকারের সাথে যোগ করেন, "হাসপাতালে ওরকম কোনো কাজ নাই যে টাকা ছাড়া কাজ হয় না।"
আইন ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি দপ্তরের একজন কর্মচারীর মুখ থেকে প্রকাশ্যে এমন মন্তব্য প্রশাসনিক কাঠামোর চরম ধস এবং ঘুষ গ্রহণের পরোক্ষ স্বীকারোক্তি ছাড়া আর কিছুই নয়। যেখানে কাজ সম্পাদন করতে টাকা আদায়ের রেওয়াজ তৈরি করা হয়েছে, সেখানেই দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়—যা বাবুল হোসেনের নিজের বক্তব্যেই স্পষ্ট।
কর্তৃপক্ষের অবস্থান:
অভিযোগের তীর সরাসরি যার দিকে, সেই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল আহমেদ নিজের ও প্রধান সহকারীর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, "আমার বা প্রধান সহকারীর নাম ভাঙিয়ে কোনো প্রমাণ থাকলে অফিসে এসে তদন্ত করুন। বাবুল এসব করতে পারে না, সব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।"
তবে ঠাকুরগাঁও জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনিছুর রহমান বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখেন। তিনি জানান, "আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
হুমকির মুখে তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবা:
এর আগেও ডা. কামাল আহমেদ ও বাবুল হোসেনের নানা অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে একাধিক প্রথম সারির গণমাধ্যমে বিস্তারিত সংবাদ প্রকাশিত হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। সচেতন মহলের আশঙ্কা, সরকারি একটি উপজেলা হাসপাতালে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যদি নিজেদের পাওনা আদায়ে ঘুষ দিতে বাধ্য হন এবং প্রশাসনিকভাবে নির্যাতিত হন, তবে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানোর সরকারি অঙ্গীকার পুরোপুরি ভেস্তে যাবে।
বর্তমানে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের দাবি—অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে বাবুল হোসেনের অর্পিত দায়িত্ব, আচরণ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়ার তদন্ত করা হোক, তাকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক এবং অপরাধের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
বোচাগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে টাঙ্গন নদীর পাড় থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগে আজগর আলী (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে ১৬ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় উত্তোলন ...
মোঃ মহশীন আলী, রংপুর অফিস: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় মিড ডে মিলের আওতায় সরবরাহ করা প্যাকেটজাত দুধ পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েছে ৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৪ জন শিক্ষার্থী। পেটে ব্যথা, পেট ...
রাহাদ সুমন,বরিশাল ব্যুরো : বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চাঞ্চল্যকর সুমন সিকদারকে (৩২) প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার।এ ...
অনিক রায়, ফরিদপুর অফিস: ফরিদপুর শহরের পুরাতন কালীবাড়ী এলাকার ২ নম্বর উত্তর কালীবাড়ী মন্দিরে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার গভীর রাতে মন্দিরের তালা কেটে কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি, স্বর্ণালংকার, রূপার স ...
সব মন্তব্য
No Comments