রাত পোহালেই বগুড়া ও শেরপুর ভোট

প্রকাশ : 08 Apr 2026
রাত পোহালেই বগুড়া ও শেরপুর ভোট

স্টাফ রিপোর্টার: রাত পোহালেই দেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচন এবং শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্পন্ন হয়েছে সব প্রস্তুতি।


বগুড়া–এর সদর আসনে ইতোমধ্যে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে ব্যালট বাক্সসহ ভোটগ্রহণের সকল সরঞ্জামাদি।  এই আসনে প্রায় ৪ লাখের বেশি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। পুরুষ ও নারী ভোটারের সংখ্যা প্রায় সমান, পাশাপাশি নতুন ভোটারদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য।


আসনটি শূন্য হওয়ার পর এই উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তে প্রচারণা চালিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ, র‍্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনী মাঠে অবস্থান নিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রয়েছে।


অন্যদিকে, শেরপুর জেলার শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে আগামীকাল (৯ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন। এর আগে জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল–এর মৃত্যুতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছিল।


নতুন তফসিল অনুযায়ী এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মাসুদুর রহমান এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মাকসবাদী) মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রহমান। শেষ মুহূর্তে প্রার্থী ও সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।


জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন জানিয়েছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি র‌্যাবের ১০টি টিম মাঠে কাজ করছে এবং ৪টি টিম রিজার্ভ হিসেবে প্রস্তুত রয়েছে। পুলিশের ২৬টি মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে।


নির্বাচনী শৃঙ্খলা রক্ষায় ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ২ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং ইলেকশন ইনকোয়ারি কমিটির ৩ জন যুগ্ম জেলা জজ দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ১৮ জন পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণে থাকবেন এবং সেনাবাহিনীর টিমও মাঠে রয়েছে।


এই আসনের দুই উপজেলায় মোট ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। ১২৮টি ভোটকেন্দ্রে মোট ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন, যার মধ্যে ২৮টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।


সার্বিকভাবে, দুটি আসনেই উৎসবমুখর পরিবেশের পাশাপাশি কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্পর্কিত খবর

;