কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি।। রাতের আকাশে উড়ানো হয়েছে একের পর এক বর্নিল রং বে-রঙের ফানুস। উড়তে উড়তে ফানুসগুলো মিশে যায় দূর নীলিমায়। হঠাৎ করে যে কেউ আকাশের দিকে তাকালে মনে করবে এ যেন তারার মেলা। মাঝে মধ্যে দুই একটি তারা খসে পড়ছে মাটিতে এমনটা অনুভব করেছে অনেকে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নামার পর পরই কুয়াকাটার আকাশে অর্ধশতাধিক রং বে-রঙের ফানুস উড়ানোর মধ্য দিয়ে শেষ হলো বৌদ্ধধর্মালম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারনা পূর্ণিমা’র উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
ফানুসের আলোয় উজ্জ্বল হয়ে উঠে পূর্ণিমার চাঁদ ওঠা আকাশ। এসময় রাখাইন তরুন তরুনীরা আনন্দ, উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন। আর আকাশপানে তাকিয়ে এমন বর্ণিল সৌন্দর্য উপভোগ করেছেন কুয়কাটায় আগত পর্যটকসহ দর্শনার্থী ও স্থানীয়রা।
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মতে, আকাশে ফানুস ওড়ানো কেবল বৌদ্ধদের উৎসব নয়, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এর বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। তাই ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে বুদ্ধের প্রবর্তিত মন্ত্র পাঠের মাধ্যমে ওড়ানো হয়েছে ফানুস।
শুভ প্রবারনা পূর্ণিমা’র উৎসব উপলক্ষে পঞ্চশীল, অষ্টশীল প্রার্থনা, বুদ্ধপূজা এবং বৃহস্পতিবার দিনভর বিহারগুলোতে অনুষ্ঠিত হয় ধর্মীয় আলোচনা। বিভিন্ন ফল ও হরেক রকমের পিঠাপুলি বৌদ্ধ ভিক্ষুকে প্রদান করেন বয়স্ক নারী পুরুষরা। এ উৎসবকে ঘিরে উপজেলার রাখাইন পাড়া গুলোতে আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠে বৌদ্ধধর্মাবলম্বীরা। বৌদ্ধ বিহার গুলোতে সমাবেশ ঘটে বৌদ্ধভিক্ষুসহ হাজারো রাখাইন নর-নারীদের।
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা জানান, শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব। এইদিন গৌতম বুদ্ধ ধর্ম প্রচার শুরু করেন। তাই প্রতি বছরই এই সময় আকাশে ফানুস উড়িয়ে এবং বিহারগুলোতে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করা হয়।
রাখাইন যুবক তেননান বলেন, প্রবারনা উৎসবের বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্যে বিশেষ আর্কষন হিসেবে ফানুস উড়ানো। এটি অন্য ধর্মালম্বীর মানুষও উপভোগ করেন। বিভিন্ন প্রকার ফানুসের মধ্যে রয়েছে, মালা ফানুস, প্যারাসুট ফানুস, তারা ফানুস, পঞ্চমুখী ফানুস ও লতা ফানুস। এক একটি ফানুস তৈরিতে অন্ততঃ এক থেকে দেড় হাজার টাকা খরচ হয়। রাখাইন সম্প্রদায়ের যুবকরাই এ ফানুস গুলো তৈরী করেছেন।
মিস্ত্রিপাড়া সীমা বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ উত্তম মহাথেরো বলেন, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা। আকাশে ফানুস উড়ানোসহ নানা ধর্মীয় আয়োজনে দিনটি উদযাপন করা হয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.রবিউল ইসলাম বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশর মধ্য দিয়ে রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজন শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসব পালন করেছেন। নিরাপত্তার জন্য উপজেলার সব বৌদ্ধবিহার ও পাড়াগুলোতে পুলিশ ও সেনা সদস্যদের টহল ছিলো।
আনিছ আহমেদ শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরে নৃ-জনগোষ্ঠী গারোদের অন্যতম প্রধান উৎসব ‘ওয়ানগালা’। নতুন ফসল ঘরে তোলাকে কেন্দ্র করে রবিবার (২৪নভেম্বর) ঝিনাইগাতী উপজেলার মরিয়মনগর উচ ...
বিশেষ প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাগুরছড়াপুঞ্জিতে খাসিয়া সম্প্রদায়ের বর্ষবিদায় ও নতুন বছরকে বরণের ঐতিহ্যবাহী উৎসব ‘খাসি সেং কুটস্নেম’ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে ও প্রশাসনের সার্ব ...
চট্টগ্রাম অফিস: ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, মসজিদে নববীর আদলে গড়ে তোলা হবে আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ।
আজ দুপুরে চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ পরিদর্শন শে ...
বিশেষ প্রতিনিধি | মৌলভীবাজার: খাসিয়া সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী বর্ষ বিদায় ও নতুন বর্ষবরণ ‘খাসি সেং কুটস্নেম’ উৎসব’ অনুষ্ঠানটি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে ও প্রশাসন ...
সব মন্তব্য
No Comments