ডিসেম্বরে তফসিল ঘোষণা, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন !

প্রকাশ : 05 Aug 2025
ডিসেম্বরে তফসিল ঘোষণা, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন !

সামসুল আলম সজ্জন: ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় বর্তমান অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার। দায়িত্বগ্রহণের পর থেকেই সংস্কার, বিচার ও নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ঘোষণার দাবিতে সোচ্চার ছিল বিভিন্ন দল-মত-মতাদর্শ সহ নাগরিক সমাজ এবং ছাত্র-শ্রমিক-জনতা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার বিজয়ের বর্ষপূর্তিতে আজ ৫ আগস্ট রাত ৮.২০ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিবেন বলে জানানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সেই ভাষণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা আসতে পারে। নির্বাচন কমিশনও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার জন্য অপেক্ষমান।


গত ২৮ জুলাই প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে নির্বাচনকালীন সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভুয়া তথ্য প্রতিরোধ এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতির ওপর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়েছে নির্বাচন কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৮ লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবে।


ইসি সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ও ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোটগ্রহণের সময় ধরে সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। সেক্ষেত্রে ফেব্রুয়ারির ৫ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে নির্ধারিত দিনে ভোটগ্রহণ হতে পারে। বিশেষ করে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণের তারিখ হিসেবে নির্ধারিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ভোটের পর যেন দুই দিন ছুটি থাকে—এ রকম চিন্তাভাবনা থেকে ভোটের দিন হিসেবে বৃহস্পতিবারকেই উপযুক্ত মনে করে ইসি।


তফসিল ঘোষণার বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, সংবিধানে কোনো পরিবর্তন না এলে আগের নিয়মে এবং প্রচলিত পদ্ধতিতেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের দুই মাস আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে।


১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারিত হলে ১১ বা ১৪ ডিসেম্বর নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হতে পারে বলে জানিয়েছে ইসির একটি সূত্র। প্রধান উপদেষ্টার নিকট থেকে জাতীয় নির্বাচন সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা পেলেই কেবলমাত্র জাতির সামনে নিজেদের একটা কর্ম পরিকল্পনা তুলে ধরবে নির্বাচন কমিশন।


ইতোমধ্যেই সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের খসড়া প্রস্তাবনা প্রকাশিত হয়েছে। ৩৯টির সীমানায় পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করেছে ইসি। আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত এগুলোর ওপর আপিল আবেদন গ্রহণ করা হবে। এরপর আপিল শুনানি শেষে তা নিষ্পত্তি করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত সীমানা প্রকাশ করবে ইসি। নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়নের লক্ষ্যে আগামী ১০ আগস্ট হালনাগাদ ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ করবে ইসি। খসড়া ভোটার তালিকায় কারও তথ্যে ভুল থাকলে সংশোধন করা যাবে পরবর্তী ১২ দিনের মধ্যে।


নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে শতাধিক দলের আবেদনে ত্রুটি ও প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়ে বেধে দেওয়া সময় গতকাল রবিবার শেষ হয়েছে। এখন চূড়ান্ত যাচাই বাছাই শেষে চলতি মাসেই নতুন দলগুলোর নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হতে পারে বলে আশা করা যাচ্ছে। এ ছাড়া ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫ জারি করেছে ইসি। নির্বাচনী আচারণবিধির খসড়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে। নির্বাচন ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান। আরপিওসহ আইন ও বিধিমালাগুলো সংশোধনের জন্য সরকারি সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে ইসি। আগামী নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকারের বিষয়টিও চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে ইসি। নির্বাচনকে ঘিরে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের রদবদল শুরু করেছে ইসি।


ইসি সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, এবার ভোটের সময় দায়িত্ব পালনের জন্য প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারসহ নির্বাচনসংশ্লিষ্ট প্রায় ৯ লাখ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভোটকেন্দ্র মেরামতসহ ভোটগ্রহণের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে প্রায় ৪৬ হাজার কেন্দ্র। 


সম্পর্কিত খবর

;