জ্বালানী পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে সাধারণ আলোচনার সিদ্ধান্ত

প্রকাশ : 20 Apr 2026
জ্বালানী পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে সাধারণ আলোচনার সিদ্ধান্ত

স্টাফ রিপোর্টার: দেশে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের কোনো সংকট নেই বলে জাতীয় সংসদে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, মূলত পাচার ও অপচয় রোধ করে জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা আনতেই সরকারের পক্ষ থেকে কিঞ্চিৎ মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। এরআগে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, জ্বালানী তেল নিয়ে সরকারের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তবের মিল নেই। সংসদে সংকট না থাকলেও বাইরে সংকট ভয়াবহ। জনপ্রতিনিধি হিসেবে এ বিষয়ে চুপ থাকা দুঃখজনক। 

গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এ সংক্রান্ত মূলতবি প্রস্তাব উত্থাপনকালে এ সব কথা বলেন তারা। বিরোধীদলীয় নেতার আনা মূলতবি প্রস্তাবটি নাকচ করে দেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিষ্টার কায়সার কামাল। তিনি রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর সাধারণ আলোচনাসহ অন্যান্য বিধি বিষয়টি নিয়ে আলোচনার নির্দেশনা দেন। পরবর্তীতে বিরোধী দলীয় নেতা জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি দীর্ঘ আলোচনার দাবি জানান। এরপর কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। পরে দু’পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে বিষয়টি নিয়ে সংসদে এক ঘন্টার সাধারণ আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়।

এরআগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদীয় ইতিহাসে মূলতবি প্রস্তাব সাধারণত বিরোধী দল থেকে আনা হয়, ট্রেজারি বেঞ্চ বা সরকারের কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য। তবে আমাদের বর্তমান সংসদীয় সংস্কৃতিতে এই সেশনেই ইতিমধ্যে দুটি মূলতবি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যা ইতিহাসে অনন্য নজির। এই সেশনের মধ্যেই আরো একটি মূলতবি প্রস্তাব গ্রহণ করলে সেটি ভবিষ্যৎ সেশনগুলোর জন্য একটি নেতিবাচক প্রথা বা প্রেসিডেন্ট তৈরি করবে। ফলে বিষয়টি নিয়ে অন্য বিধিতে আলোচনা হতে পারে।

জ্বালানির দাম বাড়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় জনগণের সুবিধার্থে আমরা একটি টলারেবল বা সহনীয় মাত্রা পর্যন্ত জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করেছি। বর্তমান পরিস্থিতিতে যখন আমাদের ন্যাশনাল ইকোনমি আর অ্যাফোর্ড করতে পারছিল না, এজন্য আমরা দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছি। জ্বালানির দাম কম থাকলে তা অপচয় ও পাচার হওয়ার প্রবণতা থাকে। সেই পাচার বন্ধ করতে এবং একটি ডিসিপ্লিনের মধ্যে আনতেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিরোধী দলীয় নেতার অভিযোগ খণ্ডন করে স্বরাষ্ট্র বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রী ইতিমধ্যে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে তিনি পরিসংখ্যান দিয়ে দেখিয়েছেন যে আমাদের দেশে তেল ও গ্যাসের কোনো সংকট নেই। বিষয়টি এখন জাতির কাছে পরিষ্কার। সুতরাং সংসদ মূলতবি রেখে আলোচনার কোনো প্রয়োজন নেই। সংসদ মূলতবি না করে ৬৮ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হতে পারে। স্পিকারের কাছে অনুরোধ থাকবে তিনি যেন বিরোধী দলীয় নেতাকে এই বিধিতে নোটিশ দেওয়ার সুযোগ দেন। সংসদ নেতার উপস্থিতিতে আমরা সেখানে গঠনমূলক আলোচনা করতে পারি।

এরআগে মূলতবি প্রস্তাব উত্থাপনকালে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের বর্তমান জ্বালানি ও গ্যাস সংকটকে এই মুহূর্তের ‘সবচেয়ে বার্নিং ইস্যু’। সরকার জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে যে তথ্য দিচ্ছে তার সাথে বাস্তবের কোনো মিল নেই এবং জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে এই সংকটে চুপ থাকা সংসদ সদস্যদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। দেশের মানুষ প্রত্যাশা করছে এই সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনা হবে। কিন্তু আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আলোচনা করতে পারছি না, এটা কি আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য নয়? পত্রিকার রিপোর্ট বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাইরে আমি নিজে বাস্তবে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেছি এবং দেখেছি সাধারণ মানুষের মধ্যে কতটা অসন্তোষ বিরাজ করছে।

বিরোধীদলীয় নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলেন, সংসদের প্রতিটি সেকেন্ড ব্যয় হচ্ছে জনগণের ট্যাক্সের টাকায়। এই প্রতিষ্ঠান জনগণের সম্পদ দিয়ে গড়া। আমরা এখানে নিজেদের প্রয়োজনে আসিনি, জনগণ তাদের প্রয়োজনে আমাদের পাঠিয়েছে। যদি জনগণের এই চরম দুর্ভোগের সময় তাদের কথাগুলো সংসদে বলতে না পারি, তবে এখানে থাকার কোনো সার্থকতা নেই।

সরকারের পরিসংখ্যান ও বক্তব্যের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, আমি বাস্তবের সাথে তার কোনো মিল খুঁজে পাইনি। একদিকে সংসদে বলা হচ্ছে তেলের কোনো সংকট নাই, অন্যদিকে সংসদের বাইরে তেলের জন্য মানুষ হাহাকার করছে। সংকট আছে বলেই আজ হাইকোর্টের মতো সংবেদনশীল জায়গায় ভার্চুয়ালি কাজ করতে হচ্ছে। সংকট না থাকলে এমন সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো?

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা বুঝি এটি একটি গ্লোবাল মেটার এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সমস্যা হচ্ছে। আমরা বারবার বলছি আমরা সবাই মিলে এখানে কন্ট্রিবিউট করতে চাই। পরিস্থিতি সহজ করার জন্য আমাদের মতামত দিতে চাই। কিন্তু সব দায়িত্ব যদি শুধু সরকারি দলই পালন করে, তবে আমরা নাগরিক বা জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়বদ্ধতা পালন করব কীভাবে? তিনি আরো বলেন, গোটা অর্থনীতির চাকাই নির্ভর করে পাওয়ার বা শক্তির ওপর, যার কাঁচামাল হলো এই জ্বালানি। তাই দায়সারাভাবে নিষ্পত্তি না করে, সংসদ নেতার উপস্থিতিতে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য সময় বরাদ্দ করা হোক।



সম্পর্কিত খবর

;