নরসিংদীতে জুট মিলের ২১ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি লুটের অভিযোগ

প্রকাশ : 07 Oct 2026
নরসিংদীতে জুট মিলের ২১ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি লুটের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার: প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নরসিংদীর এক জুট মিল মালিক। মাধবদীতে বন্ধ থাকা রপ্তানিমুখী জুট মিলের যন্ত্রপাতি লুট করে বিক্রির অভিযোগে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে প্রায় ২১ কোটি টাকার ক্ষতির দাবি করা হয়েছে।


বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন স্কাইল্যান্ড এন্ড ফ্যাম লিমিটেডের (জুট মিলস) চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ।


লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, মাধবদীর শিলমান্দি ইউনিয়নের আহমেদনগরে অবস্থিত স্কাইল্যান্ড এন্ড ফ্যাম লিমিটেড ১০০ শতাংশ রপ্তানিমুখী পাট ও পাটজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের দিলকুশা শাখার অর্থায়নে মিলটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০০৩ সালে তৎকালীন পাটমন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী এটি উদ্বোধন করেন। আর্থিক সংকটে গত ছয় মাস ধরে মিলটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।


তিনি বলেন, সরকার বন্ধ মিলগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচির আওতায় মিলটি পুনরায় চালুর চেষ্টা চলছিল। চালু হলে প্রায় এক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হতো।


অভিযোগে বলা হয়, গত ৫ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্থানীয় প্রভাবশালী পাট ব্যবসায়ী মো. আদিল মিয়া, তার দুই ছেলে আকাশ ও আশিক, মেয়ের জামাতা মো. লাজমিল হোসেন স্নেহ ও বড় ভাই মো. আদরসহ ২০-২৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মিলের প্রধান ফটকে তালা দেয়। তারা নিরাপত্তাকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং দুই কর্মচারীকে অস্ত্রের মুখে একদিন আটকে রাখে বলে অভিযোগ করা হয়।


এরপর দিন-রাত ট্রাকে করে মিলের ইলেকট্রিক সাবস্টেশন, মূল্যবান মেশিনারি ও যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে বিক্রি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব যন্ত্রপাতির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২১ কোটি টাকা এবং পুরোনো ক্রয়মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।


মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘটনার আগেই গত ৪ আগস্ট মাধবদী থানায় সশরীরে অভিযোগ জানাতে গেলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। পরে গত ৩ অক্টোবর অনলাইনে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা সম্ভব হয়েছে।


তিনি আরও জানান, বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনকে জানানো হলে তিনি দুই স্থানীয় নেতাকে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব দেন। তাদের একজন সরেজমিনে মিল পরিদর্শন করলেও কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি।


বর্তমানে একটি দল মিলের ভেতরে অবস্থান করে টিন, লোহা, অ্যাঙ্গেল ও ইট-বালুসহ স্থাপনার বিভিন্ন অংশ খুলে বিক্রির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করা হয়।


এ অবস্থায় মিলের সম্পদ রক্ষা, ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। একই সঙ্গে নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ চান তিনি।


সম্পর্কিত খবর

;