আমলা দম্পতির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীকে হয়রানি ও সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

প্রকাশ : 01 Jul 2026
আমলা দম্পতির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীকে হয়রানি ও সম্পত্তি দখলের অভিযোগ



স্টাফ রিপোর্টার: সরকারের এক অতিরিক্ত সচিব এবং নৌ পুলিশের বর্তমান এক অতিরিক্ত ডিআইজি দম্পতির বিরুদ্ধে প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে এক ব্যবসায়ীকে চরম হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। ১ জুলাই ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী এ এস এম জুলফিকার হায়দার এই অভিযোগ করেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, অভিযুক্ত শামীমুজ্জামান (অতিরিক্ত সচিব) এবং জেসমিন বেগম (অতিরিক্ত ডিআইজি, নৌ পুলিশ) সম্পর্কে তার আত্মীয় হন এবং সেই সুবাদে ২০০৭ সালে একটি প্লট পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নেন। পরবর্তী সময়ে টাকা ফেরত দিতে না পেরে নিজেদের সরকারি চাকরি রক্ষার্থে সেগুনবাগিচায় একটি ফ্ল্যাট ক্রয়ের জন্য ওই ব্যবসায়ীকে তারা অনুরোধ করেন। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী তাদের অনুরোধে ব্যাংকের মাধ্যমে এবং নগদে মোট ৪৩ লাখ টাকা পরিশোধ করে ফ্ল্যাটটি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন।


​সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ২০০৯ সালে राजनीतिक পটপরিবর্তনের পর অভিযুক্ত দম্পতি তাদের প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে ফ্ল্যাটটি ফেরত দেওয়ার জন্য নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। একপর্যায়ে পরিবারের নিরাপত্তা ও মামলার ভয়ে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নামমাত্র মূল্যে ফ্ল্যাটটি পুনরায় ওই দম্পতির নামে লিখে দিতে বাধ্য হন। বিগত দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ওই দম্পতি রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় থেকে বিভিন্ন ধরনের হয়রানি বজায় রাখেন। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে এই অন্যায় ও সম্পত্তি আত্মসাতের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠানো এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ে অভিযোগ দেওয়ার পর ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে হয়রানি আরও তীব্র করা হয়েছে।


​ব্যবসায়ী জুলফিকার হায়দার আরও অভিযোগ করেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওই দম্পতি থানা পুলিশ ও প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে তার নামে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করিয়েছেন। এমনকি এজাহারে নাম না থাকা সত্ত্বেও তাকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে মামলার বাদীগণ আদালতে হলফনামা দিয়ে জানিয়েছেন যে উক্ত ব্যবসায়ী এসব মামলার আসামি নন। একই সাথে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে আরও একাধিক হত্যা মামলায় তাকে মিথ্যাভাবে জড়ানোর অপচেষ্টা চালানো হয়েছে, যা পরবর্তীতে তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের ও পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা দাবি করেন এবং অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তাদের অবৈধভাবে অর্জিত বিপুল সম্পদের তদন্ত করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানান।


​সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তা দম্পতির নামে-বেনামে থাকা শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের একটি বিবরণীও প্রকাশ করা হয়। এই বিবরণী অনুযায়ী, পটুয়াখালীর দুমকিতে ৩ একর জমির ওপর নির্মিত বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি এবং বিভিন্ন দলিলে মোট ৪৪৬ শতাংশ জমি রয়েছে। এছাড়া আনন্দ পুলিশ হাউজিং সোসাইটিতে ১২ কাঠার প্লট, সেগুনবাগিচা তনাকা টাওয়ারে ১৮২৫ বর্গফুটের ফ্ল্যাট, বসুন্ধরা রিভারভিউ প্রজেক্টে ৩ কাঠার প্লট, পটুয়াখালী ও কেরানীগঞ্জের নিউ ভিশন হাউজিংয়ে মোট ২০ কাঠার প্লট এবং বসুন্ধরা ৩০০ ফুট সংলগ্ন পুলিশ হাউজিংয়ে ৪ কাঠার প্লট রয়েছে। পটুয়াখালী জেলা শহরে বহুতল ভবন নির্মাণ, কলাপাড়ায় নিজস্ব ও যৌথ নামে বিপুল পরিমাণ জমি ক্রয়, দিনাজপুরে ১০ একরের অধিক আম ও লিচু বাগান এবং খান মার্কেটে ৩৩ শতাংশ জমি কেনার তথ্যও প্রকাশ করা হয়। এর পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংক ও এইচএসবিসি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে, এমনকি সুইচ ব্যাংকেও তাদের কয়েক শত কোটি টাকা রক্ষিত আছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয় এবং আইনি ব্যবস্থার ভয়ে তারা কানাডায় বাড়ি ক্রয় করে দেশত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

সম্পর্কিত খবর

;