আবুল হাসান রুবেল
স্টাফ রিপোর্টার: গণসংহতি আন্দোলন-জিএসএর নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল বলেছেন, আমরা যদি ঋণগ্রস্ত অর্থনীতি না চাই, আমরা যদি এখানে একটা জনবান্ধব অর্থনীতি চাই, তাহলে একটা প্রগ্রেসিভ ট্যাক্স পলিসি ছাড়া এটা কখনোই সম্ভব না। গরিবের ওপরে চাপিয়ে না দিয়ে ধনীদের কাছ থেকে ট্যাক্স আদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে।
আজ ৬ জুন ২০২৬ শনিবার, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল ইসলাম মিলনায়তনে গণসংহতি আন্দোলন-জিএসএর উদ্যোগে আয়োজিত ‘জনবান্ধব বাজেট: ভাবনা ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এই কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৭.৫ যা পৃথিবীর অন্যতম সর্বনিম্ম। সরকার যদি জনগণের জন্য কাজ করতে চায়, তাহলে সরকারের ট্যাক্স আদায় বৃদ্ধি করতে হবে। এটা যদি না হয়, তাহলে আমরা বিদেশের উপরে নির্ভরশীল থাকব। নির্ভরশীলতা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সরকারের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির একটা বিরাট অংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক। ভ্যাটের আদায় আর সরকারের প্রাপ্তির ভেতরেও একটা বিরাট ফারাক আছে। ডিজিটালাইজেশন এবং ফুল অটোমেশনের মাধ্যমে সরকারের ট্যাক্স আদায় বৃদ্ধি করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের পুরনো মডেলটা ছিল অবকাঠামোনির্ভর। বড় বড় প্রজেক্ট হবে, সবাইকে প্রদর্শন করা যাবে, আর সেই দেখানোর ভেতর দিয়ে বড় বড় চুরি করা যাবে। এই প্রকল্প থেকে সরে এসে মানুষ এবং প্রকৃতি কেন্দ্রিক একটা নতুন ধরনের উন্নয়ন নীতি নিতে হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি কোনো আকাশকুসুম কল্পনা না। দুনিয়ার যে সমস্ত দেশ এগিয়েছে, তারা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়িয়েই এগিয়েছে। আপনার শরীর যদি সুস্থ থাকে, আপনার মন যদি সুস্থ থাকে, আপনি যদি দক্ষ কর্মশক্তি গড়ে তুলতে পারেন, তাহলেই আপনার অনেকগুলো সমস্যার সমাধান হবে। তিনি আরও বলেন, সামাজিক সুরক্ষার কর্মসূচি এখনো মূলত গ্রামীণ জনপদকেন্দ্রিক। কিন্তু শহরের গরিব মানুষের জন্য সরকারের কর্মসূচি খুবই সীমিত। অথচ পুষ্টির দিক থেকে শহরের গরিব মানুষেরাই সবচেয়ে পিছিয়ে আছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে যে গণঅভ্যুত্থান হলো, তার সবচেয়ে মৌলিক কারণ ছিল কর্মসংস্থানের অভাব। কিন্তু অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে কর্মসংস্থান নিয়ে আর কোনো আলোচনা নাই। তরুণদের কর্মসংস্থানের কী হবে, তথাকথিত তরুণরা যারা নিজেদেরকে নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তারা এ বিষয়ে আর কোনো কথা বলতে রাজি না। তারা এখন ৭১-৪৮-৪৭ কী কী নিয়ে ব্যস্ত। যেগুলোর সাথে আপনার আমার সকলের ও তরুণদের বাস্তব জীবনের কোনো সম্পর্ক নাই।
সভায় এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ওয়াচের ট্রেড রিসার্চার বরকতুল্লাহ মারুফ বলেন, উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার জন্য জাতিসংঘের যেসব শর্ত আছে সেগুলো পূরণ করার মিথ্যা পরিসংখ্যান তৈরি করেছে আগের সরকার। এই মিথ্যা পরিসংখ্যানের মাধ্যমে আমরা যদি এলডিসি থেকে উত্তরণের দিকে যাই, তাহলে আরও ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে। তিনি বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের ফলে বাংলাদেশের মানুষের জন্য ওষুধের দাম বেড়ে যাবে। এধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য বাজেটে প্রস্তুতি আছে কিনা সেটা নিয়ে প্রশ্ন রাখেন তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের কৃষকরা যে এখনও ফসল ফলান, সেটাকে পৃথিবীর অন্যতম আশ্চর্য বলা যায়। এখানে সরকার কৃষিতে ভর্তুকি দিচ্ছে বলে দাবি করলেও আসলে ভর্তুকি দেন কৃষক। কৃষক তার শ্রমের দাম পান না।
তিনি আরও বলেন, আমেরিকার সাথে চুক্তির ফলে বাংলাদেশের ১৪টা বোয়িং বিমান কিনতে হবে, এলএনজি আমদানি করতে হবে। এই ব্যয়গুলো করার জন্য বাজেটে টাকা থাকতে হবে। এধরনের ব্যয়ের কোনো প্রয়োজনীয়তা বাংলাদেশের আছে কিনা প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মোশাহিদা সুলতানা বলেন, বাজেট হলো রাষ্ট্রের উন্নয়ন দর্শন। বাজেটে যে বরাদ্দ থাকে, সেটা কোথায় কমবে বা বাড়বে তার চেয়ে জরুরি বিষয় হলো, টাকাটা কার কাছে যাবে। উদাহরণ হিসেবে জ্বালানি খাতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে বছর বছর যে ভর্তুকি দেওয়া হয়, সেটার পুরোটাই যায় উৎপাদকদের পকেটে। অথচ ভর্তুকির টাকাটা যায় জনগণের পকেট থেকে।
তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট সমাধানে তিনি প্রাকৃতিক গ্যাসের জন্য পাইপলাইন নির্মাণ করে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। এলএনজির মতো ব্যয়বহুল জ্বালানি আমদানির জন্য যে পরিমাণ টাকা আমাদের খরচ হয়, সেটা দিয়ে অবকাঠামো নির্মাণ করার মতো পরিকল্পনা নিলে সেটাই বরং জনবান্ধব হতো।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষক শামীম আলম বলেন, সরকারের করণীয় হলো কৃষিভিত্তিক অধিদপ্তরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। এর ফলে কৃষিখাতের ছোট ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কৃষকের ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা। কৃষিজ আয়, কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ, কৃষিপণ্য ও কাঁচামাল আমদানির ওপর করছাড়ের মাধ্যমে সরকার বাজেটে কৃষকদের দুর্দশা লাঘবে উদ্যোগী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভাপতির বক্তব্যে জিএসএর প্রধান সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলু বলেন, এই মাসে বাজেট পাশ হওয়ার পর আগামী এক বছর এই বাজেটের মধ্যেই বাংলাদেশের মানুষের যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করতে হবে। সরকার জনগণের স্বার্থকে কতটুকু গুরুত্ব দেয়, তা বোঝা যাবে এই বাজেট জনবান্ধব হলো কিনা সেটা দেখে। কালো টাকা সাদা করা বা ঋণখেলাপীদের আরও সুযোগ দেওয়ার বদলে বাজেটে জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
জিএসএর কেন্দ্রীয় সদস্য বেনু আক্তারের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় দলের পক্ষ থেকে বাজেট ভাবনা তুলে ধরে সূচনা বক্তব্য দেন জিএসএর গণমাধ্যম ও ডিজিটাল বিষয়ক সম্পাদক তাহসিন মাহমুদ। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জিএসএর ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জুলহাসনাইন বাবু, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বাচ্চু ভূইয়া, শ্রম খাত বিষয়ক সম্পাদক আলিফ দেওয়ান, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সম্পাদক আবদুল আলিম, অর্থ সম্পাদক অপরাজিতা চন্দ, জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সম্পাদক রেক্সোনা পারভীন সুমি, রাজনৈতিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক তরিকুল সুজন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহবায়ক মনিরুল হুদা বাবন ও সদস্য সচিব মাহবুব রতন, কেন্দ্রীয় সদস্য ইখতিয়ার উদ্দিন বিপা, লুভানা তাবাসসুম, সাইফুল্লাহ সিদ্দিক রুমন, কেন্দ্রীয় পরামর্শক পরিষদের সদস্য গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব) মো. খালিদ হোসাইনসহ ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন শাখার নেতাকর্মীবৃন্দ।
স্টাফ রিপোির্টার: বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির তীব্র প্রতিবাদ এবং কার্যকর, বাস্তবায়নযোগ্য ও সংস্কারমুখী জাতীয় বাজেটের দাবিতে আজ বিজয়নগরস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি ...
বিশেষ প্রতিনিধি: নোয়াখালী সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বড় ধরনের মিছিল করেছে। মিছিলকারীদের ব্যাপক উপস্থিতির মুখে ঘটনাস্থলে থাকা সুধারাম থানা পুলিশের সদস্যরা সরে যেত ...
চট্টগ্রাম অফিস: বর্তমান সরকার সংবাদ প্রকাশে কোনো ধরনের বাধা বা হস্তক্ষেপে বিশ্বাস করে না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, অতীতের মতো গণমাধ্যমের ওপর চাপ সৃষ্টি, ...
স্টাফ রিপোর্টার: বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে গণতন্ত্রী পার্টি। দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ডাক্তার শাহাদাত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী কামরুল আহসান খান পারভেজ শুক ...
সব মন্তব্য
No Comments